মঙ্গলবার | ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের মানববন্ধন Logo গণমাধ্যমে লেখালেখি: পেশাগত নীতিনৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ – ড. মাহরুফ চৌধুরী Logo স্টুডেন্ট স্কয়ার: শিক্ষার্থী থেকেই টেকসই পরিবর্তনের সূচনা Logo কেউ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ করলে আইনি ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo এনবিআরের ওয়েবসাইটে এইচএস কোডভিত্তিক আমদানি তথ্য প্রকাশ Logo গাজীপুর-৪ আসনের দুই প্রার্থীর হাতে তৌফিক সুলতান স্যারের ‘জ্ঞানের জগৎ’ বই Logo পবিত্র লাইলাতুল বরাত আনজুমান ট্রাস্ট’র ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচি Logo পলাশবাড়ীতে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ Logo পলাশবাড়ীর কালিবাড়ী হাটে পেটে ও মাথায় ছুরিকাঘাতে আহত মুরগীর ব্যবসায়ী Logo ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে: উপ-উপাচার্য

প্রিয় পশুটিকে সঠিক নিয়মে কোরবানি দিয়েছেন-তো?

কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক বিধান। মহান আল্লাহ তাআলার হুকুম। পবিত্র ঈদুল আজহার তিন ‍দিন যাদের কোরবানি করার সামর্থ্য থাকে, তাদের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজের সাথে যুক্ত করে কোরবানির নির্দেশ দিয়েছেন,

فَصَلِّ لِرَبِّکَ وَ انۡحَرۡ

তোমার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় করো ও কোরবানি করো। (সুরা কাওসার: ২)

কোরবানির সময়কাল হলো জিলহজের ১০ তারিখ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। এই তিন দিনের যেকোনো দিন কোরবানি করা জায়েজ। তবে প্রথম দিন কোরবানি করা সর্বাপেক্ষা উত্তম। তারপর দ্বিতীয় দিন। তারপর তৃতীয় দিন।

কোরবানির পশু জবাইয়ের সঠিক পদ্ধতি

জবাই করার সময় কোরবানির পশু কিবলামুখী করে শোয়াবে। তারপর ‘বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার’ বলে জবাই করবে। ইচ্ছাকৃত বিসমিল্লাহ না পড়লে জবাইকৃত পশু খাওয়া হারাম হয়ে যাবে, ভুলক্রমে বিসমিল্লাহ ছুটে গেলে তা খাওয়া জায়েজ।

কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় জবাইকারীর কোরবানিদাতাদের নাম জানা বা তাদের জন্য নিয়ত করা জরুরি নয়। কোরবানিদাতাদের নিয়তই যথেষ্ট।

জবাই করার সময় চারটি রগ কাটা জরুরি: ১. কণ্ঠনালি, ২. খাদ্যনালী, ৩. দুই পাশের মোটা রগ, যাকে ওয়াজদান বলা হয়। এই চারটি রগের মধ্যে যেকোনো তিনটি কাটা হলে কোরবানি শুদ্ধ হবে। কিন্তু যদি দুটি কাটা হয় তবে কোরবানি শুদ্ধ হবে না।

চারটি রগ কাটা হয়ে যাওয়ার পর রক্ত প্রবাহিত হয়ে পশুর দেহ নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। পশু নিস্তেজ হয়ে গেলে চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার কাজ শুরু করা যেতে পারে।

যে ভুল অনেকে করে থাকেন

অনেকে কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় এমন একটি ভুল করে থাকেন যে ভুলের কারণে কোরবানি হত্যায় পরিণত হতে পারে এবং কোরবানির সওয়াব নষ্ট হয়ে যেতে পারে। জবাইয়ের পর ১০/১৫ মিনিট সময় বাঁচাতে গিয়ে এ ভুলটি করা হয়। ভুলটি হলো, কোরবানির পশু জবাই করার পর স্বাভাবিক নিয়মে রক্ত প্রবাহিত হয়ে পশুর দেহ নিস্তেজ হওয়ার সুযোগ না দিয়ে ছুরি বা চাকুর আগা দিয়ে জবাইয়ের স্থানে অর্থাৎ পশুর ঘাড়ের দিকে মেরুদণ্ডে আঘাত করা। এ কারণে অনেক সময় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রক্ত প্রবাহিত হয়ে নিস্তেজ হওয়ার বদলে পশুটি হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায় এবং পশুটির দেহের প্রবাহিত রক্ত সঠিকভাবে বের হতে পারে না। ফলে পশুর মাংসের শিরা উপশিরায় রক্ত জমাট বেঁধে মাংস দূষিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতেও এ ধরনের দূষিত মাংস খেয়ে ক্যান্সারসহ বহু জটিল রোগ হতে পারে। তাই পশু জবাই যেন সঠিক পদ্ধতিতে হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের মানববন্ধন

প্রিয় পশুটিকে সঠিক নিয়মে কোরবানি দিয়েছেন-তো?

