সোমবার | ১৬ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo বিভাগীয় পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিধান Logo চাঁদপুরে মানবদূত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে পথচারীদের মাঝে ইফতার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল Logo জনপ্রিয় ব্র্যান্ড কাচ্চি ডাইন চাঁদপুর শাখায় ভোক্তা অভিযান, ব্যাখ্যা দিল কর্তৃপক্ষ Logo চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত Logo আল্লাহ প্রদত্ত ইলম মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি Logo পলাশবাড়ীতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন  Logo চাঁদপুরে ভোক্তা অধিকারের অভিযানে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ….শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি Logo কয়রা সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বিএনপি নেতা এম এ হাসান Logo বই—একটি আত্মার আয়না, একটি সভ্যতার হৃদস্পন্দন, একটি জাতির ভবিষ্যতের স্থপতি — তৌফিক সুলতান, জ্ঞানের জগৎ গ্রন্থের লেখক

নিষেধাজ্ঞা শেষ, ২২ দিন পর মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরা শুরু

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১০:২৯:২১ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ৩ নভেম্বর ২০২৪
  • ৭৮০ বার পড়া হয়েছে

আজ মধ্যরাত থেকে দেশের জেলেরা আবারও নৌকা ও জাল নিয়ে মেঘনা, পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীতে মাছ শিকারে নামবেন। মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে গত ২২ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল, যা আজ শেষ হয়েছে। চাঁদপুরসহ দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। ফলে প্রায় ৫০ হাজার জেলে এই সময়ে কর্মহীন ছিলেন।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে সরকারি তালিকাভুক্ত ৪৪ হাজার জেলের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এই চাল যথেষ্ট না হওয়ায় অন্যান্য খাদ্য, পরিবারের খরচ ও নৌকা মেরামত খরচ ধারদেনা করেই মেটাতে হয়েছে বলে জানান স্থানীয় জেলেরা।

শনিবার (২ নভেম্বর) চাঁদপুর সদরের মেঘনার পাড়ে দেখা যায়, জেলেরা নতুন করে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রনাগোয়াল এলাকার জেলে নজরুল ইসলাম জানান, সরকারি সহায়তা হিসেবে কিছু চাল পেলেও পরিবারের অন্যান্য খরচ ধার করতে হয়েছে।

বহরিয়ার জেলে দেলোয়ার গাজী জানান, নৌকা ও জাল মেরামতের খরচ জোগাতে সমিতি থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার করেছেন, যা মাছ ধরার মাধ্যমে আগামী এক মাসের মধ্যে সুদাসলে পরিশোধ করতে হবে।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কঠোর অবস্থানে ছিল নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড। চাঁদপুরে কোস্ট গার্ড কমান্ডার লে. ফজলুল হক জানান, পদ্মা ও মেঘনায় কড়াকড়ি টহল দিয়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে ৬০০ জেলেকে আটক করা হয়।

ইলিশ গবেষক ড. মোহাম্মদ আনিছুর রহমান জানান, অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহের ভরা পূর্ণিমা ও শেষের অমাবস্যায় রেকর্ড সংখ্যক মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে। সাগরের নোনা পানি ছেড়ে ইলিশেরা নদীর মিঠা পানিতে ছুটে এসেছে। তবে তাদের পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে কি না তা জাটকার পরবর্তী বিচরণে বোঝা যাবে, যা নিয়ে গবেষণা চলছে।

অপরদিকে, ভোলার চরফ্যাশনের বিভিন্ন নদী এলাকার জেলেরা জানান, এ বছর মা ইলিশ সংরক্ষণের অভিযান আরও কঠোরভাবে পরিচালনা করা হয়। চরফ্যাশনের মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর জেলেরা এখন নিষেধাজ্ঞা শেষে পুনরায় মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১২ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিভাগীয় পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিধান

নিষেধাজ্ঞা শেষ, ২২ দিন পর মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরা শুরু

আপডেট সময় : ১০:২৯:২১ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ৩ নভেম্বর ২০২৪

আজ মধ্যরাত থেকে দেশের জেলেরা আবারও নৌকা ও জাল নিয়ে মেঘনা, পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীতে মাছ শিকারে নামবেন। মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে গত ২২ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল, যা আজ শেষ হয়েছে। চাঁদপুরসহ দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। ফলে প্রায় ৫০ হাজার জেলে এই সময়ে কর্মহীন ছিলেন।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে সরকারি তালিকাভুক্ত ৪৪ হাজার জেলের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এই চাল যথেষ্ট না হওয়ায় অন্যান্য খাদ্য, পরিবারের খরচ ও নৌকা মেরামত খরচ ধারদেনা করেই মেটাতে হয়েছে বলে জানান স্থানীয় জেলেরা।

শনিবার (২ নভেম্বর) চাঁদপুর সদরের মেঘনার পাড়ে দেখা যায়, জেলেরা নতুন করে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রনাগোয়াল এলাকার জেলে নজরুল ইসলাম জানান, সরকারি সহায়তা হিসেবে কিছু চাল পেলেও পরিবারের অন্যান্য খরচ ধার করতে হয়েছে।

বহরিয়ার জেলে দেলোয়ার গাজী জানান, নৌকা ও জাল মেরামতের খরচ জোগাতে সমিতি থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার করেছেন, যা মাছ ধরার মাধ্যমে আগামী এক মাসের মধ্যে সুদাসলে পরিশোধ করতে হবে।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কঠোর অবস্থানে ছিল নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড। চাঁদপুরে কোস্ট গার্ড কমান্ডার লে. ফজলুল হক জানান, পদ্মা ও মেঘনায় কড়াকড়ি টহল দিয়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে ৬০০ জেলেকে আটক করা হয়।

ইলিশ গবেষক ড. মোহাম্মদ আনিছুর রহমান জানান, অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহের ভরা পূর্ণিমা ও শেষের অমাবস্যায় রেকর্ড সংখ্যক মা ইলিশ ডিম ছেড়েছে। সাগরের নোনা পানি ছেড়ে ইলিশেরা নদীর মিঠা পানিতে ছুটে এসেছে। তবে তাদের পরিবেশ নিশ্চিত হয়েছে কি না তা জাটকার পরবর্তী বিচরণে বোঝা যাবে, যা নিয়ে গবেষণা চলছে।

অপরদিকে, ভোলার চরফ্যাশনের বিভিন্ন নদী এলাকার জেলেরা জানান, এ বছর মা ইলিশ সংরক্ষণের অভিযান আরও কঠোরভাবে পরিচালনা করা হয়। চরফ্যাশনের মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর জেলেরা এখন নিষেধাজ্ঞা শেষে পুনরায় মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১২ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার।