জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতেই দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর সদর উপজেলার ৭নং তরপুরচন্ডী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এডভোকেট মোঃ আলম খান (মঞ্জু) স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোঃ আলম খান চাঁদপুর ল’ কলেজের প্রভাষক, আব্দুস ছাত্তার খান ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী। পাশাপাশি তিনি চাঁদপুর জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সরকারি কৌশলী (ভিপি-জিপি)।
তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতায় উন্নয়ন, সুশাসন ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে ৭নং তরপুরচন্ডী ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ইউনিয়নে রূপ দেওয়াই হবে তার লক্ষ্য। তিনি নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের প্রতিটি রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণ এবং সংস্কারের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবেন, যাতে মানুষের চলাচল সহজ, নিরাপদ ও টেকসই হয়। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে মেম্বারদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঠিক সেবা নিশ্চিত করতে একটি স্থায়ী ও আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, তরপুরচন্ডী ইউনিয়নে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় বিদ্যালয়মুখী করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এসএসসি পাসের পর ইউনিয়নে কোনো কলেজ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখা থেকে ঝরে পড়ে। এ কারণে তরপুরচন্ডী জি. এম. ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়কে কলেজে রূপান্তর এবং আলী দাখিল মাদ্রাসাকে ফাজিল পর্যায়ে উন্নীত করার জন্য তিনি উদ্যোগ নেবেন, ইনশাআল্লাহ।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে এডভোকেট আলম খান (মঞ্জু) বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। দল-মত নির্বিশেষে সকলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখাকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন বলেও জানান।
পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন কর্মসূচি চালু করে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলা হবে। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নতুন টিউবওয়েল স্থাপন ও পানির প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া ইউনিয়নের নাগরিক সেবা সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল সেবা চালু করা এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি। সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।


















































