মঙ্গলবার | ৩ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল Logo শতাধিক রোজাদারদের মুখে হাসি ফোটালেন বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান Logo পলাশবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মৃত্যু!! আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা Logo পলাশবাড়ী পৌর শহরে সড়কের গাছ চুরি চিহৃিন্ত চক্র আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী Logo এসিএস ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট চাপ্টার খুলনা ইউনিভার্সিটি’র নেতৃত্বে শাহরিয়ার-কমানিং Logo বেরোবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম নেতৃত্বে রোকনুজ্জামান – মামদুদুর  Logo শ্যামনগরে প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন Logo যশোর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে আসলো আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির মরদেহ Logo জীবননগরে পবিত্র মাহে রমজান মাস উপলক্ষে সুলভ মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন Logo ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

কচুয়ায় একটি রাস্তার অভাবে কৃষকদের জীবনযুদ্ধ

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মেঘদাইর পূর্ব মাঠ যেন এখন এক জলাবদ্ধতার নাম। রাস্তা না থাকায় কোমর সমান পানির ভেতর দিয়েই কৃষকদের হেঁটে চলাচল করতে হয়। বর্ষা এখনও পুরোপুরি শুরু না হলেও গ্রামের বেশ মাঠে আসা যাওয়ার পথ কোমর সমান পানিতে ডুবে আছে।

মেঘদাইরের পূর্ব মাঠ যেন একটি উল্টোপথের দুঃস্বপ্ন, মাঠে পানি নেই, কিন্তু মাঠে পৌঁছানোর একমাত্র রাস্তাটি ডুবে আছে জলে!

শতাধিক কৃষক ও এলাকাবাসী প্রতিদিন হাঁটেন সেই কোমর পানির মধ্য দিয়ে। খালি হাতে হেঁটে যাওয়া যতটা কঠিন, তার চেয়ে কঠিন মাথায় করে ফসল নিয়ে ফেরা। আর এই যাত্রাপথ যেন হয়ে উঠেছে এক চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের নাম।

কৃষক শফিউল্লাহ কষ্ট নিয়ে বলেন, জমিতে যাই হেঁটে, কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ফসল নিয়ে ফিরতে গেলে সেই পানির রাস্তা! কোমর পানি দিয়ে আসা যায় না। চোখের সামনে ফসল, কিন্তু কিছু করার নেই।

আরেকক কৃষক মো. রফিক ক্ষোভের সাথে বলেন, এই এলাকায় একমাত্র একজনের নৌকা আছে, তিনি যাতায়াত করেন। আর আমরা? কোমর পানি ঠেলে খালি হাতে যাই, কিন্তু ফসল নিয়ে ফিরতে পারি না।

এই দুর্ভোগ শুধু কৃষকদের নয়। রাস্তা না থাকায় আটকে পড়েছেন আশপাশের অন্তত আটটি পরিবারও।
তাসলিমা আক্তার বলেন, বর্ষা তো এখনও শুরুই হয়নি। অথচ আমাদের বাড়ির পথে এখনই কোমর পানি। বাইরে যেতে কাপড় ভিজিয়ে বের হতে হয়। মেয়েরা তো একরকম গৃহবন্দি হয়ে আছে।”

সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, যদি একটি সোজা রাস্তা থাকত, তাহলে মাঠ থেকে মাত্র ২ মিনিটেই ফসল ঘরে তোলা যেত। কিন্তু এখন সেই সামান্য রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়ে কৃষক ও এলাকাবাসীকে ঘুরে মেঘদাইর ব্রিকফিল্ড কিংবা বড় বাড়ির পাশ দিয়ে বহু কষ্টে ফিরতে হয়, যা সময় ও শ্রম দুটোই নষ্ট করছে।

রাস্তা মানে শুধু কংক্রিট নয়। রাস্তা মানে বাঁচার আশা, ঘরে ফসল পৌঁছানো, শিশুদের স্কুলে যাওয়া, নারীদের স্বাভাবিক চলাফেরা, আর মানুষের ন্যায্য অধিকার।

