সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর বিশেষ অভিযানে জাহাঙ্গীর বাহিনীর এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কয়রা উপজেলা ও মোংলা থানা এলাকায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। এ সময় মাটির নিচে পুঁতে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সুন্দরবনে পুনরায় দস্যু তৎপরতা শুরুর চেষ্টা করছিল একটি চক্র। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, আউটপোস্ট নলিয়ান, স্টেশন কয়রা এবং পুলিশের সমন্বয়ে কয়রা থানার নারায়ণপুর এলাকায় যৌথ অভিযান চালানো হয়। এতে দস্যু বাহিনীর সদস্য আফজাল সরদার (৩২) আটক হন।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেলা ১১টার দিকে মোংলা থানাধীন পাশাখালী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ১টি শটগান, ১টি একনলা বন্দুক, ২১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ড জানায়, সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলে আতঙ্কিত হয়ে আফজাল অস্ত্রগুলো লুকিয়ে কয়রায় আত্মগোপন করেছিলেন।
আটক আফজাল সরদার খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতি এবং ডাকাত দলের জন্য অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ করে আসছিলেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে কয়রা ও ডুমুরিয়া থানায় মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আটক ব্যক্তি ও জব্দকৃত অস্ত্রের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
































