বুধবার | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ Logo পলাশবাড়ীতে বিএনপির বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত Logo সংসদ সদস্য নুরুল আমিন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত Logo  পলাশবাড়ী মডেল মসজিদ তিন বছরেও চালু হয়নি, জেলা প্রশাসকের নির্দেশের পরও অগ্রগতি শূন্য Logo চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের সাথে এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের মতবিনিময় সভা Logo চাঁদপুরে দুই সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর রমজানের ফুড প্যাকেজ বিতরণ Logo খুব দ্রুতই আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাবে কয়রাবাসী – স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি Logo জীবননগরে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা Logo শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে চাঁবিপ্রবি উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo হালিশহরে বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণ দগ্ধ নয় জন

ব্যাংকগুলোর কারণেই দেশের ঋণগ্রহীতারা ঋণখেলাপী চর্চায় উৎসাহিত হয়: অর্থমন্ত্রী !

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৪৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৭ আগস্ট ২০১৭
  • ৮০৮ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

ব্যাংকগুলোর কারণেই দেশের বড় বড় ঋণগ্রহীতারা ঋণখেলাপী চর্চায় উৎসাহিত হয়। ব্যাংকগুলো যে মূলধন সংকটে ভোগে তার জন্যও নিজেরাই দায়ী। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আর্থিক খাতে সংস্কার চলছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের অবস্থা পর্যালোচনা : চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ইউনুসুর রহমান।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, জাতীয় সংসদে অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রয়াত্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু ব্যাংকার তাদের ঋণগ্রহীতাদেরকে ঋণ বিতরণের প্রথম দিন থেকে ঋণখেলাপী হওয়ার জন্য উৎসাহিত করে আসছে। ব্যাংকগুলো মনে করে ঋণখেলাপী করতে পারলে ঋণগ্রহীতারা ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি রয়েছে। এটাই তাদের একমাত্র সমস্যা নয়, তাদের আরো সমস্যা রয়েছে। সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। প্রয়োজনে লোকসানি ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার পরিকল্পনা আছে সরকারের। এ বিষয়ে কাজ চলছে।

মূল প্রবন্ধে ইউনুসুর রহমান বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাংকিং সেক্টরের গুরুত্ব অপরিসীম। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে শুরু হয়ে বেশ কিছুকাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাংকিং কার্যক্রমের সিংহভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে দেশের অর্থনৈতিক নীতি-কৌশল পরির্তনের সাথে সাথে ব্যাংকিং সেক্টরে ব্যাপক পরিবর্তন হতে শুরু করে। বর্তমানে ব্যাংকিং সেক্টরের প্রায় সব সূচক বিবেচনায় রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহ এ সেক্টরের কনিষ্ট অংশীদারে পরিণত হয়েছে। পক্ষান্তরে কয়েকটি বিদেশি ব্যাংকসহ দেশের বেসরকারি ব্যাংকসমূহ সিংহভাগ মার্কেট শেয়ারের নিয়ন্ত্রকে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহ নবীন দেশটির পূনর্গঠনসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সে থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এ ব্যাংকগুলো অগ্রাধিকার খাতে ঋণ দিয়ে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে গঠণমূলক দায়িত্ব পালন করে আসছে। এমনকি বেসরকারি খাতে ব্যাংক সৃষ্টিতেও রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

সচিব বলেন, সৃষ্টির শুরু থেকেই রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে অদক্ষতা ও অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনাসহ নানাবিধ সমালোচনা শুনতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যাংকে সংঘটিত ঘটনাবলী সমালোচনার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। সংবাদপত্রের কিছু প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কি না এমন প্রশ্ন দেখা দেয়। তবে এ কথা সত্য যে, দেশের অগ্রসরমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহ অসমর্থ বা ব্যর্থ হয়েছে এমন প্রমাণ নেই। এ অবস্থায় রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে সঠিক অবস্থা জানা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে এক চিঠির মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ঋণ অনুমোদন, বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধকল্পে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে কতিপয় সুপারিশ পঠিয়েছে। উক্ত সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এর টেকনিক্যাল বিষয়গুলো এরূপ একটি ফোরামে আলোচিত হলে সঠিক দিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে আশা করি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ব্যাংকগুলোর কারণেই দেশের ঋণগ্রহীতারা ঋণখেলাপী চর্চায় উৎসাহিত হয়: অর্থমন্ত্রী !

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৪৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৭ আগস্ট ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

ব্যাংকগুলোর কারণেই দেশের বড় বড় ঋণগ্রহীতারা ঋণখেলাপী চর্চায় উৎসাহিত হয়। ব্যাংকগুলো যে মূলধন সংকটে ভোগে তার জন্যও নিজেরাই দায়ী। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আর্থিক খাতে সংস্কার চলছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের অবস্থা পর্যালোচনা : চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ইউনুসুর রহমান।

অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, জাতীয় সংসদে অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবীর, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রয়াত্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু ব্যাংকার তাদের ঋণগ্রহীতাদেরকে ঋণ বিতরণের প্রথম দিন থেকে ঋণখেলাপী হওয়ার জন্য উৎসাহিত করে আসছে। ব্যাংকগুলো মনে করে ঋণখেলাপী করতে পারলে ঋণগ্রহীতারা ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি রয়েছে। এটাই তাদের একমাত্র সমস্যা নয়, তাদের আরো সমস্যা রয়েছে। সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। প্রয়োজনে লোকসানি ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার পরিকল্পনা আছে সরকারের। এ বিষয়ে কাজ চলছে।

মূল প্রবন্ধে ইউনুসুর রহমান বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাংকিং সেক্টরের গুরুত্ব অপরিসীম। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে শুরু হয়ে বেশ কিছুকাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাংকিং কার্যক্রমের সিংহভাগ রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে দেশের অর্থনৈতিক নীতি-কৌশল পরির্তনের সাথে সাথে ব্যাংকিং সেক্টরে ব্যাপক পরিবর্তন হতে শুরু করে। বর্তমানে ব্যাংকিং সেক্টরের প্রায় সব সূচক বিবেচনায় রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহ এ সেক্টরের কনিষ্ট অংশীদারে পরিণত হয়েছে। পক্ষান্তরে কয়েকটি বিদেশি ব্যাংকসহ দেশের বেসরকারি ব্যাংকসমূহ সিংহভাগ মার্কেট শেয়ারের নিয়ন্ত্রকে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহ নবীন দেশটির পূনর্গঠনসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সে থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এ ব্যাংকগুলো অগ্রাধিকার খাতে ঋণ দিয়ে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে গঠণমূলক দায়িত্ব পালন করে আসছে। এমনকি বেসরকারি খাতে ব্যাংক সৃষ্টিতেও রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

সচিব বলেন, সৃষ্টির শুরু থেকেই রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে অদক্ষতা ও অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনাসহ নানাবিধ সমালোচনা শুনতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যাংকে সংঘটিত ঘটনাবলী সমালোচনার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। সংবাদপত্রের কিছু প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কি না এমন প্রশ্ন দেখা দেয়। তবে এ কথা সত্য যে, দেশের অগ্রসরমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহ অসমর্থ বা ব্যর্থ হয়েছে এমন প্রমাণ নেই। এ অবস্থায় রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে সঠিক অবস্থা জানা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে এক চিঠির মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ঋণ অনুমোদন, বিতরণ ও আদায়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধকল্পে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে কতিপয় সুপারিশ পঠিয়েছে। উক্ত সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এর টেকনিক্যাল বিষয়গুলো এরূপ একটি ফোরামে আলোচিত হলে সঠিক দিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে আশা করি।