আপডেট সময় : ০২:১১:০২ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৭ জুন ২০২৫

কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক বিধান। মহান আল্লাহ তাআলার হুকুম। পবিত্র ঈদুল আজহার তিন ‍দিন যাদের কোরবানি করার সামর্থ্য থাকে, তাদের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। কোরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজের সাথে যুক্ত করে কোরবানির নির্দেশ দিয়েছেন,

فَصَلِّ لِرَبِّکَ وَ انۡحَرۡ

তোমার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় করো ও কোরবানি করো। (সুরা কাওসার: ২)

কোরবানির সময়কাল হলো জিলহজের ১০ তারিখ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। এই তিন দিনের যেকোনো দিন কোরবানি করা জায়েজ। তবে প্রথম দিন কোরবানি করা সর্বাপেক্ষা উত্তম। তারপর দ্বিতীয় দিন। তারপর তৃতীয় দিন।

কোরবানির পশু জবাইয়ের সঠিক পদ্ধতি

জবাই করার সময় কোরবানির পশু কিবলামুখী করে শোয়াবে। তারপর ‘বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার’ বলে জবাই করবে। ইচ্ছাকৃত বিসমিল্লাহ না পড়লে জবাইকৃত পশু খাওয়া হারাম হয়ে যাবে, ভুলক্রমে বিসমিল্লাহ ছুটে গেলে তা খাওয়া জায়েজ।

কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় জবাইকারীর কোরবানিদাতাদের নাম জানা বা তাদের জন্য নিয়ত করা জরুরি নয়। কোরবানিদাতাদের নিয়তই যথেষ্ট।

জবাই করার সময় চারটি রগ কাটা জরুরি: ১. কণ্ঠনালি, ২. খাদ্যনালী, ৩. দুই পাশের মোটা রগ, যাকে ওয়াজদান বলা হয়। এই চারটি রগের মধ্যে যেকোনো তিনটি কাটা হলে কোরবানি শুদ্ধ হবে। কিন্তু যদি দুটি কাটা হয় তবে কোরবানি শুদ্ধ হবে না।

চারটি রগ কাটা হয়ে যাওয়ার পর রক্ত প্রবাহিত হয়ে পশুর দেহ নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। পশু নিস্তেজ হয়ে গেলে চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার কাজ শুরু করা যেতে পারে।

যে ভুল অনেকে করে থাকেন

অনেকে কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় এমন একটি ভুল করে থাকেন যে ভুলের কারণে কোরবানি হত্যায় পরিণত হতে পারে এবং কোরবানির সওয়াব নষ্ট হয়ে যেতে পারে। জবাইয়ের পর ১০/১৫ মিনিট সময় বাঁচাতে গিয়ে এ ভুলটি করা হয়। ভুলটি হলো, কোরবানির পশু জবাই করার পর স্বাভাবিক নিয়মে রক্ত প্রবাহিত হয়ে পশুর দেহ নিস্তেজ হওয়ার সুযোগ না দিয়ে ছুরি বা চাকুর আগা দিয়ে জবাইয়ের স্থানে অর্থাৎ পশুর ঘাড়ের দিকে মেরুদণ্ডে আঘাত করা। এ কারণে অনেক সময় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রক্ত প্রবাহিত হয়ে নিস্তেজ হওয়ার বদলে পশুটি হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায় এবং পশুটির দেহের প্রবাহিত রক্ত সঠিকভাবে বের হতে পারে না। ফলে পশুর মাংসের শিরা উপশিরায় রক্ত জমাট বেঁধে মাংস দূষিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতেও এ ধরনের দূষিত মাংস খেয়ে ক্যান্সারসহ বহু জটিল রোগ হতে পারে। তাই পশু জবাই যেন সঠিক পদ্ধতিতে হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি।