বুধবার | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের মানববন্ধন Logo গণমাধ্যমে লেখালেখি: পেশাগত নীতিনৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ – ড. মাহরুফ চৌধুরী Logo স্টুডেন্ট স্কয়ার: শিক্ষার্থী থেকেই টেকসই পরিবর্তনের সূচনা Logo কেউ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ করলে আইনি ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo এনবিআরের ওয়েবসাইটে এইচএস কোডভিত্তিক আমদানি তথ্য প্রকাশ Logo গাজীপুর-৪ আসনের দুই প্রার্থীর হাতে তৌফিক সুলতান স্যারের ‘জ্ঞানের জগৎ’ বই Logo পবিত্র লাইলাতুল বরাত আনজুমান ট্রাস্ট’র ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচি Logo পলাশবাড়ীতে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ Logo পলাশবাড়ীর কালিবাড়ী হাটে পেটে ও মাথায় ছুরিকাঘাতে আহত মুরগীর ব্যবসায়ী Logo ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে: উপ-উপাচার্য

দীর্ঘ ১৭ বছর প্রকাশ্যে চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতে ইসলামীর শোকরানা সমাবেশে জনস্রোত

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৪৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১১ আগস্ট ২০২৪
  • ৮২০ বার পড়া হয়েছে

বিপ্লবী ছাত্র-জনতার রক্তস্রোত আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট স্বৈরশাসকের পতন ও গণতন্ত্রের দ্বার উন্মোচন হওয়ায় চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শোকরানা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে তিনটায় চুয়াডাঙ্গা শহরের শহিদ হাসান চত্বরে দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রকাশ্যে বিনা পুলিশি বাঁধায় চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াত এ সমাবেশ করে। এর আগে গত বছর ৩০ জুলাই চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের কাছে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিলো জেলা জামায়াত। তবে তখনও তাদেরকে সেই অনুমতি দেয়া হয়নি। কিছু গণমাধ্যমে সেই সংবাদ প্রকাশিত হলে দৈনিক সময়ের সমীকরণের নিজস্ব প্রতিবেদক ও জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভীসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে তখন হেনস্তা ও নানা প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়। সেই জামায়াত ইসলামী কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা ছাড়াই দীর্ঘ ১৭ বছর পর চুয়াডাঙ্গা শহরের বুকে বিশাল সমাবেশ করল। সমাবেশ ঘিরে চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র শহিদ হাসান চত্বর অল্প সময়ের জন্য লোকেলোকারণ্য হয়ে ওঠে। পুরাতন হাসপাতাল রোডেও বিশাল মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কানায় কানায় পূর্ণ হয় বড় বাজার শহিদ হাসান চত্বর মুক্ত মঞ্চ।

শোকরানা সমাবেশের শুরুতেই পবিত্র কুরআন থেকে পাঠ করেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মহিউদ্দীন। এরপর দীর্ঘদিন পর চুয়াডাঙ্গার মাটিতে সজোরে মাইকে জামায়াতের দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। দলীয় সংগীত পরিবেশেনা করেন মাসুম বিল্লাহ ও তার দল। সমাবেশে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির অ্যাড. মো. রহুল আমিন।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাফিজুর রহমান, মো. কামাল উদ্দিন, মো. আব্দুর রউফ, অ্যাডভোকেট মুসলিম উদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মহসিন এমদাদ, ইবির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. আব্দুল কাদের, অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল ও সাবেক জেলা জামায়াতের আমির মো. আনোয়ারুল হক মালিক।

অন্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মো. বেলাল হোসেন, আলমডাঙ্গা পৌর আমির মো. মাহের আলী, চুয়াডাঙ্গা পৌর আমির অ্যাডভোকেট হাসিবুল ইসলাম, দর্শনা থানা আমির মাওলানা রেজাউল করিম, জিএ থানা আমির মো. আব্বাস উদ্দিন, জীবননগর উপজেলা আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা আমির মো. নায়েব আলী ও আলমডাঙ্গা উপজেলা আমির মো. দারুসসালাম।

শোকরানা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমির অ্যাড. মো. রহুল আমিন বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, আমাদের মুখের ভাষা হনন করেছিল। আমাদের স্বাধীনতাকে তারা হনন করেছিল। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য আপনারা বন্ধ করেছিলেন। আমাদের চাকরি আপনারা বন্ধ করেছিলেন। আওয়ামী লীগ বলে তারা স্বাধীনতা এনেছে। আমরা বলি বাংলাদেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষ স্বাধীনতা এনেছিল। হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর বিডিআর বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন আর্মি অফিসারকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্যকে আপনি আবার নিভিয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের যতগুলো মন্দিরে আক্রমণ হয়েছে, তদন্ত করে দেখা গেছে সবগুলোর পিছনে আওয়ামী লীগ দায়ী। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু মানুষের যত সম্পদ লুণ্ঠন হয়েছে, তার পিছনে আওয়ামী লীগই দায়ী। আজকে জামায়াত ইসলাম, বিএনপি, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা প্রত্যেকটা মন্দিরে পাহারা বসিয়েছে। আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ইঞ্চি আমাদের জন্য আমানত। সংখ্যালঘু মানুষ, বাংলাদেশের ব্যাংক-বীমা আমাদের জন্য আমানত। বাংলাদেশের স্থাপনা আমাদের জন্য আমানত। এই আমানতকে কেউ যদি নস্যাৎ করতে চায়, তার বিরুদ্ধে জামায়াত এবং ছাত্রশিবির প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

