নিউজ ডেস্ক:
ঝিনাইদহে করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিরা হলেন- ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর সিটি কলেজপাড়ার রাশেদুর রহমানের স্ত্রী সাহিদা রহমান (৬৮), কালীগঞ্জ শহরের থানাপাড়ার নুর সোবাহানের ছেলে সার ব্যবসায়ী খালিদ খান স্বপন ও একই উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র মল্লিক। নারায়ণ চন্দ্র মল্লিকের বড় ভাই বিমল মল্লিক করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত রোববার মৃত্যুবরণ করেন। এ নিয়ে ঝিনাইদহে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৮ জন। এদিকে, ঝিনাইদহের আনাচে-কানাচে করোনাভাইরাস ভয়ঙ্কর দানবরুপে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলায় সর্বোচ্চ ৬৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৪৬ জন। শহর এবং গ্রামের মানুষও সমানভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন এই ভাইরাসে।
ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ও করোনা সেলের মুখপাত্র ডা. প্রসেনজিৎ বিশ্বাস পার্থ জানান, বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া ল্যাব থেকে ঝিনাইদহে ১৫৩টি নমুনার রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে ৬৪টি পজিটিভ। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৯ জন, কালীগঞ্জ উপজেলায় ৮ জন, শৈলকুপা উপজেলায় ৪ জন, কোটচাঁদপুর উপজেলায় ২ জন এবং হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ১ জন রয়েছে। তিনি বলেন, করোনায় মারা গেছেন সাহিদা খাতুন। গত ১৭ জুন কালীগঞ্জের সার ব্যাসায়ী খালিদ স্বপনের করোনা পজিটিভ আসায় তিনি ঢাকার সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে বৃহস্পতিবার মারা গেছেন। তবে ১৪তম দিনে খালিদের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে বলে তাঁর ভাতিজা বনি গণমাধ্যমকে জানান। এদিকে, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নারায়ণ চন্দ্র মল্লিক নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বড় ভাই বিমল মল্লিক করোনায় মারা যাওয়ার ৩ দিন পর ছোট ভাই করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেন। চিকিৎসকদের আশঙ্কা নারায়ণ চন্দ্র মল্লিকের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসতে পারে।
এদিকে, ঝিনাইদহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আব্দুল হামিদ খান জানান, তাঁরা সকালে আরাপপুর সিটি কলেজপাড়ার রাশেদুর রহমানের স্ত্রী সাহিদা রহমানের মরদেহ দাফন করেছেন। সকালে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের অনুমতিক্রমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত লাশ দাফন কমিটি ঝিনাইদহ পৌর গোরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। এ নিয়ে করোনায় ও উপসর্গ নিয়ে ৩২ জন মারা গেলেও তাঁরা এ পর্যন্ত ৩০টি লাশ দাফন করল।




















































