বৃহস্পতিবার | ২৬ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo পলাশবাড়ীতে থানায় ঢুকে পুলিশের উপর হামলা! ওসিসহ ৮ পুলিশ সদস্য আহত।। থানায় মামলা- আটক -১ Logo বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ডে সদস্য হলেন খুবির অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত Logo কয়রার ঘুগরাকাটি বাজারে জুতা ব্যবসায়ী ছিনতাইয়ের শিকার, আহত Logo পলাশবাড়ীতে গণহত্যা দিবস পালিত Logo পলাশবাড়ীতে উপজেলা পরিষদে সংরক্ষিত  লক্ষাধিক টাকার  মুল্যবান  কাঠ চুরি Logo কচুয়ায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়রানি, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন Logo কয়রায় অন্ডকোষ চেপে স্বামীকে হত্যা-স্ত্রী আটক Logo শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩০০ কার্টন সিগারেট জব্দ Logo ঈদে পর্যটকদের ঢল: জমজমাট চাঁদপুর, মুখর ‘মিনি কক্সবাজার Logo চাঁদপুর জেলা কারাগারে ঈদুল ফিতর উদযাপন: বন্দিদের জন্য দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন

সিরাজগঞ্জে প্রধান শিক্ষক ও সহযোগীদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:১২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৪
  • ৭৬৩ বার পড়া হয়েছে

নজরুল ইসলাম, জেলা প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা বহুলী ইউনিয়নের আলমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুর্নীতি মুক্ত করতে প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান ও সহযোগী অন্যান্য কর্মচারীদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিক্ষুব্ধকারী শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন চলাকালে পাশ্ববর্তী ইসলামপুর গ্রামের ছেলেরা বিদ্যালয়ে ঢুকে আন্দোলনকারীদের উপর উপর্যোপুরি আঘাত করতে থাকে। এসময় দশম শ্রেণির তিনজন ছাত্র গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে খবর পেয়ে আলমপুর বাজার এলাকার স্থানীয়রা জোড় হয়ে ধাওয়া দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এসময় সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

খবর পেয়ে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, ছাত্র ছাত্রীদের বই বিক্রী, বেতনের টাকা আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিস্তর অভিযোগে এর আগে ১৬ দফা আদায়ের কর্মসূচি দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। পরে ১৫টি দাবী তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে ক্লাসে ফিরিয়ে নেন শিক্ষার্থীদের। পরে ওই দাবীগুলো জলে ভেসে যাওয়ায় বেস কয়েকদিন ধরে ফুলে ফেঁপে উঠছিল শিক্ষার্থীরা।
এনিয়ে বুধবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০ টার দিকে বিদ্যালয়ের অনিয়ম ও দূর্ণীতি রোধে প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষকসহ জড়িতদের পদত্যাগের  একদফা দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করলে পাশ্ববর্তী গ্রামের ছেলেরা এসে ছত্রভঙ্গ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়।

দশম শ্রেণির ছাত্র নাহিদ হাসান বলেন, এর আগে আমরা ১৬ দফা দাবী করেছিলাম। তখন ১৫টি দাবী মেনে নিলেও পরে আর রোধ করেননি। অনিয়ম রোধ না করে পাল্টা আন্দোলনকারীদের নাম তালিকাভুক্ত করে শাস্তি দেবার নামে নানা ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। দুর্নীতি মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আজ সকালে সবাই একত্রিত হয়ে আন্দোলন চলাকালে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, সহকারি প্রধান রফিকুল ইসলাম, শিক্ষক আফরোজা,  মনিরা পারভীন মুন্নি, দপ্তরী শিহাব পরিকল্পনা করে পাশ্ববর্তী ইসলামপুর গ্রামের ছেলেদের ভাড়া করে এনে আমাদের উপর হামলা চালায়। এসময় দশম শে্ণির রিফাত, হাসান, আসিফসহ প্রায় ১৪০-১৫০ জন ছাত্র ছাত্রী আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়া হচ্ছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী হিমা খাতুন বলেন, অনিয়মতান্ত্রিক বেতন বৃদ্ধি, শিক্ষকদের ফাঁকিবাজি, অশ্লীল আচরন, যৌন নির্যাতনের শিকার, বাহিরে বই বিক্রী, ইভটিজিংসহ নানা অনিয়ম করে আসছে প্রধান শিক্ষকসহ বেশ কিছু কর্মকর্তা কর্মচারী। এনিয়ে আমরা এর আগে তাদের বললেও কোন কর্নপাত করেন না। তারা বলে নেতা। তাদের অনেক ক্ষমতা। নানারকম আন্দোলনকারীদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। এদের পদত্যাগ না করলে আমাদের উপর আজকে যে আঘাত করেছে এর শাস্তি চাই।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই প্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়মে জর্জরিত। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়। দিনে দুপুরে চেয়ার টেবিল পাঠ্যবই বাজারে বিক্রী করে। এনিয়ে অনেকদিন আগে বেসরকারি টিভি চ্যানেল ৭১ টিভিতে সংবাদ প্রকাশ হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করায় ছেলেমেয়েদের যেভাবে মারলো আমরা হতবাক হয়ে গেছি। ছাত্রছাত্রীদের শত্রু কি শিক্ষকগন হতে পারে? এই আঘাতের বিচার পাওয়ার দাবিতে স্থানীয়রাও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এনিয়ে দুই এলাকা মানুষের মাঝেে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান মিজানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পলাশবাড়ীতে থানায় ঢুকে পুলিশের উপর হামলা! ওসিসহ ৮ পুলিশ সদস্য আহত।। থানায় মামলা- আটক -১

