শনিবার | ২১ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo যেখানে হৃদয় মেলে হৃদয়ে: ঈদের আলোয় সাম্যের কাব্য Logo নীলকন্ঠ ডট কম সম্পাদকের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা Logo চাঁদপুরে হুইল চেয়ার, ট্রাইসাইকেল ও হিয়ারিং এইড বিতরণ Logo চাঁদপুরে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ Logo বড়স্টেশন প্রধানীয়া বাড়ির মানবিক উদ্যোগ: ৫ শতাধিক অসহায়দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ Logo ইসলামী আন্দোলন চাঁদপুর জেলা সভাপতির ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা Logo ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়ার আগে বাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান তানিয়া ইশতিয়াকের Logo শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে যমুনা রোড স্পোর্টিং ক্লাবের ঈদ উপহার বিতরণ Logo ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন মানবদূত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ

নান্দাইলে ফিশারীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ॥

  • Nil Kontho
  • আপডেট সময় : ১১:২৬:৫৬ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • ৭৫০ বার পড়া হয়েছে

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের দক্ষিন কয়রাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে ফিশারীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক মহল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। ৫০ শতক ভূমি নিয়ে বিদ্যালয়টি নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে ২৯ শতাংশ বাদে বাকী ২১শতাংশ বিলীন হয়ে গেছে ফিশারীর গর্ভে। বিদ্যালয়ের কচি কচি শিশুদের মনে ভয় বিরাজ করছে। কখন জানি পুকুরের ডুবে যায় তাদের বিদ্যালয় ভবন। সে কারণে বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের উপস্থিতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের শৌচারগারটি খুবই পুরাতন হওয়ায় তা ব্যবহার উপযোগী হয়ে পড়েছে। ১৯৭৭ সনে স্থাপিত হলেও বিদ্যালয়টি ২০১৪ সনে সরকারীকরন হয়েছে। বিদ্যালয়ের ২টি পাকা ভবন ও একটি পুরাতন শৌচাগার রয়েছে। তবে নেই কোন বাউন্ডারী দেওয়াল ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। প্রায় ২শত কোমল মতি ছাত্র/ছাত্রী অত্র বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। সরজমিন দেখা যায়, বিদ্যালয়টি পিছনে একটি পুকুরের পাড় ভেঙ্গে এখন বিদ্যালয়ের দেওয়ালে এসে ঠেকেছে। প্রতিদিন উক্ত পুকুরে মানুষ, গরু-ছাগল গোসল ও বিভিন্ন কারনে পানির ঢেউয়ে ঢেউয়ে পুকুরের পাড় ধসে বিলীন হয়েছে। ধীরে ধীরে বিদ্যালয় ভবনের মাটিও ধসে গিয়ে পানির মধ্যে দিয়ে বিদ্যালয় ভবনের পিলারগুলো দেখা যায় স্বচ্ছ। মূল ভবনের পশ্চিম অংশের এক তৃতীয়াংশ পানির উপর দন্ডায়মান। যে কোন সময় ভূমি কম্পের মাধ্যমে ফিশারীর গর্ভে ধসে পড়তে পারে বিদ্যালয়টি। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে মুশুলী- তাড়াইল সড়কে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। কোন বাউন্ডারী দেওয়াল না থাকায় দূর্ঘটনার আশংকা প্রতিনিয়ত। বিদ্যালয়ের জমিদাতার নাতি মো. গাফফার, ছাত্তার ও ইদ্রিছ মিয়া জানান, “আমাদের দাদা বিদ্যালয়ের জন্য জমি দিয়ে গেছেন। স্কুলটিকে রক্ষা করা আমাদেরও দায়িত্ব থাকলেও পুকুর ভরাট করে দেওয়ার মতো ক্ষমতা নেই। সরকারী ভাবে যদি আপনারা কিছু করতে পারেন।” সহকারী শিক্ষিকা রোমনা ও তাসলিমা বলেন,“বিদ্যালয়টি বিদ্যুৎ সংযোগ বিহীন হওয়ায় গ্রীষ্মকালীন গরমে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের কঠোর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যুতের জন্য সরকারী অর্থায়নে কম্পিউটার/লেপটপ থাকা সত্বেও তা ব্যবহার হচ্ছে না।” সদ্য যোগদানকারী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবিএম আনোয়ারুল হক জানান, ‘বিদ্যালয়ে কোন টিউবওয়েল নেই। তবে কিছুদিন আগে একটি সাবমার্সিবেল নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তুু বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ছাত্র/ছাত্রী সহ আমরা শিক্ষকবৃন্দ বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে পারছিনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাসিক প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের সার্বিক তথ্য সন্নিবেশিত হলেও অদ্যবদি পর্যন্ত কোন যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।’ তবে যোগদানের পরই বিদ্যালয় এর অবকাঠামোগত বিষয় নিয়ে চিন্তিত। ক্লাস্টারের নিয়োজিত সহকারী শিক্ষা অফিসারকে বিষয়াদি অবহিত করেছেন। নান্দাইল উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আফরোজা বেগম জানান, “অত্র বিদ্যালয়ের সার্বিক অবস্থার প্রতিবেদন আমার কাছে আছে। শীঘ্রই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।” অত্র বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন করেছে এতে করে এমন নাজুক অবস্থামান কোন বিদ্যালয় থাকার কথা নয়।’ অত্র বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক কোমল মতি শিক্ষার্থীদের মৃত্যু শঙ্কা থেকে রক্ষা করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন অভিভাবক মহল।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নান্দাইলে ফিশারীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ॥

