সোমবার | ২ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী Logo খুবির ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে হামলার দাবি আইআরজিসি’র Logo সাদুল্লাপুরের ছাত্রলীগ নেতা বানিয়ে গ্রেফতার : দুই মাস কারাবন্দি, নবজাতকসহ তিন সন্তান নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী Logo পলাশবাড়ীতে মহাসড়কের সংরক্ষিত জায়গা দখল: নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ঢাকা–হাটিকুমরুল–রংপুর ফোরলেন Logo শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাল ‘বিজয়ী: চাঁদপুরে ১৫০ শিক্ষার্থী পেল নতুন পোশাক Logo ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ড প্রধান নিহত Logo হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস Logo জলবায়ু সহনশীল গ্রাম গঠনে উদ্যোগ, শ্যামনগরে সক্রিয় ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স Logo ইরানের ৩১ প্রদেশের ২০টিতেই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

একসময়ের জনপ্রিয় বাউল শিল্পী সফিউল্লাহ এখন রিক্সা–সাইকেল মেকানিক

মোঃ মাসুদ রানা,কচুয়াঃ
একসময় হারমোনিয়াম হাতে, কণ্ঠে বাউল সুর তুলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে বেড়াতেন মোঃ সফিউল্লাহ। তিন দশকের বেশি সময় ধরে মাটির গান গেয়ে মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন, ভেবেছেন এ গানই হবে জীবনের অবলম্বন। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই বাউল সংগীতই যেন হারিয়ে গেছে আধুনিকতার আড়ালে। আর হারিয়ে যাওয়া সুরের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে শিল্পীর জীবনযাপনের স্বস্তিও।
আজ সেই সফিউল্লাহকে দেখা যায় আরেক ভিন্ন ভূমিকায়। হাতে আর হারমোনিয়াম নেই, আছে রেঞ্চ ও হাতুড়ি। বাড়ির পাশের ছোট্ট দোকানে রিক্সা ও সাইকেল মেরামত করেই চলছে তাঁর সংসার।
স্ত্রী, চার ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে কোনো রকমে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ, তবু ভেতরে বেঁচে আছে একসময়ের সেই শিল্পীর স্বপ্ন। সফিউল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন,
“এক সময় গান গেয়েই চলত সংসার। বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠানে যেতাম, মানুষ আমাদের শুনত, সম্মান দিত। এখন আর কেউ ডাকে না, লোকজ গানকে আর আগের মতো কেউ গুরুত্বও দেয় না। তাই বাধ্য হয়েই মেকানিকের কাজ করছি।”
তাঁর কণ্ঠে বেদনার সুর ফুটে ওঠে যখন বলেন,
“সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে কাজ করি। কিন্তু মনটা পড়ে থাকে সেই গানের ভুবনে। যদি সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো সহায়তা পেতাম, হয়তো আবারও গান নিয়ে দাঁড়াতে পারতাম, অথবা আমার দোকানটাকে বড় করে সংসারের হাল ধরতে পারতাম।”
স্থানীয়রা জানান, সফিউল্লাহ ছিলেন এলাকার জনপ্রিয় বাউল শিল্পী। হারমোনিয়াম হাতে, তবলার তালে তাঁর কণ্ঠে ছিল অন্যরকম আবেদন। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই শিল্পী এখন যেন ভুলে যাওয়া এক নাম।
চাঁদপুরেরর কচুয়া উপজেলার বাউল সংগীত শিল্পী  সফিউল্লাহ একজন বাউল শিল্পী থেকে আজ মেকানিক হয়ে যাওয়ার গল্প যেন আমাদের লোকসংস্কৃতির ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ারই প্রতিচ্ছবি।
ট্যাগস :

ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

একসময়ের জনপ্রিয় বাউল শিল্পী সফিউল্লাহ এখন রিক্সা–সাইকেল মেকানিক

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৩৯ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মোঃ মাসুদ রানা,কচুয়াঃ
একসময় হারমোনিয়াম হাতে, কণ্ঠে বাউল সুর তুলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে বেড়াতেন মোঃ সফিউল্লাহ। তিন দশকের বেশি সময় ধরে মাটির গান গেয়ে মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন, ভেবেছেন এ গানই হবে জীবনের অবলম্বন। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই বাউল সংগীতই যেন হারিয়ে গেছে আধুনিকতার আড়ালে। আর হারিয়ে যাওয়া সুরের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে শিল্পীর জীবনযাপনের স্বস্তিও।
আজ সেই সফিউল্লাহকে দেখা যায় আরেক ভিন্ন ভূমিকায়। হাতে আর হারমোনিয়াম নেই, আছে রেঞ্চ ও হাতুড়ি। বাড়ির পাশের ছোট্ট দোকানে রিক্সা ও সাইকেল মেরামত করেই চলছে তাঁর সংসার।
স্ত্রী, চার ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে কোনো রকমে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ, তবু ভেতরে বেঁচে আছে একসময়ের সেই শিল্পীর স্বপ্ন। সফিউল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন,
“এক সময় গান গেয়েই চলত সংসার। বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠানে যেতাম, মানুষ আমাদের শুনত, সম্মান দিত। এখন আর কেউ ডাকে না, লোকজ গানকে আর আগের মতো কেউ গুরুত্বও দেয় না। তাই বাধ্য হয়েই মেকানিকের কাজ করছি।”
তাঁর কণ্ঠে বেদনার সুর ফুটে ওঠে যখন বলেন,
“সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে কাজ করি। কিন্তু মনটা পড়ে থাকে সেই গানের ভুবনে। যদি সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো সহায়তা পেতাম, হয়তো আবারও গান নিয়ে দাঁড়াতে পারতাম, অথবা আমার দোকানটাকে বড় করে সংসারের হাল ধরতে পারতাম।”
স্থানীয়রা জানান, সফিউল্লাহ ছিলেন এলাকার জনপ্রিয় বাউল শিল্পী। হারমোনিয়াম হাতে, তবলার তালে তাঁর কণ্ঠে ছিল অন্যরকম আবেদন। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই শিল্পী এখন যেন ভুলে যাওয়া এক নাম।
চাঁদপুরেরর কচুয়া উপজেলার বাউল সংগীত শিল্পী  সফিউল্লাহ একজন বাউল শিল্পী থেকে আজ মেকানিক হয়ে যাওয়ার গল্প যেন আমাদের লোকসংস্কৃতির ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ারই প্রতিচ্ছবি।