শুক্রবার | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo কচুয়ায় কাদিরখিল সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের মাদকবিরোধী ও উন্নয়নমূলক আলোচনা সভা Logo সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার যমুনা টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি Logo পথিকৃৎ শিল্পীদের শিল্পকর্ম সংরক্ষণ করা প্রয়োজন : খুবি উপাচার্য Logo ছন্দে ফিরছে ঝিনাইদহ জেলা, একযুগ পর ঝিনাইদহ পেল সফল জেলা প্রশাসক একের পর এক ঝিনাইদহ শহর দখলমুক্ত করছেন জেলা প্রশাসক, আমজনতার অভিনন্দন Logo ইবিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষককে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ শাখা ছাত্রদলের Logo প্যাপিরাস পাঠাগারের উদ্যোগে শিক্ষার্থীকে স্কুলব্যাগ উপহার Logo রাষ্ট্র বিনির্মাণের ডাক: সাতক্ষীরায় তারেক রহমানের ৮ দফার লিফলেট ছড়িয়ে দিল ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ Logo ঝালকাঠিতে গনভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo শেরপুরে বিএনপির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও শীতবস্ত্র বিতরণ Logo শেরপুরে বিএনপির উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও শীতবস্ত্র বিতরণ

ঝিনাইদহে ইমিটেশন গহনার কাজে ৮ শতাধিক পরিবারের কর্মস্থান রপ্তানী হচ্ছে ১৫ জেলায়

  • Nil Kontho
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:২৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
  • ৭৬৪ বার পড়া হয়েছে

জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের মহেশপুর ইমিটেশন গহনার কাজে ৮ শতাধিক পরিবারের কর্মস্থান ১৫ জেলায় রপ্তানী। শহরের ১১টি করখানায় কাজ করে প্রায় আট’শ পরিবার কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশের ১৫টি জেলায় মানসম্মত এ সব গহনা রপ্তানী করা সম্ভব হচ্ছে। বিপুল মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হওয়ায় সীমান্তবর্তী ঝিনাইদহ জেলার গ্রামীণ অর্থণীতির চিত্র বদলে যাচ্ছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন পিকেএসএফ ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল ইফাদ’র আর্থিক এবং কারিগরী সহযোগীতায় মহেশপুরের বিভিন্ন গ্রামে তৈরী হচ্ছে ইমিটেশন গহনা। মহেশপুর উপজেলার বৈচিতলা, নওদাগ্রাম, জলিলপুর, যোগীহুদা, রামচন্দ্রপুর, বাথানগাছি সহ দারিদ্রপিড়ীত বিভিন্ন গ্রামে ইমিটেশন করখানা গড়ে উঠেছে। কারখানাগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, একনিষ্ঠ মনোযোগে ছাচে আর ডিজাইনে কেউ কেউ গলাচ্ছে নানা ধাতব পদার্থ, কারো মনোযোগ নকশাতে কারো বা হাতে চলছে গহনার চুড়ান্ত ডিজাইন কেউ বা পুঁথি সাজাচ্ছে কোথাও বা চলছে স্বর্ণের সোনালী কালারের রঙ এর কাজ । ভাঙ্গাচোরা মাটির বা টিনশেডের ঘরে ঘরে গ্রামের পর গ্রাম জুড়ে ইমিটেশন গহনা তৈরীর এমন মহাযজ্ঞ চলছে মহেশপুরে। পৌরসভা সহ ৩টি ইউনিয়নে ১১টি কারখানার মাধ্যমে ভাগ্য বদলের এ গল্প শুরু হয়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার ফাঁকে কর্মসংস্থানের এমন সুযোগ হাতছাড়া করছে না। প্রতিদিন কাজ শেষেই পাচ্ছে নগদ টাকা, নিজের লেখাপড়ার খরচের পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করে চলেছে ক্ষুদে কারিগররা। বিশেষ ভাবে এ কাজে নারীদের অংশগ্রহণ লক্ষণীয়। গ্রামবাসিদের ভাষ্যমতে সোনার গহনার বিপরীতে দেশে প্রতিনিয়তই বাড়ছে ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারীর চাহিদা। হাটবাজার, মেলা সহ নানা আয়োজনে এ গহনার পশরা সাজিয়ে বসতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের। কিন্তু প্রতিযোগীতামূলক বাজারে প্রশিক্ষণ না থাকায় মহেশপুরের কারখানায় ছোট গহনা বা মালামাল তৈরী করে টিকতে পারছিলনা কারিগররা। ছিল তাদের আর্থিক সংকটও। এ অবস্থায় এগিয়ে আসে শিশু নিলয় নামে একটি সংগঠন। মহেশপুরের ইমিটেশন গহনা দেশের নওগাঁ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, সিলেট, লক্ষীপুর, কুমিল্লা, বগুড়া, রাজশাহী, যশোর ও ঢাকাসহ কমপক্ষে দেশের ১৫ টি জেলায় বিক্রি হচ্ছে। মহেশপুরের নওদা গ্রামের কারিগর শাহেদ আলী জানান, তার এই কারখানায় কাজ করে ৭ সদস্যের পরিবারের ব্যায় নির্বাহ করছি। একই কথা জানালেন জলিলপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন। বাথানগাছি গ্রামের অনার্স পড়–য়া ছাত্রী মৌসুমি জানায় ইমিটেশনের বড় বড় গহনা তৈরী করেন তারা। এই ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাছিমা বেগম জানান, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের লাভজনক ব্যবসার সুযোগ, দরিদ্রও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মুজুরী ভিত্তিক কর্মসংস্থান, পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিক্রয় ও আয় বৃদ্ধির লক্ষে পিকেএসএফ ও ইফাদ’র আর্থিক সহযোগীতায় ৩ বছর মেয়দী এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে অচিরেই এই প্রকল্প সাফল্যের মুখ দেখবে বলে তিনি মনে করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কচুয়ায় কাদিরখিল সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের মাদকবিরোধী ও উন্নয়নমূলক আলোচনা সভা

ঝিনাইদহে ইমিটেশন গহনার কাজে ৮ শতাধিক পরিবারের কর্মস্থান রপ্তানী হচ্ছে ১৫ জেলায়

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:২৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ ঝিনাইদহের মহেশপুর ইমিটেশন গহনার কাজে ৮ শতাধিক পরিবারের কর্মস্থান ১৫ জেলায় রপ্তানী। শহরের ১১টি করখানায় কাজ করে প্রায় আট’শ পরিবার কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশের ১৫টি জেলায় মানসম্মত এ সব গহনা রপ্তানী করা সম্ভব হচ্ছে। বিপুল মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হওয়ায় সীমান্তবর্তী ঝিনাইদহ জেলার গ্রামীণ অর্থণীতির চিত্র বদলে যাচ্ছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন পিকেএসএফ ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল ইফাদ’র আর্থিক এবং কারিগরী সহযোগীতায় মহেশপুরের বিভিন্ন গ্রামে তৈরী হচ্ছে ইমিটেশন গহনা। মহেশপুর উপজেলার বৈচিতলা, নওদাগ্রাম, জলিলপুর, যোগীহুদা, রামচন্দ্রপুর, বাথানগাছি সহ দারিদ্রপিড়ীত বিভিন্ন গ্রামে ইমিটেশন করখানা গড়ে উঠেছে। কারখানাগুলো পরিদর্শন করে দেখা গেছে, একনিষ্ঠ মনোযোগে ছাচে আর ডিজাইনে কেউ কেউ গলাচ্ছে নানা ধাতব পদার্থ, কারো মনোযোগ নকশাতে কারো বা হাতে চলছে গহনার চুড়ান্ত ডিজাইন কেউ বা পুঁথি সাজাচ্ছে কোথাও বা চলছে স্বর্ণের সোনালী কালারের রঙ এর কাজ । ভাঙ্গাচোরা মাটির বা টিনশেডের ঘরে ঘরে গ্রামের পর গ্রাম জুড়ে ইমিটেশন গহনা তৈরীর এমন মহাযজ্ঞ চলছে মহেশপুরে। পৌরসভা সহ ৩টি ইউনিয়নে ১১টি কারখানার মাধ্যমে ভাগ্য বদলের এ গল্প শুরু হয়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার ফাঁকে কর্মসংস্থানের এমন সুযোগ হাতছাড়া করছে না। প্রতিদিন কাজ শেষেই পাচ্ছে নগদ টাকা, নিজের লেখাপড়ার খরচের পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করে চলেছে ক্ষুদে কারিগররা। বিশেষ ভাবে এ কাজে নারীদের অংশগ্রহণ লক্ষণীয়। গ্রামবাসিদের ভাষ্যমতে সোনার গহনার বিপরীতে দেশে প্রতিনিয়তই বাড়ছে ইমিটেশন গোল্ড জুয়েলারীর চাহিদা। হাটবাজার, মেলা সহ নানা আয়োজনে এ গহনার পশরা সাজিয়ে বসতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের। কিন্তু প্রতিযোগীতামূলক বাজারে প্রশিক্ষণ না থাকায় মহেশপুরের কারখানায় ছোট গহনা বা মালামাল তৈরী করে টিকতে পারছিলনা কারিগররা। ছিল তাদের আর্থিক সংকটও। এ অবস্থায় এগিয়ে আসে শিশু নিলয় নামে একটি সংগঠন। মহেশপুরের ইমিটেশন গহনা দেশের নওগাঁ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, সিলেট, লক্ষীপুর, কুমিল্লা, বগুড়া, রাজশাহী, যশোর ও ঢাকাসহ কমপক্ষে দেশের ১৫ টি জেলায় বিক্রি হচ্ছে। মহেশপুরের নওদা গ্রামের কারিগর শাহেদ আলী জানান, তার এই কারখানায় কাজ করে ৭ সদস্যের পরিবারের ব্যায় নির্বাহ করছি। একই কথা জানালেন জলিলপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন। বাথানগাছি গ্রামের অনার্স পড়–য়া ছাত্রী মৌসুমি জানায় ইমিটেশনের বড় বড় গহনা তৈরী করেন তারা। এই ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাছিমা বেগম জানান, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের লাভজনক ব্যবসার সুযোগ, দরিদ্রও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মুজুরী ভিত্তিক কর্মসংস্থান, পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিক্রয় ও আয় বৃদ্ধির লক্ষে পিকেএসএফ ও ইফাদ’র আর্থিক সহযোগীতায় ৩ বছর মেয়দী এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে অচিরেই এই প্রকল্প সাফল্যের মুখ দেখবে বলে তিনি মনে করেন।