চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বুধুন্ডা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়রানি, মিথ্যা মামলা, হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী একটি পরিবার। মঙ্গলবার সকালে বুধুন্ডা গ্রামের মুন্সি বাড়িতে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বায়েজিদ মুন্সি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ ছন্দু মুন্সি গং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অসহায় মানুষের জমি দখলের সঙ্গে জড়িত। বুধুন্ডা মৌজার সাবেক খতিয়ান নং ২৭৪ ও ৩২৪ (বর্তমান খতিয়ান নং ২০১৭) এবং ২৯৭৬ খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত মোট প্রায় ৭১ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। এসব জমি মৃত সিরাজুল ইসলাম পাটোয়ারির ওয়ারিশরা মালিক হলেও প্রতিপক্ষের লোকেরা ভোগদখলে আছে! সম্পত্তি প্রতিপক্ষের দখলে থাকলেও বিভিন্ন সময় আমাদের বিরুদ্ধে মামলা ও হামলার মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, গত ৭ মার্চ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রায়হান মুন্সি ও ইকরাম মুন্সির নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে বায়েজিদ মুন্সি ও তুহিন মুন্সি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করে আরও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বায়েজিদ মুন্সি বলেন, “আমরা আমাদের সম্পত্তি ফেরত চাই এবং নিরাপদে বসবাস করতে চাই। বারবার হয়রানি ও হামলার কারণে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এসময় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারাও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। বক্তব্য রাখেন আতাউর রহমান মুন্সি, মানিক বকাউলসহ আরও অনেকে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মনির পাটোয়ারী, আমির হোসেন, শরবত উল্যাহ, আবু তাহের, আতাউর মুন্সি, আলী আরশাদ, ইউপি সদস্য হারুনুর রশিদ, সাহেব আলী, জাফর আলী, রমিজ মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান তারা।
সবশেষে, তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপ করে জমি বিরোধ নিষ্পত্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।


















































