রবিবার | ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo এমইএস কলেজ পরিদর্শনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি Logo যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় বড় অগ্রগতি Logo সন্ত্রাসী হামলায় আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল Logo উৎসবমুখর পরিবেশে ইবির আইসিটি বিভাগের রজতজয়ন্তী উদযাপন Logo কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আগাম নির্বাচনের কথা ভাবছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী Logo ঢাকা-৯ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ডা. তাসনিম জারা Logo মার্কিন ভিসা বন্ডের প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করার আহ্বান বাংলাদেশের Logo প্রাচীন জনপদ কাপাসিয়ার পুনর্জাগরণ ও পরিকল্পিত পর্যটন নগরীর স্বপ্ন Logo নির্বাচনী ইস্তেহারে শিক্ষার সুস্পষ্ট রূপরেখা চাই Logo চাঁদপুর পৌর ৭নং ওয়ার্ড মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

প্রাচীন জনপদ কাপাসিয়ার পুনর্জাগরণ ও পরিকল্পিত পর্যটন নগরীর স্বপ্ন

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০২:০২:৫৯ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  • ৭০৯ বার পড়া হয়েছে
ইতিহাসের গহিনে ডুব দিলে কাপাসিয়ার পরিচয় মেলে কার্পাস তুলার উর্বর ভূমি হিসেবে, যার নামেই এই জনপদের জন্ম। প্রাচীন মসলিন বাণিজ্যের হৃদয়কেন্দ্র ছিল এটি, গ্রিক থেকে আরব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এর বাণিজ্যিক সূত্র। সময়ের করাল গ্রাসে হারিয়ে যাওয়া সেই গৌরব আজ শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ। কিন্তু এই জনপদের মাটি জন্ম দিয়েছে ইতিহাসের মহানায়কদের – স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ থেকে শুরু করে সংবিধান প্রণেতা ফকির শাহাবুদ্দীন পর্যন্ত। অথচ বিস্ময়কর পরিহাস, গাজীপুর জেলার অন্তর্গত শ্রীপুর, কালিয়াকৈর যখন পৌরসভার মর্যাদায় ভূষিত হয়েছে, কাপাসিয়া আজও রয়ে গেছে উপজেলা হিসেবে, উন্নয়নের অনেক সম্ভাবনা আজও অপেক্ষমান।
প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরান ভাণ্ডার
কাপাসিয়ার প্রাণবন্ত উপস্থিতি টের পাওয়া যায় তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে। শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদের মিতালী এই জনপদকে দিয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য, ধাঁধারচরের রহস্যময় সৌন্দর্য পর্যটকদের জন্য হতে পারে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। সুলতানপুর শাহী মসজিদের প্রাচীন স্থাপত্য ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর দলোহাদীর লোহার খনি মনে করিয়ে দেয় প্রাক-ঔপনিবেশিক শিল্প ঐতিহ্যের কথা। কাপাসিয়ার সবুজ-শ্যামল গ্রামীণ পরিবেশ, বহু দিঘি ও জলাভূমি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য হতে পারে স্বর্গরাজ্য স্বপ্নের ওয়েল্ফশন নগরী। এই সমস্ত প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পদ সুপরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে কাপাসিয়া পর্যটন মানচিত্রে উঠে আসতে পারে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে।
একটি পরিকল্পিত পর্যটন নগরীর রূপকল্প
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মু. সালাহউদ্দিন আইউবী-এর “আকর্ষণীয় পরিকল্পিত পর্যটন নগরী” গড়ে তোলার অঙ্গীকার শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, এটি কাপাসিয়ার জন্য একটি সামগ্রিক উন্নয়নের রোডম্যাপ। এই রূপকল্প বাস্তবায়ন করতে প্রথমেই প্রয়োজন কাপাসিয়াকে পৌরসভার মর্যাদা দেয়া, যার জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই জনপদের বাসিন্দারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তবে পৌরসভা ভবন কাপাসিয়ার প্রাণকেন্দ্র আমরাইদ বা তরুল হওয়া টা সময়ের দাবী কারণ এই স্থানটি কাপাসিয়া মাঝামাঝি স্থান এই দুইটি স্থান যেমন অসম্ভব সুন্দর তেমন রয়েছে সরকারি অনেক জমি ও গজার বন। এরপর আসে সমন্বিত মাস্টারপ্লান প্রণয়নের অপরিহার্যতা – যেখানে পর্যটন, আবাসন, পরিবহন ও পরিবেশের সমন্বয় ঘটবে সুপরিকল্পিতভাবে। নদীকেন্দ্রিক পর্যটন কমপ্লেক্স গড়ে তোলা, ঐতিহাসিক স্থানসমূহ সংরক্ষণ ও প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন, এবং ইকো-ট্যুরিজমের মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা প্রদান – এই সবই হতে পারে কাপাসিয়ার পর্যটন বিকাশের স্তম্ভ।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও যুবসমাজের সম্ভাবনা
কাপাসিয়াকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয়ভাবেই সৃষ্টি হবে হাজার হাজার কর্মসংস্থান – হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে গাইডিং, ট্রান্সপোর্ট, হস্তশিল্প উৎপাদন ও বিপণন পর্যন্ত। স্থানীয় যুবসমাজ পাবে নতুন নতুন পেশাগত সম্ভাবনা, বেকারত্বের অভিশাপ কেটে যেতে শুরু করবে ধীরে ধীরে। কৃষিপণ্য বিপণনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, স্থানীয় রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে যা পুনরায় এই জনপদের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। তাজউদ্দীন আহমদ ট্রায়াঙ্গেল ধারণার মাধ্যমে কাপাসিয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা-গাজীপুর-ময়মনসিংহ অঞ্চলে একটি বিশেষ পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলা গেলে গোটা অঞ্চলের অর্থনৈতিক চেহারাই বদলে যেতে পারে।
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও ভবিষ্যৎ পথযাত্রা
কাপাসিয়ার পুনর্জাগরণের পথে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধ দখল দূরীকরণ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরণ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব মডেল অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় জনগণের মালিকানাভিত্তিক পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুললে উন্নয়নের সুফল সরাসরি সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছাবে। পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা পায় এবং টেকসই পর্যটন বিকাশ ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণার মাধ্যমে কাপাসিয়ার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন, যা এই জনপদের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে দেবে সঠিক দিকনির্দেশনা।
স্বপ্নের বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা
মু. সালাহউদ্দিন আইউবী-এর এই অঙ্গীকার কাপাসিয়াবাসীর মনে যে আশার সঞ্চার করেছে, তার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামাজিক ঐক্যের উপর। কাপাসিয়ার পুনর্জাগরণ শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চলের উন্নয়ন নয়, এটি হবে বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সঙ্গে সমন্বয়ের এক জীবন্ত উদাহরণ। ইতিহাসের পাতায় কার্পাসের সোনালি আঁশের মতোই উজ্জ্বল হোক কাপাসিয়ার ভবিষ্যৎ, যেখানে অতীতের গৌরব ও বর্তমানের সম্ভাবনা মিলে তৈরি করবে উন্নয়নের নতুন মাইলফলক। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে কাপাসিয়াকে বাংলাদেশের পর্যটন মানচিত্রে অনন্য স্থান দিতে, গড়ে তুলতে একটি আকর্ষণীয় পরিকল্পিত ওয়েলফশন পর্যটন নগরী।
তৌফিক সুলতান,প্রভাষক – ব্রেভ জুবিলেন্ট স্কলার্স অফ মনোহরদী মডেল কলেজ,(বি জে এস এম মডেল কলেজ)মনোহরদী, নরসিংদী।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক – ওয়েলফশন মানবকল্যাণ সংঘ,কাপাসিয়া,গাজীপুর।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