সিরাজগঞ্জে প্রধান শিক্ষক ও সহযোগীদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:১২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৪

নজরুল ইসলাম, জেলা প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা বহুলী ইউনিয়নের আলমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুর্নীতি মুক্ত করতে প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান ও সহযোগী অন্যান্য কর্মচারীদের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিক্ষুব্ধকারী শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন চলাকালে পাশ্ববর্তী ইসলামপুর গ্রামের ছেলেরা বিদ্যালয়ে ঢুকে আন্দোলনকারীদের উপর উপর্যোপুরি আঘাত করতে থাকে। এসময় দশম শ্রেণির তিনজন ছাত্র গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ এম. মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে খবর পেয়ে আলমপুর বাজার এলাকার স্থানীয়রা জোড় হয়ে ধাওয়া দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এসময় সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

খবর পেয়ে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, ছাত্র ছাত্রীদের বই বিক্রী, বেতনের টাকা আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিস্তর অভিযোগে এর আগে ১৬ দফা আদায়ের কর্মসূচি দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। পরে ১৫টি দাবী তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে ক্লাসে ফিরিয়ে নেন শিক্ষার্থীদের। পরে ওই দাবীগুলো জলে ভেসে যাওয়ায় বেস কয়েকদিন ধরে ফুলে ফেঁপে উঠছিল শিক্ষার্থীরা।
এনিয়ে বুধবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০ টার দিকে বিদ্যালয়ের অনিয়ম ও দূর্ণীতি রোধে প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষকসহ জড়িতদের পদত্যাগের  একদফা দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করলে পাশ্ববর্তী গ্রামের ছেলেরা এসে ছত্রভঙ্গ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়।

দশম শ্রেণির ছাত্র নাহিদ হাসান বলেন, এর আগে আমরা ১৬ দফা দাবী করেছিলাম। তখন ১৫টি দাবী মেনে নিলেও পরে আর রোধ করেননি। অনিয়ম রোধ না করে পাল্টা আন্দোলনকারীদের নাম তালিকাভুক্ত করে শাস্তি দেবার নামে নানা ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। দুর্নীতি মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আজ সকালে সবাই একত্রিত হয়ে আন্দোলন চলাকালে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, সহকারি প্রধান রফিকুল ইসলাম, শিক্ষক আফরোজা,  মনিরা পারভীন মুন্নি, দপ্তরী শিহাব পরিকল্পনা করে পাশ্ববর্তী ইসলামপুর গ্রামের ছেলেদের ভাড়া করে এনে আমাদের উপর হামলা চালায়। এসময় দশম শে্ণির রিফাত, হাসান, আসিফসহ প্রায় ১৪০-১৫০ জন ছাত্র ছাত্রী আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়া হচ্ছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী হিমা খাতুন বলেন, অনিয়মতান্ত্রিক বেতন বৃদ্ধি, শিক্ষকদের ফাঁকিবাজি, অশ্লীল আচরন, যৌন নির্যাতনের শিকার, বাহিরে বই বিক্রী, ইভটিজিংসহ নানা অনিয়ম করে আসছে প্রধান শিক্ষকসহ বেশ কিছু কর্মকর্তা কর্মচারী। এনিয়ে আমরা এর আগে তাদের বললেও কোন কর্নপাত করেন না। তারা বলে নেতা। তাদের অনেক ক্ষমতা। নানারকম আন্দোলনকারীদের ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। এদের পদত্যাগ না করলে আমাদের উপর আজকে যে আঘাত করেছে এর শাস্তি চাই।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই প্রতিষ্ঠানে নানা অনিয়মে জর্জরিত। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়। দিনে দুপুরে চেয়ার টেবিল পাঠ্যবই বাজারে বিক্রী করে। এনিয়ে অনেকদিন আগে বেসরকারি টিভি চ্যানেল ৭১ টিভিতে সংবাদ প্রকাশ হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করায় ছেলেমেয়েদের যেভাবে মারলো আমরা হতবাক হয়ে গেছি। ছাত্রছাত্রীদের শত্রু কি শিক্ষকগন হতে পারে? এই আঘাতের বিচার পাওয়ার দাবিতে স্থানীয়রাও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এনিয়ে দুই এলাকা মানুষের মাঝেে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান মিজানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।