শুক্রবার | ২৭ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo পলাশবাড়ীতে থানায় ঢুকে পুলিশের উপর হামলা! ওসিসহ ৮ পুলিশ সদস্য আহত।। থানায় মামলা- আটক -১ Logo বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ডে সদস্য হলেন খুবির অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত Logo কয়রার ঘুগরাকাটি বাজারে জুতা ব্যবসায়ী ছিনতাইয়ের শিকার, আহত Logo পলাশবাড়ীতে গণহত্যা দিবস পালিত Logo পলাশবাড়ীতে উপজেলা পরিষদে সংরক্ষিত  লক্ষাধিক টাকার  মুল্যবান  কাঠ চুরি Logo কচুয়ায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়রানি, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন Logo কয়রায় অন্ডকোষ চেপে স্বামীকে হত্যা-স্ত্রী আটক Logo শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩০০ কার্টন সিগারেট জব্দ Logo ঈদে পর্যটকদের ঢল: জমজমাট চাঁদপুর, মুখর ‘মিনি কক্সবাজার Logo চাঁদপুর জেলা কারাগারে ঈদুল ফিতর উদযাপন: বন্দিদের জন্য দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন

গৃহহীনদের অধিকার, ঘর দিচ্ছে সরকার

  • Nil Kontho
  • আপডেট সময় : ১২:২০:১৯ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৮
  • ৭৫২ বার পড়া হয়েছে
মু.ওয়াছীঊদ্দিন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প। প্রকল্পটির অধীনে জমি আছে ঘর নেই এমন পরিবার গুলোকে সরকারি খরচে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত ১শ’ পরিবারকে সরকারি খরচে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। শিঘ্রই তালিকাভুক্ত অন্যান্য গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাজাহান আলি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা সদরের চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত ৫৭৩ টি গৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। উপজেলার উত্তর হামছাদী, দক্ষিণ হামছাদী, চররুহিতা, টুমচর, উত্তর জয়পুর, হাজিরপাড়া ও শাকচর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ একযোগেই চলছে। ইতোমধ্যে এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত শতাধিক পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা। আরসিসি পিলার দিয়ে নির্মিত টিন সেডের ঘর। ঘরগুলোর মেঝে পাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে খোলা বারান্দা ও স্যানিটারী ল্যাট্রিনের সুব্যবস্থা। ঘর নির্মাণ কাজে দক্ষ গৃহহীন পরিবারের এমন সদস্যরাও কাজের সুযোগ পাচ্ছেন এখানে।
উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের কাফিলাতলী গ্রামের উপকারভোগী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ছোট্ট একটি জায়গা ছিল আমার। কিন্তু পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোভাবে থাকার মতো ঘর ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে আমাকে একটি সুন্দর ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমি এবং আমার পরিবার খুবই আনন্দিত। শ্যামগঞ্জ গ্রামের উপকারভোগী সিরাজ উল্যাহও একইভাবে আনন্দ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।
জানা গেছে, বাজারে গিয়ে ঘর নির্মাণের জন্য উন্নত মানের ঢেউটিন, রড, সিমেন্ট ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয় করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাজাহান আলি নিজেই। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হচ্ছে ঘরের আরসিসি পিলার, ল্যাট্রিনের স্লাব ও রিং। তার নির্দেশনা অনুযায়ী ঘরগুলো নির্মাণ করছে শ্রমিকরা। সময় করে প্রায়ই তিনি নির্মাণ কাজ পর্যবেক্ষণে ছুটে যান।
উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমরান হোসেন নান্নু বলেন, আমার ইউনিয়নের ৫৮টি গৃহহীন পরিবারের জন্য সরকারি খরচে ঘর নির্মাণ হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ঘরের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। ইউএনও স্যারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত বরাদ্দে উন্নত মানের সরঞ্জাম দিয়েই ঘরগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। এ কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের গৃহহীনদের অন্য তালিকাটি শিঘ্রই অনুমোদন দেওয়ার দাবী জানান তিনি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাজাহান আলি বলেন, উপজেলার যেসব ইউনিয়নের গৃহহীনদের জন্য ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেসব ইউনিয়নে একযোগে নির্মাণ কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১শ’টি ঘরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি, অন্যান্য ঘরগুলোর কাজও যথাসময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে। গৃহহীনদের অধিকার, এসব ঘর উন্নত সরঞ্জাম দিয়ে সঠিকভাবে নির্মাণের বিষয়ে শতভাগ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। মূলত এ প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে লক্ষ্মীপুর সদরে ৫৭৩, রামগঞ্জে ৪৭৬, রায়পুরে ১৯৮, রামগতিতে ৩০২ ও কমলনগর উপজেলায় ১৬২টি গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য ১৬ কোটি ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পলাশবাড়ীতে থানায় ঢুকে পুলিশের উপর হামলা! ওসিসহ ৮ পুলিশ সদস্য আহত।। থানায় মামলা- আটক -১

গৃহহীনদের অধিকার, ঘর দিচ্ছে সরকার

আপডেট সময় : ১২:২০:১৯ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৮
মু.ওয়াছীঊদ্দিন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প। প্রকল্পটির অধীনে জমি আছে ঘর নেই এমন পরিবার গুলোকে সরকারি খরচে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অন্তত ১শ’ পরিবারকে সরকারি খরচে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। শিঘ্রই তালিকাভুক্ত অন্যান্য গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাজাহান আলি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা সদরের চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত ৫৭৩ টি গৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। উপজেলার উত্তর হামছাদী, দক্ষিণ হামছাদী, চররুহিতা, টুমচর, উত্তর জয়পুর, হাজিরপাড়া ও শাকচর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘরগুলোর নির্মাণ কাজ একযোগেই চলছে। ইতোমধ্যে এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত শতাধিক পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা। আরসিসি পিলার দিয়ে নির্মিত টিন সেডের ঘর। ঘরগুলোর মেঝে পাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে খোলা বারান্দা ও স্যানিটারী ল্যাট্রিনের সুব্যবস্থা। ঘর নির্মাণ কাজে দক্ষ গৃহহীন পরিবারের এমন সদস্যরাও কাজের সুযোগ পাচ্ছেন এখানে।
উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের কাফিলাতলী গ্রামের উপকারভোগী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ছোট্ট একটি জায়গা ছিল আমার। কিন্তু পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোভাবে থাকার মতো ঘর ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে আমাকে একটি সুন্দর ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমি এবং আমার পরিবার খুবই আনন্দিত। শ্যামগঞ্জ গ্রামের উপকারভোগী সিরাজ উল্যাহও একইভাবে আনন্দ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।
জানা গেছে, বাজারে গিয়ে ঘর নির্মাণের জন্য উন্নত মানের ঢেউটিন, রড, সিমেন্ট ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয় করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাজাহান আলি নিজেই। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হচ্ছে ঘরের আরসিসি পিলার, ল্যাট্রিনের স্লাব ও রিং। তার নির্দেশনা অনুযায়ী ঘরগুলো নির্মাণ করছে শ্রমিকরা। সময় করে প্রায়ই তিনি নির্মাণ কাজ পর্যবেক্ষণে ছুটে যান।
উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমরান হোসেন নান্নু বলেন, আমার ইউনিয়নের ৫৮টি গৃহহীন পরিবারের জন্য সরকারি খরচে ঘর নির্মাণ হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ঘরের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। ইউএনও স্যারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত বরাদ্দে উন্নত মানের সরঞ্জাম দিয়েই ঘরগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। এ কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের গৃহহীনদের অন্য তালিকাটি শিঘ্রই অনুমোদন দেওয়ার দাবী জানান তিনি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাজাহান আলি বলেন, উপজেলার যেসব ইউনিয়নের গৃহহীনদের জন্য ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেসব ইউনিয়নে একযোগে নির্মাণ কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১শ’টি ঘরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি, অন্যান্য ঘরগুলোর কাজও যথাসময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে। গৃহহীনদের অধিকার, এসব ঘর উন্নত সরঞ্জাম দিয়ে সঠিকভাবে নির্মাণের বিষয়ে শতভাগ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। মূলত এ প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে লক্ষ্মীপুর সদরে ৫৭৩, রামগঞ্জে ৪৭৬, রায়পুরে ১৯৮, রামগতিতে ৩০২ ও কমলনগর উপজেলায় ১৬২টি গৃহহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য ১৬ কোটি ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।