বুধবার | ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo পোস্টাল ভোট দিতে ৪ লাখ ৫৮ হাজার প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবীর নিবন্ধন Logo কয়রায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালিত Logo চাঁদপুরে বিজয় দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা Logo জাল সিএস কপি ও ভুয়া নথিতে এমপিও আবেদন অগ্রায়ন—গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ Logo মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে খুবির ন্যাশনালিস্ট টিচার্স এসোসিয়েশন (এনটিএ) এর বিবৃতি Logo মহান বিজয় দিবসে চাঁদপুর ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের মিলাদ ও দোয়া Logo বিজয় দিবসে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেন ধানের শীষের এমপি প্রার্থী শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক Logo চাঁদপুরে গণফোরামের বিজয় দিবসের আলোচনা সভা এ বিজয় কোনো একক দলের নয়, এটি জাতির ঐতিহাসিক অর্জন-এডভোকেট সেলিম আকবর Logo মহান বিজয় দিবসে চাঁদপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গৌরবময় সংবর্ধনা Logo চাঁদপুরে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শহীদদের স্মরণ করল সর্বস্তরের মানুষ

জাতীয় বিপ্লব দিবসে ইবিতে শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের র‌্যালি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ 

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থান স্মরণে র‌্যালি, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের সামনে থেকে র‌্যালি শুরু হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার সংলগ্ন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়।
এ সময় অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদ, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) এবং শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুস সামাদ, ইউট্যাব সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. নুরুন্নাহার, ছাত্রদল আহবায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার পারভেজসহ শতাধিক নেতাকর্মী।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, “৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করে। আজও ষড়যন্ত্র চলছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা রয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই—পিআর নয়, ভোটের দিনে গণভোট হবে।”
ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, “১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জিয়াউর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করা হয়। ৭ নভেম্বর সফল বিপ্লবে তিনি কারামুক্ত হন। সে দিন তিনি মুক্ত না হলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়ত। পরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে তাঁকে জীবন দিতে হয়। তার আদর্শ দমিয়ে রাখা যায়নি।”
জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, “জাতীয়তাবাদী শক্তিকে অনলাইনে আরও সক্রিয় হতে হবে। জিয়াউর রহমানের গণভোট ছিল জনগণের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া, আর বর্তমান সরকারের গণভোট রাজনৈতিক কৌশল। জনগণের সামনে এ পার্থক্য তুলে ধরতে হবে।”
অনুষ্ঠানের শেষে জিয়া পরিষদের সহ সভাপতি প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলামের পরিচালনায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষের যৌথ উদ্যোগে অরাজকতা ও অনিশ্চয়তা দূর করে নতুন রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা ঘটে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ ও মিছিলের মাধ্যমে ‘সিপাহী-জনতা ঐক্য’ গড়ে ওঠে। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং দেশকে ভূরাজনৈতিক ও নব্য-ঔপনিবেশিক সংকট থেকে উত্তরণের পথে পরিচালিত করেন। দিনটি পরবর্তীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পরিচিতি পায়, যা বাংলাদেশি জাতীয় চেতনা ও স্বাতন্ত্র্যবোধের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পোস্টাল ভোট দিতে ৪ লাখ ৫৮ হাজার প্রবাসী ও সরকারি চাকরিজীবীর নিবন্ধন

জাতীয় বিপ্লব দিবসে ইবিতে শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের র‌্যালি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ 

আপডেট সময় : ০৭:১৯:৩৮ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ অভ্যুত্থান স্মরণে র‌্যালি, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের সামনে থেকে র‌্যালি শুরু হয়। র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার সংলগ্ন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়।
এ সময় অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদ, ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) এবং শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুস সামাদ, ইউট্যাব সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. নুরুন্নাহার, ছাত্রদল আহবায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার পারভেজসহ শতাধিক নেতাকর্মী।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, “৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করে। আজও ষড়যন্ত্র চলছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা রয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই—পিআর নয়, ভোটের দিনে গণভোট হবে।”
ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, “১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জিয়াউর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করা হয়। ৭ নভেম্বর সফল বিপ্লবে তিনি কারামুক্ত হন। সে দিন তিনি মুক্ত না হলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকিতে পড়ত। পরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে তাঁকে জীবন দিতে হয়। তার আদর্শ দমিয়ে রাখা যায়নি।”
জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, “জাতীয়তাবাদী শক্তিকে অনলাইনে আরও সক্রিয় হতে হবে। জিয়াউর রহমানের গণভোট ছিল জনগণের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া, আর বর্তমান সরকারের গণভোট রাজনৈতিক কৌশল। জনগণের সামনে এ পার্থক্য তুলে ধরতে হবে।”
অনুষ্ঠানের শেষে জিয়া পরিষদের সহ সভাপতি প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলামের পরিচালনায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ মানুষের যৌথ উদ্যোগে অরাজকতা ও অনিশ্চয়তা দূর করে নতুন রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা ঘটে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ ও মিছিলের মাধ্যমে ‘সিপাহী-জনতা ঐক্য’ গড়ে ওঠে। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং দেশকে ভূরাজনৈতিক ও নব্য-ঔপনিবেশিক সংকট থেকে উত্তরণের পথে পরিচালিত করেন। দিনটি পরবর্তীতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পরিচিতি পায়, যা বাংলাদেশি জাতীয় চেতনা ও স্বাতন্ত্র্যবোধের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।