মাঠে ফসল আছে, শ্রম আছে, ঘরে ক্ষুধাও আছে, কিন্তু মাঝখানে নেই শুধু একটি রাস্তা। এই একটি রাস্তা পেলে কৃষকের মুখে হাসি ফিরবে, এলাকাবাসীর জীবনে ফিরবে স্বস্তি। এখন প্রয়োজন ‘প্রতিশ্রুতির’ নয়, ‘প্রতিষ্ঠার’ রাস্তার বাস্তব নির্মাণ।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী বলেন, এই রাস্তার কারণে কৃষক ও এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে যে কষ্ট ভোগ করছেন, তা নিরসনে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল

কচুয়ায় একটি রাস্তার অভাবে কৃষকদের জীবনযুদ্ধ

আপডেট সময় : ০৪:৩০:৩৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মেঘদাইর পূর্ব মাঠ যেন এখন এক জলাবদ্ধতার নাম। রাস্তা না থাকায় কোমর সমান পানির ভেতর দিয়েই কৃষকদের হেঁটে চলাচল করতে হয়। বর্ষা এখনও পুরোপুরি শুরু না হলেও গ্রামের বেশ মাঠে আসা যাওয়ার পথ কোমর সমান পানিতে ডুবে আছে।

মেঘদাইরের পূর্ব মাঠ যেন একটি উল্টোপথের দুঃস্বপ্ন, মাঠে পানি নেই, কিন্তু মাঠে পৌঁছানোর একমাত্র রাস্তাটি ডুবে আছে জলে!

শতাধিক কৃষক ও এলাকাবাসী প্রতিদিন হাঁটেন সেই কোমর পানির মধ্য দিয়ে। খালি হাতে হেঁটে যাওয়া যতটা কঠিন, তার চেয়ে কঠিন মাথায় করে ফসল নিয়ে ফেরা। আর এই যাত্রাপথ যেন হয়ে উঠেছে এক চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের নাম।

কৃষক শফিউল্লাহ কষ্ট নিয়ে বলেন, জমিতে যাই হেঁটে, কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ফসল নিয়ে ফিরতে গেলে সেই পানির রাস্তা! কোমর পানি দিয়ে আসা যায় না। চোখের সামনে ফসল, কিন্তু কিছু করার নেই।

আরেকক কৃষক মো. রফিক ক্ষোভের সাথে বলেন, এই এলাকায় একমাত্র একজনের নৌকা আছে, তিনি যাতায়াত করেন। আর আমরা? কোমর পানি ঠেলে খালি হাতে যাই, কিন্তু ফসল নিয়ে ফিরতে পারি না।

এই দুর্ভোগ শুধু কৃষকদের নয়। রাস্তা না থাকায় আটকে পড়েছেন আশপাশের অন্তত আটটি পরিবারও।
তাসলিমা আক্তার বলেন, বর্ষা তো এখনও শুরুই হয়নি। অথচ আমাদের বাড়ির পথে এখনই কোমর পানি। বাইরে যেতে কাপড় ভিজিয়ে বের হতে হয়। মেয়েরা তো একরকম গৃহবন্দি হয়ে আছে।”

সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হলো, যদি একটি সোজা রাস্তা থাকত, তাহলে মাঠ থেকে মাত্র ২ মিনিটেই ফসল ঘরে তোলা যেত। কিন্তু এখন সেই সামান্য রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়ে কৃষক ও এলাকাবাসীকে ঘুরে মেঘদাইর ব্রিকফিল্ড কিংবা বড় বাড়ির পাশ দিয়ে বহু কষ্টে ফিরতে হয়, যা সময় ও শ্রম দুটোই নষ্ট করছে।

রাস্তা মানে শুধু কংক্রিট নয়। রাস্তা মানে বাঁচার আশা, ঘরে ফসল পৌঁছানো, শিশুদের স্কুলে যাওয়া, নারীদের স্বাভাবিক চলাফেরা, আর মানুষের ন্যায্য অধিকার।

মাঠে ফসল আছে, শ্রম আছে, ঘরে ক্ষুধাও আছে, কিন্তু মাঝখানে নেই শুধু একটি রাস্তা। এই একটি রাস্তা পেলে কৃষকের মুখে হাসি ফিরবে, এলাকাবাসীর জীবনে ফিরবে স্বস্তি। এখন প্রয়োজন ‘প্রতিশ্রুতির’ নয়, ‘প্রতিষ্ঠার’ রাস্তার বাস্তব নির্মাণ।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী বলেন, এই রাস্তার কারণে কৃষক ও এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে যে কষ্ট ভোগ করছেন, তা নিরসনে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।