এমইএস কলেজ পরিদর্শনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি

প্রাচীন জনপদ কাপাসিয়ার পুনর্জাগরণ ও পরিকল্পিত পর্যটন নগরীর স্বপ্ন

আপডেট সময় : ০২:০২:৫৯ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
ইতিহাসের গহিনে ডুব দিলে কাপাসিয়ার পরিচয় মেলে কার্পাস তুলার উর্বর ভূমি হিসেবে, যার নামেই এই জনপদের জন্ম। প্রাচীন মসলিন বাণিজ্যের হৃদয়কেন্দ্র ছিল এটি, গ্রিক থেকে আরব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এর বাণিজ্যিক সূত্র। সময়ের করাল গ্রাসে হারিয়ে যাওয়া সেই গৌরব আজ শুধু ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ। কিন্তু এই জনপদের মাটি জন্ম দিয়েছে ইতিহাসের মহানায়কদের – স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ থেকে শুরু করে সংবিধান প্রণেতা ফকির শাহাবুদ্দীন পর্যন্ত। অথচ বিস্ময়কর পরিহাস, গাজীপুর জেলার অন্তর্গত শ্রীপুর, কালিয়াকৈর যখন পৌরসভার মর্যাদায় ভূষিত হয়েছে, কাপাসিয়া আজও রয়ে গেছে উপজেলা হিসেবে, উন্নয়নের অনেক সম্ভাবনা আজও অপেক্ষমান।
প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরান ভাণ্ডার
কাপাসিয়ার প্রাণবন্ত উপস্থিতি টের পাওয়া যায় তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে। শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদের মিতালী এই জনপদকে দিয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য, ধাঁধারচরের রহস্যময় সৌন্দর্য পর্যটকদের জন্য হতে পারে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। সুলতানপুর শাহী মসজিদের প্রাচীন স্থাপত্য ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর দলোহাদীর লোহার খনি মনে করিয়ে দেয় প্রাক-ঔপনিবেশিক শিল্প ঐতিহ্যের কথা। কাপাসিয়ার সবুজ-শ্যামল গ্রামীণ পরিবেশ, বহু দিঘি ও জলাভূমি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য হতে পারে স্বর্গরাজ্য স্বপ্নের ওয়েল্ফশন নগরী। এই সমস্ত প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পদ সুপরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে কাপাসিয়া পর্যটন মানচিত্রে উঠে আসতে পারে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে।
একটি পরিকল্পিত পর্যটন নগরীর রূপকল্প
গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মু. সালাহউদ্দিন আইউবী-এর “আকর্ষণীয় পরিকল্পিত পর্যটন নগরী” গড়ে তোলার অঙ্গীকার শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, এটি কাপাসিয়ার জন্য একটি সামগ্রিক উন্নয়নের রোডম্যাপ। এই রূপকল্প বাস্তবায়ন করতে প্রথমেই প্রয়োজন কাপাসিয়াকে পৌরসভার মর্যাদা দেয়া, যার জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই জনপদের বাসিন্দারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তবে পৌরসভা ভবন কাপাসিয়ার প্রাণকেন্দ্র আমরাইদ বা তরুল হওয়া টা সময়ের দাবী কারণ এই স্থানটি কাপাসিয়া মাঝামাঝি স্থান এই দুইটি স্থান যেমন অসম্ভব সুন্দর তেমন রয়েছে সরকারি অনেক জমি ও গজার বন। এরপর আসে সমন্বিত মাস্টারপ্লান প্রণয়নের অপরিহার্যতা – যেখানে পর্যটন, আবাসন, পরিবহন ও পরিবেশের সমন্বয় ঘটবে সুপরিকল্পিতভাবে। নদীকেন্দ্রিক পর্যটন কমপ্লেক্স গড়ে তোলা, ঐতিহাসিক স্থানসমূহ সংরক্ষণ ও প্রদর্শনী কেন্দ্র স্থাপন, এবং ইকো-ট্যুরিজমের মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা প্রদান – এই সবই হতে পারে কাপাসিয়ার পর্যটন বিকাশের স্তম্ভ।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও যুবসমাজের সম্ভাবনা
কাপাসিয়াকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয়ভাবেই সৃষ্টি হবে হাজার হাজার কর্মসংস্থান – হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে গাইডিং, ট্রান্সপোর্ট, হস্তশিল্প উৎপাদন ও বিপণন পর্যন্ত। স্থানীয় যুবসমাজ পাবে নতুন নতুন পেশাগত সম্ভাবনা, বেকারত্বের অভিশাপ কেটে যেতে শুরু করবে ধীরে ধীরে। কৃষিপণ্য বিপণনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, স্থানীয় রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে যা পুনরায় এই জনপদের উন্নয়নে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। তাজউদ্দীন আহমদ ট্রায়াঙ্গেল ধারণার মাধ্যমে কাপাসিয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা-গাজীপুর-ময়মনসিংহ অঞ্চলে একটি বিশেষ পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলা গেলে গোটা অঞ্চলের অর্থনৈতিক চেহারাই বদলে যেতে পারে।
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও ভবিষ্যৎ পথযাত্রা
কাপাসিয়ার পুনর্জাগরণের পথে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধ দখল দূরীকরণ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরণ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব মডেল অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় জনগণের মালিকানাভিত্তিক পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুললে উন্নয়নের সুফল সরাসরি সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছাবে। পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা পায় এবং টেকসই পর্যটন বিকাশ ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণার মাধ্যমে কাপাসিয়ার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন, যা এই জনপদের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে দেবে সঠিক দিকনির্দেশনা।
স্বপ্নের বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা
মু. সালাহউদ্দিন আইউবী-এর এই অঙ্গীকার কাপাসিয়াবাসীর মনে যে আশার সঞ্চার করেছে, তার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামাজিক ঐক্যের উপর। কাপাসিয়ার পুনর্জাগরণ শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চলের উন্নয়ন নয়, এটি হবে বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সঙ্গে সমন্বয়ের এক জীবন্ত উদাহরণ। ইতিহাসের পাতায় কার্পাসের সোনালি আঁশের মতোই উজ্জ্বল হোক কাপাসিয়ার ভবিষ্যৎ, যেখানে অতীতের গৌরব ও বর্তমানের সম্ভাবনা মিলে তৈরি করবে উন্নয়নের নতুন মাইলফলক। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে কাপাসিয়াকে বাংলাদেশের পর্যটন মানচিত্রে অনন্য স্থান দিতে, গড়ে তুলতে একটি আকর্ষণীয় পরিকল্পিত ওয়েলফশন পর্যটন নগরী।
তৌফিক সুলতান,প্রভাষক – ব্রেভ জুবিলেন্ট স্কলার্স অফ মনোহরদী মডেল কলেজ,(বি জে এস এম মডেল কলেজ)মনোহরদী, নরসিংদী।
প্রধান নির্বাহী পরিচালক – ওয়েলফশন মানবকল্যাণ সংঘ,কাপাসিয়া,গাজীপুর।