ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ দিনে গাইবান্ধার ৫ টি সংসদীয় আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়। দুইদিনব্যাপী যাচাই-বাছাই শেষে ২৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে রির্টানিং অফিসার ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা ।
নির্বাচন অফিস সূত্র আরো জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধার ৫টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে শুক্রবার প্রথম দিনের যাচাই-বাছাইয়ে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ৫ জন এবং গাইবান্ধা-২ (গাইবান্ধা সদর) আসনে ৩ জনসহ মোট ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। শনিবার দ্বিতীয় দিনের শেষ যাচাই-বাছাইয়ে গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনে ৩ জন, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ১ জন এবং গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে ৪ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে। দ্বিতীয় দিনে জেলার ৩, ৪ ও ৫ আসনের মোট ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনে জনতার দলের প্রার্থী মঞ্জুরুল হক, স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান ও এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি। এছাড়া বৈধ ঘোষণা করা ৭ জন প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু, জাতীয় পার্টির মইনুর রাব্বি চৌধুরী, গণ অধিকার পরিষদের সুরুজ মিয়া, সিপিবির আব্দুল্লাহ আদিল নান্নু, ইনসানিয়াত বিপ্লবী বাংলাদেশের মোছাদ্দিকুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের এটিএম আওলাদ হোসাইন।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ আকন্দের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, জামায়াতের ডা. আব্দুর রহিম সরকার, জাতীয় পার্টির কাজী মো. মশিউর রহমান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আতিয়ারুল রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন।
গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী শ্রী নিরমল, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সামিউল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী সুজাউদ্দৌলা সাজু ও হাসান মেহেদী বিদ্যুৎসহ ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আসনটিতে বৈধ ৭ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির আলহাজ্ব ফারুক আলম সরকার,জাতীয় পার্টির ব্যরিস্টার শামিম হায়দার পাটোয়ারী, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল ওয়ারেছ আলী,ইসলামী আন্দোলনের আজিজুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক মার্কসবাদী দলের রাহেলা খাতুন,স্বতন্ত্র আলহাজ্ব নাহিদুজ্জামান নিশাদ এবং এ্যাড. এ এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মনোনয়নপত্রে ত্রুটি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অসঙ্গতির কারণেই এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের জন্য আপিলের সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং সে অনুযায়ী নির্বাচনের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
এরআগে যাচাই বাছাইয়ের প্রথম দিন গাইবান্ধা ১ ও ২ আসনের মনোনয়ন যাচাই বাছাই করা হয়। আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) বিএনপির অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল হক জিয়া, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী,এলডিপির শরিফুল ইসলাম, বাসদের পরমানন্দ দাস,আমজনতার কওছর আজম হান্নু। এ আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে থাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাজেদুর রহমান, সমর্থনকারী ভোটার সঠিক না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. সালমা আক্তার, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোস্তফা মহসিন, দলের মনোনয়ন সঠিক না হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী রমজান আলী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মাহফুজুল হক সরদার।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আনিসুজ্জামান খান বাবু, জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ সরকার, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল করিম, বাসদের আহসানুল হক,জনতার দলের শাহেদুর রহমান। এ আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন দলের মনোনয়নপত্র সঠিক না হওয়ায় বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মিহির কুমার ঘোষ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল মাজেদ, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় খেলাফত মজলিসের প্রার্থী একেএম গোলাম আযম।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৮২ হাজার ৪০১ জন, নারী ভোটার ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩৬ জন। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৬৭৫টি এবং ভোটকক্ষ রয়েছে ৪ হাজার ১০১টি।










































