বৃহস্পতিবার | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উন্নতি হয়েছে: বিশ্বব্যাংক Logo আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন চাঁদপুর-২ আসনে লেবার পার্টির নাসিমা নাজনীন সরকার Logo আমরা বিএনপি পরিবারের উদ্যোগে সাতক্ষীরার ৯নং ওয়ার্ডে তারেক রহমানের ৮ দফা রাষ্ট্র বিনির্মাণ কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ Logo আবেদনের শর্ত পূরণ ছাড়াই খুবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি Logo দায়মুক্তি আইনের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জে প্রতিবাদ, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ক্যাবের Logo চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহে প্রতারক চক্রের বেপরোয়া তান্ডব, চাকরীর প্রলোভনে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর বিপাকে ভুক্তভোগী পরিবার, থানায় অভিযোগ দায়ের Logo সাতক্ষীরায় ইয়াবা, অবৈধ অর্থ ও অস্ত্রসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইয়াসিন আরাফাতসহ  গ্রেফতার- ৩ Logo নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫ নেতা কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার Logo ইরান বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের Logo কোর্স ফি বৃদ্ধি ও ছাত্র প্রতিনিধি ইস্যুতে খুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নওগাঁয় নিষিদ্ধ জালে নিধন হচ্ছে দেশিয় প্রজাতির মাছ

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:০৪ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
  • ৭৪২ বার পড়া হয়েছে

জেলার মান্দা উপজেলার আত্রাই ও শিব নদ, বিলহিলনা, বিলমান্দা এবং আশপাশের বিভিন্ন খাল-বিলে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ রিংজাল, ঘেরজাল, কচাল ও ঘূর্ণিজাল। এসব জালে প্রতিনিয়ত ধরা হচ্ছে বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেল, টেংরা, পুঁটি, শিং, কৈ, চিংড়ি ও গুঁচিসহ নানা প্রজাতির দেশিয় মাছের পোনা।

এতে একদিকে যেমন মাছের উৎপাদন কমছে, তেমনি বিলুপ্তির মুখে পড়ছে বহু দেশিয় প্রজাতি মাছের ভাণ্ডার। এরই মধ্যে হারিয়ে যেতে বসেছে পাতাশি, বাঁশপাতাড়ি, ইটা, গাগর, কালাবাউস, দারিসহ কিছু দুর্লভ প্রজাতি মাছ। আত্রাই নদীতে এখন টেংরা মাছ আর তেমন দেখা যায় না।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পোনা মাছ নিধন ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চালানোসহ নিষিদ্ধ জালের বিক্রি বন্ধ এবং জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। তা না হলে একদিন হয়তো দেশিয় প্রজাতির মাছ থাকবে কেবল স্মৃতিতে।

উপজেলার দ্বারিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমে গেলে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মা মাছ শিকারের মহোৎসব চলে। বর্ষা এলেই শুরু হয় পোনা মাছ নিধন। কারেন্ট, রিংজাল, কচালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করছে শিকারিরা। মৎস্য অফিসের তেমন কোনো তদারকি নেই। দিন দিন কমে যাচ্ছে মাছ।
একই অভিযোগ করেন গোপালপুর বাজারের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম শহীদ। তিনি বলেন, বিলমান্দা থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে দেশিয় মাছের পোনা ধরে গোপালপুরসহ বিভিন্ন বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। মা মাছও ধরা হচ্ছে এসব জালে। এভাবে চললে আগামিতে দেশিয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার পারিলাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ওমর ফারুক জানান, নিষিদ্ধ জালে প্রতিদিন বিলহিলনা থেকে ধরা হয় প্রচুর পরিমাণে দেশিয় জাতের পোনামাছ। এসব মাছ পারিলাডাঙ্গা আড়তে প্রকাশ্যে বেচাকেনা চলে। পরে এখান থেকে তা ছড়িয়ে পড়ে রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায়।

মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরার বিষয়টি উপজেলা মৎস্য অফিসকে অবহিত করেছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দিপংকর পাল বলেন, আগামী সপ্তাহে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হবে। এরপরও যদি কেউ নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উন্নতি হয়েছে: বিশ্বব্যাংক

নওগাঁয় নিষিদ্ধ জালে নিধন হচ্ছে দেশিয় প্রজাতির মাছ

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:০৪ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

জেলার মান্দা উপজেলার আত্রাই ও শিব নদ, বিলহিলনা, বিলমান্দা এবং আশপাশের বিভিন্ন খাল-বিলে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ রিংজাল, ঘেরজাল, কচাল ও ঘূর্ণিজাল। এসব জালে প্রতিনিয়ত ধরা হচ্ছে বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেল, টেংরা, পুঁটি, শিং, কৈ, চিংড়ি ও গুঁচিসহ নানা প্রজাতির দেশিয় মাছের পোনা।

এতে একদিকে যেমন মাছের উৎপাদন কমছে, তেমনি বিলুপ্তির মুখে পড়ছে বহু দেশিয় প্রজাতি মাছের ভাণ্ডার। এরই মধ্যে হারিয়ে যেতে বসেছে পাতাশি, বাঁশপাতাড়ি, ইটা, গাগর, কালাবাউস, দারিসহ কিছু দুর্লভ প্রজাতি মাছ। আত্রাই নদীতে এখন টেংরা মাছ আর তেমন দেখা যায় না।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পোনা মাছ নিধন ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চালানোসহ নিষিদ্ধ জালের বিক্রি বন্ধ এবং জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। তা না হলে একদিন হয়তো দেশিয় প্রজাতির মাছ থাকবে কেবল স্মৃতিতে।

উপজেলার দ্বারিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমে গেলে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মা মাছ শিকারের মহোৎসব চলে। বর্ষা এলেই শুরু হয় পোনা মাছ নিধন। কারেন্ট, রিংজাল, কচালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করছে শিকারিরা। মৎস্য অফিসের তেমন কোনো তদারকি নেই। দিন দিন কমে যাচ্ছে মাছ।
একই অভিযোগ করেন গোপালপুর বাজারের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম শহীদ। তিনি বলেন, বিলমান্দা থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে দেশিয় মাছের পোনা ধরে গোপালপুরসহ বিভিন্ন বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। মা মাছও ধরা হচ্ছে এসব জালে। এভাবে চললে আগামিতে দেশিয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার পারিলাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ওমর ফারুক জানান, নিষিদ্ধ জালে প্রতিদিন বিলহিলনা থেকে ধরা হয় প্রচুর পরিমাণে দেশিয় জাতের পোনামাছ। এসব মাছ পারিলাডাঙ্গা আড়তে প্রকাশ্যে বেচাকেনা চলে। পরে এখান থেকে তা ছড়িয়ে পড়ে রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায়।

মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরার বিষয়টি উপজেলা মৎস্য অফিসকে অবহিত করেছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দিপংকর পাল বলেন, আগামী সপ্তাহে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো হবে। এরপরও যদি কেউ নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।