বুধবার | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo আজ ৪ ফেব্রুয়ারি লেখক ও শিক্ষক তৌফিক সুলতান স্যারের জন্মদিন। Logo খুবিতে ‘ভৈরবী’র নতুন নেতৃত্বে রাদ ও রাহুল Logo সুন্দরবন ও উপকূলীয় যৌথ গবেষণার লক্ষ্যে খুবি ও বেড্সের মধ্যে এমওইউ স্বাক্ষর Logo নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের মানববন্ধন Logo গণমাধ্যমে লেখালেখি: পেশাগত নীতিনৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ – ড. মাহরুফ চৌধুরী Logo স্টুডেন্ট স্কয়ার: শিক্ষার্থী থেকেই টেকসই পরিবর্তনের সূচনা Logo কেউ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ করলে আইনি ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo এনবিআরের ওয়েবসাইটে এইচএস কোডভিত্তিক আমদানি তথ্য প্রকাশ Logo গাজীপুর-৪ আসনের দুই প্রার্থীর হাতে তৌফিক সুলতান স্যারের ‘জ্ঞানের জগৎ’ বই Logo পবিত্র লাইলাতুল বরাত আনজুমান ট্রাস্ট’র ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচি

জিজ্ঞাসা: লভ্যাংশ নির্ধারণ না করে ব্যবসায় পুঁজি বিনিয়োগ করা

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৯:২৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  • ৭৯২ বার পড়া হয়েছে

আমার নাম আবদুর রহমান সজল। বাড়ি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানায়। আমি পেশায় একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী। আমি আলু, পেয়াজ, তরকারি ও ধানের মৌসুমে এগুলো ব্যবসা করি। ব্যবসার মৌসুমে আমার আত্মীয় স্বজনের অনেকেই আমাকে নগদ অর্থ দিয়ে বলেন, এটা তোমার ব্যবসায় বিনিয়োগ করো এবং আমাকে কিছু লভ্যাংশ দিয়ো। আমিও আমার লাভ অনুপাতে তাদেরকে অনির্দিষ্টভাবে কিছু লভ্যাংশ দেই। যেমন কোনো মাসে বেশি লাভ হলে আমি এক লাখে তিন থেকে চার হাজার টাকা দেই। আবার লাভ কম হলে এক হাজার থেকে ১৫শ টাকা দেই। এটা নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। আমার জিজ্ঞাসা হলো, এভাবে অর্থ গ্রহণ ও লভ্যাংশ প্রদান করা কি জায়েজ?

ইসলামী শরিয়তের বিধান হলো, এক পক্ষের পুঁজি আর অন্যের শ্রম—যাকে মুদারাবা বলা হয় তার মূলনীতি হলো পুঁজিদাতা এবং ব্যবসায়ী উভয়ের লভ্যাংশ শতকরা হারে নির্ধারিত হতে হবে। যেমন লাভের ৬০ শতাংশ পাবে বিনিয়োগকারী আর ৪০ শতাংশ পাবে ব্যবসায়ী। এর বিপরীতও হতে পারে এবং কম বেশি কোনো অংশ হতে পারে। যেহেতু প্রশ্নোক্ত চুক্তিতে শতকরা হার নির্ধারণ করা হয়নি; বরং লাভের কিছু অংশ দেওয়ার চুক্তি হয়েছে তাই এক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী আপনাদের মাঝে লাভ আধাআধি হারে ভাগ করতে হবে। অতএব আপনাকে লাভ হিসাবে যা দেওয়া হয়েছে তা যদি অর্জিত মুনাফার ৫০ শতাংশ হয় তবে তা নেওয়া বৈধ হয়েছে। আর যদি কম হয়ে থাকে তবে বাকি অংশ আপনি নিয়ে নিতে পারবেন। আর ৫০ শতাংশের বেশি দিয়ে থাকলে আপনার ফেরত দিতে হবে। উল্লেখ্য, এ ধরনের ব্যবসার পুরো হিসাব সংরক্ষণ করা জরুরি। যেন লভ্যাংশের বণ্টন যথাযথ হয়। (বাদায়িউস সানায়ে : ৫/১১১; আলবাহরুর রায়িক : ৭/২৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ৪/২৮৫; রদ্দুল মুহতার : ৫/৬৪৮)

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আজ ৪ ফেব্রুয়ারি লেখক ও শিক্ষক তৌফিক সুলতান স্যারের জন্মদিন।

জিজ্ঞাসা: লভ্যাংশ নির্ধারণ না করে ব্যবসায় পুঁজি বিনিয়োগ করা

আপডেট সময় : ০৩:৪৯:২৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

আমার নাম আবদুর রহমান সজল। বাড়ি মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানায়। আমি পেশায় একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী। আমি আলু, পেয়াজ, তরকারি ও ধানের মৌসুমে এগুলো ব্যবসা করি। ব্যবসার মৌসুমে আমার আত্মীয় স্বজনের অনেকেই আমাকে নগদ অর্থ দিয়ে বলেন, এটা তোমার ব্যবসায় বিনিয়োগ করো এবং আমাকে কিছু লভ্যাংশ দিয়ো। আমিও আমার লাভ অনুপাতে তাদেরকে অনির্দিষ্টভাবে কিছু লভ্যাংশ দেই। যেমন কোনো মাসে বেশি লাভ হলে আমি এক লাখে তিন থেকে চার হাজার টাকা দেই। আবার লাভ কম হলে এক হাজার থেকে ১৫শ টাকা দেই। এটা নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। আমার জিজ্ঞাসা হলো, এভাবে অর্থ গ্রহণ ও লভ্যাংশ প্রদান করা কি জায়েজ?

ইসলামী শরিয়তের বিধান হলো, এক পক্ষের পুঁজি আর অন্যের শ্রম—যাকে মুদারাবা বলা হয় তার মূলনীতি হলো পুঁজিদাতা এবং ব্যবসায়ী উভয়ের লভ্যাংশ শতকরা হারে নির্ধারিত হতে হবে। যেমন লাভের ৬০ শতাংশ পাবে বিনিয়োগকারী আর ৪০ শতাংশ পাবে ব্যবসায়ী। এর বিপরীতও হতে পারে এবং কম বেশি কোনো অংশ হতে পারে। যেহেতু প্রশ্নোক্ত চুক্তিতে শতকরা হার নির্ধারণ করা হয়নি; বরং লাভের কিছু অংশ দেওয়ার চুক্তি হয়েছে তাই এক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী আপনাদের মাঝে লাভ আধাআধি হারে ভাগ করতে হবে। অতএব আপনাকে লাভ হিসাবে যা দেওয়া হয়েছে তা যদি অর্জিত মুনাফার ৫০ শতাংশ হয় তবে তা নেওয়া বৈধ হয়েছে। আর যদি কম হয়ে থাকে তবে বাকি অংশ আপনি নিয়ে নিতে পারবেন। আর ৫০ শতাংশের বেশি দিয়ে থাকলে আপনার ফেরত দিতে হবে। উল্লেখ্য, এ ধরনের ব্যবসার পুরো হিসাব সংরক্ষণ করা জরুরি। যেন লভ্যাংশের বণ্টন যথাযথ হয়। (বাদায়িউস সানায়ে : ৫/১১১; আলবাহরুর রায়িক : ৭/২৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ৪/২৮৫; রদ্দুল মুহতার : ৫/৬৪৮)