রবিবার | ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | হেমন্তকাল
শিরোনাম :
Logo হাবিপ্রবিতে মশার উপদ্রবে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা, ভ্রুক্ষেপ নেই প্রশাসনের Logo জবিস্থ চুয়াডাঙ্গা ছাত্রকল্যাণের নেতৃত্বে সজিব ও তরিকুল Logo মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া চিকিৎসা খালেদা জিয়া গ্রহণ করতে পারছেন : ডা. জাহিদ Logo কচুয়ায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন গণঅধিকার পরিষদ নেতা এনায়েত হাসিব Logo কচুয়ায় ইউএনও হেলাল চৌধুরীর বিদায় সংবর্ধনা Logo জীবননগর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা সভাপতি রিংকু, সম্পাদক ফরহাদ Logo ঝিকুট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান Logo সুপারস্টার ফ্যান ক্লাবের জমকালো আয়োজনে চিত্রনায়ক ডি এ তায়েব এর জন্মদিন পালন Logo বাংলাদেশের কলম, ভারতের কণ্ঠ—নতুন গানে উপমহাদেশের একতা Logo খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

নারী শিক্ষার্থীদের কটুক্তির প্রতিবাদে ইবি ছাত্রশিবিরের মানববন্ধন 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক ছাত্রদল নেতার নারী শিক্ষার্থীদের ‘যৌনকর্মী’ বলে কটূক্তি, সারা দেশে নারী হেনস্তা এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মেইন গেটে এই মানববন্ধন করেন তারা। এসময় ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মাহমুদুল হাসান, সেক্রেটারি ইউসুফ আলী, বায়তুল মাল সম্পাদক শেখ মো. আল-আমিন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক হাসানুল বান্না, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. জাকারিয়া, প্রচার সম্পাদক মো. সৈয়দ আবসার নবী হামজাসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা এসময় “নারারে তাকবির, আল্লাহু আকবর”ড় “ইসলামী ছাত্রশিবির, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ”, “ধর্ষক আর চাঁদাবাজ, মিলেমিশে একাকার”, “ধর্ষক আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার”, “ধর্ষকদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না”, “চাঁদাবাজের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না”, “ছাত্রদলের ধর্ষক, রুখে দাও ছাত্রসমাজ”, “দায় চাপানোর রাজনীতি, বন্ধ করো করতে হবে”, “জবাই স্লোগান দিত যারা, তারাই এখন বাংলা ছাড়া” সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শুধু নারীদের অপমান নয়, গোটা সমাজের মূল্যবোধের উপর আঘাত। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই” সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
তারা আরও বলেন, “শিক্ষাঙ্গন হোক জ্ঞানচর্চার নিরাপদ স্থান—নারী শিক্ষার্থীরা যেন নির্ভয়ে ও মর্যাদার সঙ্গে চলাফেরা করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
সেক্রেটারি ইউসুফ আলী বলেন, “৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে একটা দল এই দেশকে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। রাবি ছাত্রদলের নেতা আনিসুর রহমান ৯১ জন নারী শিক্ষার্থীকে যৌনকর্মী বলে আখ্যায়িত করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ছাত্রদলের কেন্দ্র থেকে রুট লেভেল পর্যন্ত প্রত্যেকে শিবিরের পেছনে উঠে পড়ে লেগেছে। আপনারা আদর্শিকভাবে আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে আসুন। বর্তমান সময় আদর্শিক লড়াইয়ের সময়, পেশিশক্তির সময় নয়। ছাত্রদল আমাদের সঙ্গে আদর্শিক লড়াইয়ে হেরে গিয়ে নব্বইয়ের রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাচ্ছে। তারা পেশিশক্তি ব্যবহার করে আমাদের দমিয়ে দিতে চায়।”
তিনি বলেন “ছাত্রশিবির কোনো তুলা নয় যে, কোনো ফুঁ দিলেই উড়ে যাবে। ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিয়ে আর কোনো ষড়যন্ত্র করবেন না। ৫ আগস্টের পরে আমরা সহাবস্থানের রাজনীতি চেয়েছিলাম, যেন সবাই ভাই-ভাই হয়ে অবস্থান করতে পারে, সবাই আদর্শিকভাবে প্রতিযোগিতা করবে। কিন্তু এতে ব্যর্থ হয়ে তারা নব্বইয়ের রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার চিন্তা করছে। আমরা এমন একটি ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করি যেখানে আমাদের বোনেরা নিরাপদ থাকবে। কিন্তু ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার জন্য তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি নেতার নির্দেশে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করা হয়েছে। আমরা এগুলো কখনোই প্রত্যাশা করিনি। আপনারা এসব বন্ধ না করলে ছাত্রলীগের যে অবস্থা হয়েছে, আপনাদের সেই অবস্থা করতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাধ্য হবে।”
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাবিপ্রবিতে মশার উপদ্রবে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা, ভ্রুক্ষেপ নেই প্রশাসনের

নারী শিক্ষার্থীদের কটুক্তির প্রতিবাদে ইবি ছাত্রশিবিরের মানববন্ধন 

আপডেট সময় : ১০:২৮:২৩ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক ছাত্রদল নেতার নারী শিক্ষার্থীদের ‘যৌনকর্মী’ বলে কটূক্তি, সারা দেশে নারী হেনস্তা এবং বিভিন্ন ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মেইন গেটে এই মানববন্ধন করেন তারা। এসময় ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মাহমুদুল হাসান, সেক্রেটারি ইউসুফ আলী, বায়তুল মাল সম্পাদক শেখ মো. আল-আমিন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক হাসানুল বান্না, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. জাকারিয়া, প্রচার সম্পাদক মো. সৈয়দ আবসার নবী হামজাসহ শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা এসময় “নারারে তাকবির, আল্লাহু আকবর”ড় “ইসলামী ছাত্রশিবির, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ”, “ধর্ষক আর চাঁদাবাজ, মিলেমিশে একাকার”, “ধর্ষক আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার”, “ধর্ষকদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না”, “চাঁদাবাজের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না”, “ছাত্রদলের ধর্ষক, রুখে দাও ছাত্রসমাজ”, “দায় চাপানোর রাজনীতি, বন্ধ করো করতে হবে”, “জবাই স্লোগান দিত যারা, তারাই এখন বাংলা ছাড়া” সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য শুধু নারীদের অপমান নয়, গোটা সমাজের মূল্যবোধের উপর আঘাত। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই” সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
তারা আরও বলেন, “শিক্ষাঙ্গন হোক জ্ঞানচর্চার নিরাপদ স্থান—নারী শিক্ষার্থীরা যেন নির্ভয়ে ও মর্যাদার সঙ্গে চলাফেরা করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
সেক্রেটারি ইউসুফ আলী বলেন, “৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে একটা দল এই দেশকে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। রাবি ছাত্রদলের নেতা আনিসুর রহমান ৯১ জন নারী শিক্ষার্থীকে যৌনকর্মী বলে আখ্যায়িত করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ছাত্রদলের কেন্দ্র থেকে রুট লেভেল পর্যন্ত প্রত্যেকে শিবিরের পেছনে উঠে পড়ে লেগেছে। আপনারা আদর্শিকভাবে আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে আসুন। বর্তমান সময় আদর্শিক লড়াইয়ের সময়, পেশিশক্তির সময় নয়। ছাত্রদল আমাদের সঙ্গে আদর্শিক লড়াইয়ে হেরে গিয়ে নব্বইয়ের রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাচ্ছে। তারা পেশিশক্তি ব্যবহার করে আমাদের দমিয়ে দিতে চায়।”
তিনি বলেন “ছাত্রশিবির কোনো তুলা নয় যে, কোনো ফুঁ দিলেই উড়ে যাবে। ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিয়ে আর কোনো ষড়যন্ত্র করবেন না। ৫ আগস্টের পরে আমরা সহাবস্থানের রাজনীতি চেয়েছিলাম, যেন সবাই ভাই-ভাই হয়ে অবস্থান করতে পারে, সবাই আদর্শিকভাবে প্রতিযোগিতা করবে। কিন্তু এতে ব্যর্থ হয়ে তারা নব্বইয়ের রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার চিন্তা করছে। আমরা এমন একটি ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করি যেখানে আমাদের বোনেরা নিরাপদ থাকবে। কিন্তু ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার জন্য তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি নেতার নির্দেশে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করা হয়েছে। আমরা এগুলো কখনোই প্রত্যাশা করিনি। আপনারা এসব বন্ধ না করলে ছাত্রলীগের যে অবস্থা হয়েছে, আপনাদের সেই অবস্থা করতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাধ্য হবে।”