সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সোমবার ঢাকায় আন্তর্জাতিক হার্ট ফেলিওর (হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতা) বিষয়ে উন্নত চিকিৎসা সম্মেলন ও বৈজ্ঞানিক সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কেবল চিকিৎসা নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে এদেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে দেশব্যাপী ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতেও সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. শফিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্যসহ দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা চিকিৎসকগণ এতে উপস্থিত ছিলেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী দেশে হৃদরোগ চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আধুনিক ইমেজিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরি এবং রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন কম খরচে হার্টের উন্নত চিকিৎসা পায়, সে লক্ষ্যে আপনাদের মতো দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করতে হবে। তাহলে রোগীরাই চিকিৎসার জন্য আপনাদের কাছে ভিড় করবে এবং এতে আপনারাও গর্বিত বোধ করবেন।
তিনি আরও বলেন, দেশে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে সরকার বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্যখাতে নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত গৌরবের।
তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে খুব কঠিন পথে আছি। এদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি প্রধানত চিকিৎসকদের সহযোগিতা ছাড়া দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ কম খরচে হার্টের উন্নত চিকিৎসা পাবে।
এ লক্ষ্যে চিকিৎসকদের আরও আন্তরিকভাবে সেবামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
দিনব্যাপী বৈজ্ঞানিক সেশন, প্যানেল আলোচনা এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের বক্তব্যে বলা হয়, দেশে হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা এবং সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।






















































