দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। রহমতের মাস মাহে রমজান শেষে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর আসন্ন। প্রতি বছর এই উৎসব আনন্দ ও খুশির বার্তা নিয়ে আসে সবার জীবনে। ঈদ মানেই আনন্দের জোয়ার, ঈদ মানেই খুশির সঞ্চার।
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর রমজানের শেষ দিনে আকাশের এক কোণে বাঁকা চাঁদের মিষ্টি হাসি ঈদের আগমনের বার্তা দেয়। তখন আনন্দে সবাই গেয়ে ওঠে কাজী নজরুল ইসলামের সেই অমর গান— ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ, তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানি তাগিদ’। এদিন মুসলমানরা ফিরনি-সেমাইসহ নানা মুখরোচক খাবার উপভোগ করেন, নতুন পোশাক পরিধান করে ঈদগাহে নামাজ আদায় করেন এবং কোলাকুলির মাধ্যমে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হন।
ঈদের আনন্দ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে অনেকেই ইতোমধ্যে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথে দেখা যাচ্ছে ঘরমুখো মানুষের ঢল।
এ সময় বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নারী উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী তানিয়া ইশতিয়াক।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঈদের সময় অনেক পরিবার শহরের বাসা ফাঁকা রেখে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। এ সুযোগে অসাধু চক্র চুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার চেষ্টা করতে পারে। তাই বাসা থেকে বের হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, বাসা ছেড়ে যাওয়ার আগে দরজা-জানালা ভালোভাবে তালাবদ্ধ করে যেতে হবে এবং সম্ভব হলে প্রতিবেশী বা বিশ্বস্ত কারও কাছে বিষয়টি জানিয়ে রাখা উচিত। পাশাপাশি গ্যাসের চুলা, বৈদ্যুতিক সংযোগসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় বন্ধ আছে কি না তা নিশ্চিত করে বের হওয়া প্রয়োজন।
যানবাহনে সতর্কতা: জানালা দিয়ে মাথা বা হাত বাইরে বের করবেন না। অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাস, ট্রেন বা লঞ্চে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। বাস বা ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তাই ছাদে ভ্রমণ এড়িয়ে চলা উচিত।
খাবার নিয়ে সতর্কতা: ভ্রমণের সময় বাইরের খাবার গ্রহণ না করাই ভালো। ঘরে তৈরি খাবার ও পানির বোতল সঙ্গে নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে এবং শিশুদেরও পর্যাপ্ত পানি পান করাতে হবে। খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে সতর্ক থাকতে হবে।
শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা: ট্রেন, বাস বা লঞ্চে ভ্রমণের সময় শিশুরা সাধারণত জানালার ধারের আসনে বসতে পছন্দ করে। এতে তারা হঠাৎ অতিরিক্ত বাতাসের সংস্পর্শে আসে এবং অনেক সময় ভ্রমণের পর সর্দি-জ্বর বা কাশিতে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া বাইরের খাবার ও পানীয় গ্রহণের ফলে বমি বা ডায়রিয়াও হতে পারে। তাই শিশুদের বাইরের খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। খুব ছোট দুগ্ধপোষ্য শিশু নিয়ে ভ্রমণ না করাই ভালো। প্রয়োজনে বের হলে তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে রাখতে হবে। চলার পথে শিশুকে অবশ্যই নিরাপদে ধরে রাখতে হবে, কারণ ট্রেন, বাস বা লঞ্চ থেকে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। খেয়াল রাখতে হবে, কোনো শিশু যেন জানালা দিয়ে হাত বাইরে না রাখে।
তানিয়া ইশতিয়াক বলেন, “ঈদ আনন্দের উৎসব। এই আনন্দ যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ম্লান না হয়, সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিবেশীর দিকেও খেয়াল রাখা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, সম্মিলিত সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব। সবাইকে নিরাপদে যাতায়াত এবং আনন্দময় ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান তিনি।



















































