শুক্রবার | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo নারী শক্তির জয়গান: বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোক্তা সম্মাননা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo কয়রায় অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা Logo জাবির নেত্রকোনা জেলা সমিতির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo রমজানে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কয়রা বাজার তদারকি Logo খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন Logo প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উদ্যোক্তা সম্মাননা প্রদান, সাংবাদিক ও সুধীজনদের সম্মানে ইফতার স্বপ্ন, সাহস ও সাফল্যের ছয় বছরে বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থার গৌরবময় ইতিহাস Logo পলাশবাড়ীতে ভুয়া মালিক সাজিয়ে ভূমি অধিগ্রহণের ১৮ লাখ উত্তোলনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন  Logo রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ Logo পলাশবাড়ীতে বিএনপির বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কৃষিঋণে খেলাপির পরিমাণ ৫ হাজার ২৭২ কোটি টাকা

  • Nil Kontho
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
  • ৮২০ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক: বড় ঋণের মতো কৃষিঋণের খেলাপির লাগাম টানা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত কৃষিঋণে খেলাপির পরিমাণ ৫ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। জানুয়ারিতেই খেলাপি বেড়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে খেলাপির এ অঙ্ক বাড়া ছাড়া কমছে না। মোট খেলাপির প্রায় ৯০ শতাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর।

এদিকে কৃষিঋণের বিতরণও বাড়ছে। অর্থবছরের ৭ মাসে ১২ হাজার ৭০২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য কৃষক এখন ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন। এ মৌসুমে কৃষিঋণ বিতরণ আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, কৃষিঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মোটেই ইতিবাচক নয়। এ খেলাপিতে প্রকৃত কৃষকের দোষ নেই। তারা অনিয়ম-দুর্নীতি করে না, বরং কিছু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী যোগসাজশ করে কৃষককে ফাঁসায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কৃষিঋণে খেলাপির পরিমাণ ৫ হাজার ২২২ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে ৫০ কোটি টাকা বেড়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। খেলাপির দিক দিয়ে সবার ওপরে আছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। তাদের খেলাপি ২ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা। এরপরই সোনালী ব্যাংকে ১ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা; রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ৮০৮ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়েছে।

কৃষিঋণে খেলাপির বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, কৃষকের নানা ধরনের সমস্যার কারণে অনেক ঋণখেলাপি হয়ে পড়ছে। তবে তা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। আমরা কৃষিঋণে অনেক ভালো করছি। শস্য খাতে ঋণ বিতরণে সব সময়ই আমরা প্রথম হই।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) কৃষি খাতে ১২ হাজার ৭০২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের সাত মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কৃষি খাতে ৫৪৩ কোটি টাকা বেশি বিতরণ হয়েছে। গত সাত মাসে যে পরিমাণ বিতরণ হয়েছে, তা চলতি অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার ৬২ দশমিক ২৭ শতাংশ। একই সময়ে আদায় হয়েছে ১১ হাজার ৮৭৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কৃষি খাতে মোট ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ৮টি ব্যাংকের জন্য নির্ধারিত ৯ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। আলোচ্য সাত মাসে এ খাতের ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ৫ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। এছাড়া বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের জন্য এবার ১০ হাজার ৮১০ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। জানুয়ারি পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ৭ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের ২ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণ পল্লী অঞ্চলে বিতরণ করতে হবে। ২০০৯ সাল থেকে এটি চালু রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিতরণ হয় প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। এ বছর বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয় ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নারী শক্তির জয়গান: বিজয়ী নারী উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোক্তা সম্মাননা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

কৃষিঋণে খেলাপির পরিমাণ ৫ হাজার ২৭২ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫৭ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

নিউজ ডেস্ক: বড় ঋণের মতো কৃষিঋণের খেলাপির লাগাম টানা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত কৃষিঋণে খেলাপির পরিমাণ ৫ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। জানুয়ারিতেই খেলাপি বেড়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে খেলাপির এ অঙ্ক বাড়া ছাড়া কমছে না। মোট খেলাপির প্রায় ৯০ শতাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর।

এদিকে কৃষিঋণের বিতরণও বাড়ছে। অর্থবছরের ৭ মাসে ১২ হাজার ৭০২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য কৃষক এখন ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন। এ মৌসুমে কৃষিঋণ বিতরণ আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, কৃষিঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি মোটেই ইতিবাচক নয়। এ খেলাপিতে প্রকৃত কৃষকের দোষ নেই। তারা অনিয়ম-দুর্নীতি করে না, বরং কিছু অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী যোগসাজশ করে কৃষককে ফাঁসায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কৃষিঋণে খেলাপির পরিমাণ ৫ হাজার ২২২ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে ৫০ কোটি টাকা বেড়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। খেলাপির দিক দিয়ে সবার ওপরে আছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। তাদের খেলাপি ২ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা। এরপরই সোনালী ব্যাংকে ১ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা; রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে ৮০৮ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়েছে।

কৃষিঋণে খেলাপির বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, কৃষকের নানা ধরনের সমস্যার কারণে অনেক ঋণখেলাপি হয়ে পড়ছে। তবে তা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। আমরা কৃষিঋণে অনেক ভালো করছি। শস্য খাতে ঋণ বিতরণে সব সময়ই আমরা প্রথম হই।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) কৃষি খাতে ১২ হাজার ৭০২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের সাত মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কৃষি খাতে ৫৪৩ কোটি টাকা বেশি বিতরণ হয়েছে। গত সাত মাসে যে পরিমাণ বিতরণ হয়েছে, তা চলতি অর্থবছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার ৬২ দশমিক ২৭ শতাংশ। একই সময়ে আদায় হয়েছে ১১ হাজার ৮৭৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কৃষি খাতে মোট ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ৮টি ব্যাংকের জন্য নির্ধারিত ৯ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা। আলোচ্য সাত মাসে এ খাতের ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে ৫ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা। এছাড়া বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের জন্য এবার ১০ হাজার ৮১০ কোটি টাকা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। জানুয়ারি পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ৭ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের ২ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণ পল্লী অঞ্চলে বিতরণ করতে হবে। ২০০৯ সাল থেকে এটি চালু রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিতরণ হয় প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। এ বছর বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয় ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।