বুধবার | ১৮ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন মানবদূত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ Logo ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন পাক্ষিক চাঁদনগরের সম্পাদক সাবিত্রী রানী ঘোষ Logo শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে যমুনা রোড স্পোর্টিং ক্লাবের ঈদ উপহার বিতরণ Logo ইফতার মাহফিল থেকে সামাজিক জাগরণ: মাদকবিরোধী আন্দোলনে কাপাসিয়ার ঐক্য Logo ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আনচেলত্তির চুক্তি বাড়াতে যাচ্ছে ব্রাজিল Logo কাবুলে পাকিস্তানের হামলার পর সংযম প্রদর্শনের আহ্বান চীনের Logo ঈদযাত্রা সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে সব ইউনিটের ফোর্স নিয়োজিত থাকবে: আইজিপি Logo চাঁদপুরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাবের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ ও ইফতার মাহফিল Logo মাদকমুক্ত কাপাসিয়া গড়ার অঙ্গীকার যুব সংগঠনের মিলনমেলায় নতুন দিগন্ত Logo চাঁদপুরে জিএম বাংলা লিমিটেডের ঈদ উপহার: অসহায় ও এতিমদের মুখে হাসি

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ক্রেতা সংকট : লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ আম চাষীরা!

  • rahul raj
  • আপডেট সময় : ১১:১৯:০১ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ২৯ জুন ২০১৮
  • ৮০৬ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : জীবননগরের বাজারে প্রচুর আমের মজুদ থাকলেও নেই ক্রেতা। দাম কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছে চাষীরা। জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যনুযায়ী জানা গেছে, চলতি বছর জীবননগর উপজেলায় প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। যা থেকে ৪ হাজার ৬০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে জীবননগর পৌর শহরের ইসলামী ব্যাংকের পিছনে অবস্থিত সব চাইতে বড় আম বাজার ঘুরে আম বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর প্রতি মণ আ¤্রপালি ও মল্লি¬কা জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ৬’শ টাকা থেকে ৮’শ টাকায়। যা গতবারের চেয়ে অর্ধেক দাম।
স্থানীয় চাষীরা জানান, হিমসাগর আমের মৌসুম শেষ। আ¤্রপালি ও মল্লি¬কা জাতের আম এখন পাইকারি ১৫-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা প্রতি কেজি আম বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা দরে। তারা বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর জীবননগরে আমের দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের আম চাষীরা। গত বছর আম চাষ করে লাভের মুখ দেখলেও এ বছর লোকসান গুনতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। আর এর কারণ হিসেবে তাপদাহ, রমজান, আম বাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারণা ও প্রশাসনের আম পাড়া এবং বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করছেন অনেকে।সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামের আম চাষী শরিফুল ইসলাম বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমের মৌসুম শুরুর আগেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে ব্যাপারীরা আম কেনার জন্য আসতেন। কিন্তু এবার কেউ আসছেন না। তিনি বলেন, গত বছর যে আম বাগান ২ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলাম এবার তা ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।
মৌসুমী ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান জানান, ৭ লাখ টাকা খরচ করে একটি বাগান নেন তিনি। সম্প্রতি জীবননগর আম বাজারে বিক্রির জন্য আ¤্রপালি জাতের আম আড়তে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু যে দরে আম বিক্রি হচ্ছে, তাতে লাভ তো দুরের থাক উৎপাদন খরচ উঠছে না।
জীবননগর বাজারের আমের আড়তদার মুন্সী মানিক জানান, প্রতি মৌসুমে আম বিক্রি থেকে কয়েক লাখ টাকা আয় হলেও এ বছর আম ক্রয় করার মত তেমন কোন ক্রেতা নেই এক কথায় এ বছর আম বাজারে ক্রেতা শুন্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আম বাগান মালিক, মৌসুমী ব্যবসায়ী ও আড়তদার সকলেই পথে বসবে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ জানান, জীবননগর বাজারে আমের দাম না থাকার বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাজারে আমের দাম কমে যাওয়ায় প্রকৃত আম চাষী ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমের দাম বৃদ্ধি পেলে কৃষক লাভবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বর্তমান সময়ের মত যদি আম বাজার চলতে থাকে তা হলে আম চাষীরা আম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন মানবদূত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম আকাশ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ক্রেতা সংকট : লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ আম চাষীরা!

আপডেট সময় : ১১:১৯:০১ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ২৯ জুন ২০১৮

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : জীবননগরের বাজারে প্রচুর আমের মজুদ থাকলেও নেই ক্রেতা। দাম কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ হয়ে পড়েছে চাষীরা। জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যনুযায়ী জানা গেছে, চলতি বছর জীবননগর উপজেলায় প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। যা থেকে ৪ হাজার ৬০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে জীবননগর পৌর শহরের ইসলামী ব্যাংকের পিছনে অবস্থিত সব চাইতে বড় আম বাজার ঘুরে আম বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর প্রতি মণ আ¤্রপালি ও মল্লি¬কা জাতের আম বিক্রি হচ্ছে ৬’শ টাকা থেকে ৮’শ টাকায়। যা গতবারের চেয়ে অর্ধেক দাম।
স্থানীয় চাষীরা জানান, হিমসাগর আমের মৌসুম শেষ। আ¤্রপালি ও মল্লি¬কা জাতের আম এখন পাইকারি ১৫-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা প্রতি কেজি আম বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা দরে। তারা বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর জীবননগরে আমের দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের আম চাষীরা। গত বছর আম চাষ করে লাভের মুখ দেখলেও এ বছর লোকসান গুনতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। আর এর কারণ হিসেবে তাপদাহ, রমজান, আম বাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারণা ও প্রশাসনের আম পাড়া এবং বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করছেন অনেকে।সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামের আম চাষী শরিফুল ইসলাম বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমের মৌসুম শুরুর আগেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে ব্যাপারীরা আম কেনার জন্য আসতেন। কিন্তু এবার কেউ আসছেন না। তিনি বলেন, গত বছর যে আম বাগান ২ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলাম এবার তা ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।
মৌসুমী ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান জানান, ৭ লাখ টাকা খরচ করে একটি বাগান নেন তিনি। সম্প্রতি জীবননগর আম বাজারে বিক্রির জন্য আ¤্রপালি জাতের আম আড়তে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু যে দরে আম বিক্রি হচ্ছে, তাতে লাভ তো দুরের থাক উৎপাদন খরচ উঠছে না।
জীবননগর বাজারের আমের আড়তদার মুন্সী মানিক জানান, প্রতি মৌসুমে আম বিক্রি থেকে কয়েক লাখ টাকা আয় হলেও এ বছর আম ক্রয় করার মত তেমন কোন ক্রেতা নেই এক কথায় এ বছর আম বাজারে ক্রেতা শুন্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আম বাগান মালিক, মৌসুমী ব্যবসায়ী ও আড়তদার সকলেই পথে বসবে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ জানান, জীবননগর বাজারে আমের দাম না থাকার বিষয়টি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বাজারে আমের দাম কমে যাওয়ায় প্রকৃত আম চাষী ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমের দাম বৃদ্ধি পেলে কৃষক লাভবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বর্তমান সময়ের মত যদি আম বাজার চলতে থাকে তা হলে আম চাষীরা আম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।