বৃহস্পতিবার | ২৬ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo পলাশবাড়ীতে থানায় ঢুকে পুলিশের উপর হামলা! ওসিসহ ৮ পুলিশ সদস্য আহত।। থানায় মামলা- আটক -১ Logo বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ডে সদস্য হলেন খুবির অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত Logo কয়রার ঘুগরাকাটি বাজারে জুতা ব্যবসায়ী ছিনতাইয়ের শিকার, আহত Logo পলাশবাড়ীতে গণহত্যা দিবস পালিত Logo পলাশবাড়ীতে উপজেলা পরিষদে সংরক্ষিত  লক্ষাধিক টাকার  মুল্যবান  কাঠ চুরি Logo কচুয়ায় জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়রানি, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন Logo কয়রায় অন্ডকোষ চেপে স্বামীকে হত্যা-স্ত্রী আটক Logo শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩০০ কার্টন সিগারেট জব্দ Logo ঈদে পর্যটকদের ঢল: জমজমাট চাঁদপুর, মুখর ‘মিনি কক্সবাজার Logo চাঁদপুর জেলা কারাগারে ঈদুল ফিতর উদযাপন: বন্দিদের জন্য দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন

কুষ্টিয়ায় কন্যা জন্ম দেয়ায় স্ত্রীকে তালাক, নবজাতককে বিক্রি

  • rahul raj
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:০৭ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮
  • ৭৪২ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:কুষ্টিয়ায় পর পর তিনটি কন্যাসন্তান জন্ম দেয়ার অপরাধে জেসমিনা নামে এক গৃহবধূকে তালাক দিয়েছে তার স্বামী রবিউল ইসলাম। শুধু তাই নয়, মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে মাত্র সাত দিনের কন্যাশিশুকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে শিশুটির বাবা রবিউল। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি পাইকপাড়া এলাকায়। গত ৯ নভেম্বর কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাত দিন পর ১৬ নভেম্বর শুক্রবার স্থানীয় প্রভাবশালী মাতব্বরদের সহায়তায় সালিশি বৈঠকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিবাহবিচ্ছেদ এবং একই বৈঠকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়া হয় ওই শিশুকে। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত পরিবার। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের জেসমিনা খাতুনের বিয়ে হয় একই এলাকার রবিউল ইসলামের সঙ্গে। ১৫ বছরের সংসার জীবনে তাদের কোলে জন্ম নেয় ৩ কন্যাসন্তান। সবশেষ কন্যাসন্তান ভুমিষ্ঠ হয় গত ৯ নভেম্বর। দাম্পত্য জীবনে সুখ ছিল না জেসমিনার পরিবারে। তাই মাঝেমধ্যেই তাদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকত। তাদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়ার পর এরই মধ্যে চলতি বছরের প্রথম দিকে জেসমিনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। আর এই বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেননি স্বামী রবিউল। গর্ভের সন্তানটি অবৈধ দাবি করে জেসমিনাকে তালাক দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন রবিউল। এরই মধ্যে আরেকটি কন্যাসন্তান ভুমিষ্ঠ হয়। ভুমিষ্ঠ হওয়ার সাত দিন পর ১৬ নভেম্বর স্থানীয় প্রভাবশালী মাতব্বরদের সহায়তায় সালিশি বৈঠক বসে তাদের বিচ্ছেদের বিষয়ে। ২ লাখ টাকার বিনিময়ে আলাদা করে দেয়া হয় তাদের। একই বৈঠকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়া হয় নবজাতকটিকে। ওই বৈঠকে স্থানীয় মাতব্বররা দরকষাকষি করে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ওই শিশুকে একই এলাকার ঈদগাহ পাড়ার আয়ুর আলীর কাছে বিক্রি করে দেয়। জেসমিনার পরিবারের অভিযোগ, একপ্রকার জোর করেই তাদের সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছেন রবিউল।
জেসমিনা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার ওপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার করে আসছিল রবিউল। শেষ পর্যন্ত মিথ্যে অপবাদও দেয়া হয় তাকে। জোর করে স্থানীয়দের সহায়তায় আমাকে তালাক দিয়েছে রবিউল। আমার কোল থেকে সাত দিনের মেয়েকে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পলাশবাড়ীতে থানায় ঢুকে পুলিশের উপর হামলা! ওসিসহ ৮ পুলিশ সদস্য আহত।। থানায় মামলা- আটক -১

কুষ্টিয়ায় কন্যা জন্ম দেয়ায় স্ত্রীকে তালাক, নবজাতককে বিক্রি

আপডেট সময় : ০৯:৩২:০৭ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮

নিউজ ডেস্ক:কুষ্টিয়ায় পর পর তিনটি কন্যাসন্তান জন্ম দেয়ার অপরাধে জেসমিনা নামে এক গৃহবধূকে তালাক দিয়েছে তার স্বামী রবিউল ইসলাম। শুধু তাই নয়, মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে মাত্র সাত দিনের কন্যাশিশুকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে শিশুটির বাবা রবিউল। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি পাইকপাড়া এলাকায়। গত ৯ নভেম্বর কন্যাসন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাত দিন পর ১৬ নভেম্বর শুক্রবার স্থানীয় প্রভাবশালী মাতব্বরদের সহায়তায় সালিশি বৈঠকে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিবাহবিচ্ছেদ এবং একই বৈঠকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়া হয় ওই শিশুকে। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত পরিবার। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের জেসমিনা খাতুনের বিয়ে হয় একই এলাকার রবিউল ইসলামের সঙ্গে। ১৫ বছরের সংসার জীবনে তাদের কোলে জন্ম নেয় ৩ কন্যাসন্তান। সবশেষ কন্যাসন্তান ভুমিষ্ঠ হয় গত ৯ নভেম্বর। দাম্পত্য জীবনে সুখ ছিল না জেসমিনার পরিবারে। তাই মাঝেমধ্যেই তাদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকত। তাদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়ার পর এরই মধ্যে চলতি বছরের প্রথম দিকে জেসমিনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। আর এই বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেননি স্বামী রবিউল। গর্ভের সন্তানটি অবৈধ দাবি করে জেসমিনাকে তালাক দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন রবিউল। এরই মধ্যে আরেকটি কন্যাসন্তান ভুমিষ্ঠ হয়। ভুমিষ্ঠ হওয়ার সাত দিন পর ১৬ নভেম্বর স্থানীয় প্রভাবশালী মাতব্বরদের সহায়তায় সালিশি বৈঠক বসে তাদের বিচ্ছেদের বিষয়ে। ২ লাখ টাকার বিনিময়ে আলাদা করে দেয়া হয় তাদের। একই বৈঠকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়া হয় নবজাতকটিকে। ওই বৈঠকে স্থানীয় মাতব্বররা দরকষাকষি করে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ওই শিশুকে একই এলাকার ঈদগাহ পাড়ার আয়ুর আলীর কাছে বিক্রি করে দেয়। জেসমিনার পরিবারের অভিযোগ, একপ্রকার জোর করেই তাদের সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছেন রবিউল।
জেসমিনা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার ওপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার করে আসছিল রবিউল। শেষ পর্যন্ত মিথ্যে অপবাদও দেয়া হয় তাকে। জোর করে স্থানীয়দের সহায়তায় আমাকে তালাক দিয়েছে রবিউল। আমার কোল থেকে সাত দিনের মেয়েকে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে ।