বুধবার | ৪ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo খুবির সিরাজগঞ্জ এসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্বে মমিন ও সিয়াম। Logo ঝিনাইদহ স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’র নেতৃত্বে রাতুল-তৌকির Logo চাঁদপুর সেন্ট্রাল রোটারি ক্লাবের রামাদান খাদ্য সামগ্রী বিতরণ Logo সুন্দরবন-এ বিশেষ অভিযানে জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১ সদস্য আটক, অস্ত্র-গুলিসহ উদ্ধার Logo সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অপু চৌধুরীর কৃতজ্ঞতা Logo সুন্দরবন-এ শুরু হলো গোলপাতা আহরণ মৌসুম Logo তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল Logo শতাধিক রোজাদারদের মুখে হাসি ফোটালেন বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান Logo পলাশবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মৃত্যু!! আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা Logo পলাশবাড়ী পৌর শহরে সড়কের গাছ চুরি চিহৃিন্ত চক্র আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী

সার্কের বিকল্প জোট গঠনে কাজ করছে চীন-পাকিস্তান, রয়েছে বাংলাদেশও

  • নীলকন্ঠ অনলাইন নীলকন্ঠ অনলাইন
  • আপডেট সময় : ০৭:০১:১৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
  • ৭৪১ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তান চীন যৌথভাবে একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ করছেএর সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে বাংলাদেশওধারণা করা হচ্ছে সম্ভাব্য এই জোট দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে

কূটনৈতিক সূত্র মতে, ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের মধ্যে আলোচনাগুলো এখন অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। উভয় দেশই আঞ্চলিক সংযোগ ও ঐক্য বৃদ্ধির জন্য একটি নতুন প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে বলে জানা গেছে।

চীনের কুনমিং শহরে গত ১৯ জুন অনুষ্ঠিত পাকিস্তান, চীন ও বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ছিল এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই অংশ। তিন দেশের সিনিয়র কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ভারতের নজর কেড়েছে বলে জানা গেছে।

এই নতুন উদ্যোগে প্রাক্তন সার্ক সদস্য দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। যদিও ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে, কিন্তু তাদের স্বার্থের পার্থক্যের কারণে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, আফগানিস্তানসহ অন্যান্য দেশগুলো নতুন এই আঞ্চলিক জোটে যোগ দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

জোটের মূল লক্ষ্য হবে বাণিজ্য ও সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করা। যদি এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়, তাহলে সার্ক কার্যত মৃত বলেই বিবেচিত হবে।

সার্ক দীর্ঘদিন ধরে ভারত-পাকিস্তানের বৈরিতার কারণে অকার্যকর ছিল এবং শেষ সম্মেলনটি হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে। ২০১৬ সালে পাকিস্তানে নির্ধারিত সম্মেলন ভারত বয়কট করলে সেটি বাতিল হয়ে যায়। সে সময় বাংলাদেশও ভারতের সঙ্গে একই অবস্থান নেয়।

সম্প্রতি সার্ক আরও এক ধাক্কা খায় যখন পেহেলগামে হামলার পর ভারত পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ ভিসা সুবিধা বন্ধ করে দেয়।

বেশ কিছু মাস ধরেই পাকিস্তান ও চীন নতুন একটি আঞ্চলিক সংগঠন গঠনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে আসছে। তারা মনে করছে, একইমত দেশগুলোকে একত্রে নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি কার্যকর জোট তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের স্বার্থের ভিন্নতা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে দেশটি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) মতো অন্য আঞ্চলিক জোটেও সঠিকভাবে মিশে যেতে পারছে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাম্প্রতিক দুটি ‘এসসিও’ সম্মেলনেই অংশ নেননি।

চীন ও রাশিয়ার উপস্থিতিতে ‘এসসিও’ প্রায়শই পশ্চিমা শক্তির বিকল্প একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হলেও ভারত ক্রমশ এজেন্ডার সঙ্গে একমত হতে পারছে না।

এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও চীনের নেতৃত্বে একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের প্রচেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

 

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

খুবির সিরাজগঞ্জ এসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্বে মমিন ও সিয়াম।

সার্কের বিকল্প জোট গঠনে কাজ করছে চীন-পাকিস্তান, রয়েছে বাংলাদেশও

আপডেট সময় : ০৭:০১:১৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

পাকিস্তান চীন যৌথভাবে একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের প্রস্তাবনা নিয়ে কাজ করছেএর সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে বাংলাদেশওধারণা করা হচ্ছে সম্ভাব্য এই জোট দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে

কূটনৈতিক সূত্র মতে, ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের মধ্যে আলোচনাগুলো এখন অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। উভয় দেশই আঞ্চলিক সংযোগ ও ঐক্য বৃদ্ধির জন্য একটি নতুন প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে বলে জানা গেছে।

চীনের কুনমিং শহরে গত ১৯ জুন অনুষ্ঠিত পাকিস্তান, চীন ও বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ছিল এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই অংশ। তিন দেশের সিনিয়র কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ভারতের নজর কেড়েছে বলে জানা গেছে।

এই নতুন উদ্যোগে প্রাক্তন সার্ক সদস্য দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। যদিও ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে, কিন্তু তাদের স্বার্থের পার্থক্যের কারণে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, আফগানিস্তানসহ অন্যান্য দেশগুলো নতুন এই আঞ্চলিক জোটে যোগ দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

জোটের মূল লক্ষ্য হবে বাণিজ্য ও সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করা। যদি এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়, তাহলে সার্ক কার্যত মৃত বলেই বিবেচিত হবে।

সার্ক দীর্ঘদিন ধরে ভারত-পাকিস্তানের বৈরিতার কারণে অকার্যকর ছিল এবং শেষ সম্মেলনটি হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে। ২০১৬ সালে পাকিস্তানে নির্ধারিত সম্মেলন ভারত বয়কট করলে সেটি বাতিল হয়ে যায়। সে সময় বাংলাদেশও ভারতের সঙ্গে একই অবস্থান নেয়।

সম্প্রতি সার্ক আরও এক ধাক্কা খায় যখন পেহেলগামে হামলার পর ভারত পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ ভিসা সুবিধা বন্ধ করে দেয়।

বেশ কিছু মাস ধরেই পাকিস্তান ও চীন নতুন একটি আঞ্চলিক সংগঠন গঠনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে আসছে। তারা মনে করছে, একইমত দেশগুলোকে একত্রে নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি কার্যকর জোট তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের স্বার্থের ভিন্নতা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে দেশটি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) মতো অন্য আঞ্চলিক জোটেও সঠিকভাবে মিশে যেতে পারছে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাম্প্রতিক দুটি ‘এসসিও’ সম্মেলনেই অংশ নেননি।

চীন ও রাশিয়ার উপস্থিতিতে ‘এসসিও’ প্রায়শই পশ্চিমা শক্তির বিকল্প একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হলেও ভারত ক্রমশ এজেন্ডার সঙ্গে একমত হতে পারছে না।

এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও চীনের নেতৃত্বে একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের প্রচেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।