মঙ্গলবার | ২০ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo শহিদ জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে খুবি এনটিএ ও ইউট্যাবের দোয়া Logo এবারের ভোটে রাজনৈতিক দলগুলো যদি লাইনের বাইরে চলে যায়, তাহলে তাদের চড়া মাশুল গুনতে হবে-সাতক্ষীরায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা Logo খুবিতে প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করলেন উপ-উপাচার্য Logo আজ শহীদ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী Logo জিয়াউর রহমান : এক সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও জাতি গঠনের কারিগর Logo কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা Logo পলাশবাড়ীর ফুটপাতেই ডাক্তারের উপহার, প্রশ্নবিদ্ধ স্বাস্থ্যখাতের নৈতিকতা! Logo পলাশবাড়ীর ফুটপাতেই ডাক্তারের উপহার, প্রশ্নবিদ্ধ স্বাস্থ্যখাতের নৈতিকতা! Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন -২০২৬ পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর আসনে  বিএনপি জামায়াত ভোটের  হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া  জাপা Logo ‘বাঁধন’ মওলানা ভাসানী হল ইউনিটের ২০২৬ সালের কার্যকরী কমিটি ঘোষণা

ঝিনাইদহে নবগঙ্গা নদীর সেই ঝিনুক এখন আর নেই !

  • আপডেট সময় : ১২:৩৯:০৪ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০১৭
  • ৭৯০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহে স্বাধীনতার পর থেকে কোনো নদীই খনন করা হয়নি। প্রশাসনের চরম উদাসীনতায় বছরের পর বছর নদীগুলোতে উজানের পলি জমে ভরাট হয়ে পড়ায় আজ তা কেবলমাত্র মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীগুলোতে বছরে মাত্র ৩-৬ মাস পানি থাকে। এরপর সারাবছরই দখল উৎসবে মেতে ওঠে নদী তীরের বসবাসকারী প্রভাবশালীরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ নদীগুলো নিয়ে ভাবার কারও কোনো সময় নেই।

সরেজমিনে জানা গেছে, একসময় নদীতে পাওয়া যেত মিঠা পানির মাছ, চলাচল করতো বড় বড় নৌকা। যার সূত্র ধরে নদী পাড়ে গড়ে উঠেছিল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নদীর পানি দিয়ে করা হত চাষাবাদ। কিন্তু এ চিত্র এখন একেবারেই উল্টো।

শৈলকূপার কুমার নদী তীরবর্তী বাসিন্দা লিপি খাতুন জানান, নদীর বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে বড় বড় চর। করা হচ্ছে ধান, সরিষা, কালাই, মশুরি, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ। নদীতে কমেছে মিঠা পানির মাছ। বর্ষা মৌসুমে নদীতে কিছুটা পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে হেঁটেই চলাচল করা যায়।

নদী পাড়ের সুবল দাস জানান, খননের অভাবে ঝিনাইদহে অধিকাংশ নদ-নদী পরিণত হয়েছে খালে। ফলে নদী তীরে জেগে ওঠা চরে করা হচ্ছে চাষাবাদ। এখন ১০০ ভাগের মাত্র ১ ভাগ মাছ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন চরম উদসীনতা আর কোথাও চোখে পড়ে না।

কথিত আছে, ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীতে পাওয়া যেত পর্যাপ্ত ঝিনুক। সেই সূত্র ধরেই জেলার নামকরণ করা হয় ঝিনাইদহ।

ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের উপর দিয়ে বয়ে গেছে ১২টি নদী। এসব নদীগুলো ছিল প্রমত্তা। ঝিনাইদহের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদ-নদীগুলো হলো নবগঙ্গা, চিত্রা, কুমার, বেগবতি, গড়াই, ইছামতি, ডাকুয়া, কপোতাক্ষ, কালীগঙ্গা, কোদলা, ফটকী ও বুড়ী। যার আয়তন ১৬শ ৪১.৭৫ হেক্টর।

পরিবেশবাদী মাসুদ আহমেদ সনজু সাংবাদিকদের জানান, জেলার সব নদীগুলোরই একই অবস্থা। এসব জেগে ওঠা চরে মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে নদী দখল। নদী পাড়ের প্রভাবশালী বাসিন্দারা দেদারছে মেতে উঠেছে নদী দখল উৎসবে। যে কারণে একদিকে যেমন কমছে নদীর প্রশস্ততা, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে মাছসহ জলজ প্রাণী। নদীগুলো অতি দ্রুত খনন ও দখলমুক্ত করে এর স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে আনা জরুরি।

ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কনক কুমার বিশ্বাস জানান, ঝিনাইদহের নদ-নদীগুলো পুনঃখননের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। তা অনুমোদন হলে পুনঃখনন শুরু করা হবে। তবে এখনও কোনো মহাপরিকল্পনা নেই।

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শহিদ জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে খুবি এনটিএ ও ইউট্যাবের দোয়া

ঝিনাইদহে নবগঙ্গা নদীর সেই ঝিনুক এখন আর নেই !

আপডেট সময় : ১২:৩৯:০৪ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহে স্বাধীনতার পর থেকে কোনো নদীই খনন করা হয়নি। প্রশাসনের চরম উদাসীনতায় বছরের পর বছর নদীগুলোতে উজানের পলি জমে ভরাট হয়ে পড়ায় আজ তা কেবলমাত্র মরা খালে পরিণত হয়েছে। নদীগুলোতে বছরে মাত্র ৩-৬ মাস পানি থাকে। এরপর সারাবছরই দখল উৎসবে মেতে ওঠে নদী তীরের বসবাসকারী প্রভাবশালীরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ নদীগুলো নিয়ে ভাবার কারও কোনো সময় নেই।

সরেজমিনে জানা গেছে, একসময় নদীতে পাওয়া যেত মিঠা পানির মাছ, চলাচল করতো বড় বড় নৌকা। যার সূত্র ধরে নদী পাড়ে গড়ে উঠেছিল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নদীর পানি দিয়ে করা হত চাষাবাদ। কিন্তু এ চিত্র এখন একেবারেই উল্টো।

শৈলকূপার কুমার নদী তীরবর্তী বাসিন্দা লিপি খাতুন জানান, নদীর বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে বড় বড় চর। করা হচ্ছে ধান, সরিষা, কালাই, মশুরি, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ। নদীতে কমেছে মিঠা পানির মাছ। বর্ষা মৌসুমে নদীতে কিছুটা পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে হেঁটেই চলাচল করা যায়।

নদী পাড়ের সুবল দাস জানান, খননের অভাবে ঝিনাইদহে অধিকাংশ নদ-নদী পরিণত হয়েছে খালে। ফলে নদী তীরে জেগে ওঠা চরে করা হচ্ছে চাষাবাদ। এখন ১০০ ভাগের মাত্র ১ ভাগ মাছ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন চরম উদসীনতা আর কোথাও চোখে পড়ে না।

কথিত আছে, ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদীতে পাওয়া যেত পর্যাপ্ত ঝিনুক। সেই সূত্র ধরেই জেলার নামকরণ করা হয় ঝিনাইদহ।

ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের উপর দিয়ে বয়ে গেছে ১২টি নদী। এসব নদীগুলো ছিল প্রমত্তা। ঝিনাইদহের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদ-নদীগুলো হলো নবগঙ্গা, চিত্রা, কুমার, বেগবতি, গড়াই, ইছামতি, ডাকুয়া, কপোতাক্ষ, কালীগঙ্গা, কোদলা, ফটকী ও বুড়ী। যার আয়তন ১৬শ ৪১.৭৫ হেক্টর।

পরিবেশবাদী মাসুদ আহমেদ সনজু সাংবাদিকদের জানান, জেলার সব নদীগুলোরই একই অবস্থা। এসব জেগে ওঠা চরে মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে নদী দখল। নদী পাড়ের প্রভাবশালী বাসিন্দারা দেদারছে মেতে উঠেছে নদী দখল উৎসবে। যে কারণে একদিকে যেমন কমছে নদীর প্রশস্ততা, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে মাছসহ জলজ প্রাণী। নদীগুলো অতি দ্রুত খনন ও দখলমুক্ত করে এর স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে আনা জরুরি।

ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কনক কুমার বিশ্বাস জানান, ঝিনাইদহের নদ-নদীগুলো পুনঃখননের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। তা অনুমোদন হলে পুনঃখনন শুরু করা হবে। তবে এখনও কোনো মহাপরিকল্পনা নেই।