আপডেট সময় : ১১:২৬:৫৬ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের দক্ষিন কয়রাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে ফিশারীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক মহল ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বিরাজ করছে। ৫০ শতক ভূমি নিয়ে বিদ্যালয়টি নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে ২৯ শতাংশ বাদে বাকী ২১শতাংশ বিলীন হয়ে গেছে ফিশারীর গর্ভে। বিদ্যালয়ের কচি কচি শিশুদের মনে ভয় বিরাজ করছে। কখন জানি পুকুরের ডুবে যায় তাদের বিদ্যালয় ভবন। সে কারণে বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের উপস্থিতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের শৌচারগারটি খুবই পুরাতন হওয়ায় তা ব্যবহার উপযোগী হয়ে পড়েছে। ১৯৭৭ সনে স্থাপিত হলেও বিদ্যালয়টি ২০১৪ সনে সরকারীকরন হয়েছে। বিদ্যালয়ের ২টি পাকা ভবন ও একটি পুরাতন শৌচাগার রয়েছে। তবে নেই কোন বাউন্ডারী দেওয়াল ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। প্রায় ২শত কোমল মতি ছাত্র/ছাত্রী অত্র বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। সরজমিন দেখা যায়, বিদ্যালয়টি পিছনে একটি পুকুরের পাড় ভেঙ্গে এখন বিদ্যালয়ের দেওয়ালে এসে ঠেকেছে। প্রতিদিন উক্ত পুকুরে মানুষ, গরু-ছাগল গোসল ও বিভিন্ন কারনে পানির ঢেউয়ে ঢেউয়ে পুকুরের পাড় ধসে বিলীন হয়েছে। ধীরে ধীরে বিদ্যালয় ভবনের মাটিও ধসে গিয়ে পানির মধ্যে দিয়ে বিদ্যালয় ভবনের পিলারগুলো দেখা যায় স্বচ্ছ। মূল ভবনের পশ্চিম অংশের এক তৃতীয়াংশ পানির উপর দন্ডায়মান। যে কোন সময় ভূমি কম্পের মাধ্যমে ফিশারীর গর্ভে ধসে পড়তে পারে বিদ্যালয়টি। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে মুশুলী- তাড়াইল সড়কে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। কোন বাউন্ডারী দেওয়াল না থাকায় দূর্ঘটনার আশংকা প্রতিনিয়ত। বিদ্যালয়ের জমিদাতার নাতি মো. গাফফার, ছাত্তার ও ইদ্রিছ মিয়া জানান, “আমাদের দাদা বিদ্যালয়ের জন্য জমি দিয়ে গেছেন। স্কুলটিকে রক্ষা করা আমাদেরও দায়িত্ব থাকলেও পুকুর ভরাট করে দেওয়ার মতো ক্ষমতা নেই। সরকারী ভাবে যদি আপনারা কিছু করতে পারেন।” সহকারী শিক্ষিকা রোমনা ও তাসলিমা বলেন,“বিদ্যালয়টি বিদ্যুৎ সংযোগ বিহীন হওয়ায় গ্রীষ্মকালীন গরমে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের কঠোর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যুতের জন্য সরকারী অর্থায়নে কম্পিউটার/লেপটপ থাকা সত্বেও তা ব্যবহার হচ্ছে না।” সদ্য যোগদানকারী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবিএম আনোয়ারুল হক জানান, ‘বিদ্যালয়ে কোন টিউবওয়েল নেই। তবে কিছুদিন আগে একটি সাবমার্সিবেল নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তুু বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ছাত্র/ছাত্রী সহ আমরা শিক্ষকবৃন্দ বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে পারছিনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাসিক প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের সার্বিক তথ্য সন্নিবেশিত হলেও অদ্যবদি পর্যন্ত কোন যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।’ তবে যোগদানের পরই বিদ্যালয় এর অবকাঠামোগত বিষয় নিয়ে চিন্তিত। ক্লাস্টারের নিয়োজিত সহকারী শিক্ষা অফিসারকে বিষয়াদি অবহিত করেছেন। নান্দাইল উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আফরোজা বেগম জানান, “অত্র বিদ্যালয়ের সার্বিক অবস্থার প্রতিবেদন আমার কাছে আছে। শীঘ্রই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।” অত্র বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন করেছে এতে করে এমন নাজুক অবস্থামান কোন বিদ্যালয় থাকার কথা নয়।’ অত্র বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক কোমল মতি শিক্ষার্থীদের মৃত্যু শঙ্কা থেকে রক্ষা করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন অভিভাবক মহল।