অ্যাড. রুহুল আমিন আরও বলেন, জামায়াত এ দেশে নিরাপত্তা, সুশিক্ষা দিতে চায়। জামায়াত আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠাতা করতে চায়। আপনাদের কাছে কেউ চাঁদা চাইলে আমাদের কাছে জানাবেন। যারা বসন্তের কোকিল হয়ে রাজনীতি দিয়ে আখের গোছাতে চায়, তাদের থেকে দূরে থাকবেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের মানববন্ধন

দীর্ঘ ১৭ বছর প্রকাশ্যে চুয়াডাঙ্গায় জামায়াতে ইসলামীর শোকরানা সমাবেশে জনস্রোত

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৪৭ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১১ আগস্ট ২০২৪

বিপ্লবী ছাত্র-জনতার রক্তস্রোত আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট স্বৈরশাসকের পতন ও গণতন্ত্রের দ্বার উন্মোচন হওয়ায় চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শোকরানা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে তিনটায় চুয়াডাঙ্গা শহরের শহিদ হাসান চত্বরে দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রকাশ্যে বিনা পুলিশি বাঁধায় চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াত এ সমাবেশ করে। এর আগে গত বছর ৩০ জুলাই চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের কাছে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিলো জেলা জামায়াত। তবে তখনও তাদেরকে সেই অনুমতি দেয়া হয়নি। কিছু গণমাধ্যমে সেই সংবাদ প্রকাশিত হলে দৈনিক সময়ের সমীকরণের নিজস্ব প্রতিবেদক ও জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভীসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে তখন হেনস্তা ও নানা প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়। সেই জামায়াত ইসলামী কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা ছাড়াই দীর্ঘ ১৭ বছর পর চুয়াডাঙ্গা শহরের বুকে বিশাল সমাবেশ করল। সমাবেশ ঘিরে চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র শহিদ হাসান চত্বর অল্প সময়ের জন্য লোকেলোকারণ্য হয়ে ওঠে। পুরাতন হাসপাতাল রোডেও বিশাল মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কানায় কানায় পূর্ণ হয় বড় বাজার শহিদ হাসান চত্বর মুক্ত মঞ্চ।

শোকরানা সমাবেশের শুরুতেই পবিত্র কুরআন থেকে পাঠ করেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মহিউদ্দীন। এরপর দীর্ঘদিন পর চুয়াডাঙ্গার মাটিতে সজোরে মাইকে জামায়াতের দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। দলীয় সংগীত পরিবেশেনা করেন মাসুম বিল্লাহ ও তার দল। সমাবেশে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির অ্যাড. মো. রহুল আমিন।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাফিজুর রহমান, মো. কামাল উদ্দিন, মো. আব্দুর রউফ, অ্যাডভোকেট মুসলিম উদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মহসিন এমদাদ, ইবির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. আব্দুল কাদের, অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল ও সাবেক জেলা জামায়াতের আমির মো. আনোয়ারুল হক মালিক।

অন্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মো. বেলাল হোসেন, আলমডাঙ্গা পৌর আমির মো. মাহের আলী, চুয়াডাঙ্গা পৌর আমির অ্যাডভোকেট হাসিবুল ইসলাম, দর্শনা থানা আমির মাওলানা রেজাউল করিম, জিএ থানা আমির মো. আব্বাস উদ্দিন, জীবননগর উপজেলা আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা আমির মো. নায়েব আলী ও আলমডাঙ্গা উপজেলা আমির মো. দারুসসালাম।

শোকরানা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের আমির অ্যাড. মো. রহুল আমিন বলেন, আওয়ামী লীগ আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, আমাদের মুখের ভাষা হনন করেছিল। আমাদের স্বাধীনতাকে তারা হনন করেছিল। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য আপনারা বন্ধ করেছিলেন। আমাদের চাকরি আপনারা বন্ধ করেছিলেন। আওয়ামী লীগ বলে তারা স্বাধীনতা এনেছে। আমরা বলি বাংলাদেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষ স্বাধীনতা এনেছিল। হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর বিডিআর বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন আর্মি অফিসারকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্যকে আপনি আবার নিভিয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের যতগুলো মন্দিরে আক্রমণ হয়েছে, তদন্ত করে দেখা গেছে সবগুলোর পিছনে আওয়ামী লীগ দায়ী। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু মানুষের যত সম্পদ লুণ্ঠন হয়েছে, তার পিছনে আওয়ামী লীগই দায়ী। আজকে জামায়াত ইসলাম, বিএনপি, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা প্রত্যেকটা মন্দিরে পাহারা বসিয়েছে। আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ইঞ্চি আমাদের জন্য আমানত। সংখ্যালঘু মানুষ, বাংলাদেশের ব্যাংক-বীমা আমাদের জন্য আমানত। বাংলাদেশের স্থাপনা আমাদের জন্য আমানত। এই আমানতকে কেউ যদি নস্যাৎ করতে চায়, তার বিরুদ্ধে জামায়াত এবং ছাত্রশিবির প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

অ্যাড. রুহুল আমিন আরও বলেন, জামায়াত এ দেশে নিরাপত্তা, সুশিক্ষা দিতে চায়। জামায়াত আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠাতা করতে চায়। আপনাদের কাছে কেউ চাঁদা চাইলে আমাদের কাছে জানাবেন। যারা বসন্তের কোকিল হয়ে রাজনীতি দিয়ে আখের গোছাতে চায়, তাদের থেকে দূরে থাকবেন।