রবিবার | ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা Logo পলাশবাড়ীর ফুটপাতেই ডাক্তারের উপহার, প্রশ্নবিদ্ধ স্বাস্থ্যখাতের নৈতিকতা! Logo পলাশবাড়ীর ফুটপাতেই ডাক্তারের উপহার, প্রশ্নবিদ্ধ স্বাস্থ্যখাতের নৈতিকতা! Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন -২০২৬ পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর আসনে  বিএনপি জামায়াত ভোটের  হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া  জাপা Logo ‘বাঁধন’ মওলানা ভাসানী হল ইউনিটের ২০২৬ সালের কার্যকরী কমিটি ঘোষণা Logo পলাশবাড়ীতে প্রতিবন্ধী সেবা সংস্থা ‘প্রসেস’এর ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত Logo আমরা বিএনপি পরিবার’উদ্যোগে সাতক্ষীরায় -৭নং ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে ৮ দফার বার্তা Logo সাংবাদিকদের ‘পোষা কুকুর’ মন্তব্যে তোলপাড়, তোপের মুখে বক্তব্য প্রত্যাহার ড. বদিউল আলমের Logo জীবননগরে কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বিতরণ Logo জনতার কাফেলা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে : আদিলুর রহমান খান

হাসিনা পালাইছে, আমরা ক্ষমতায় বসে পড়ছি! এমনটা ভাববেন না

  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১০ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  • ৮২২ বার পড়া হয়েছে

আল মাহমুদ দোলন (পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি)

গত ৫ আগষ্ট বেষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার  আন্দোলনের ফসল, আজকের এই  বোদা পৌর বিএনপির দ্বি- বার্ষিক সন্মেলন যা মুক্ত আকাশে মুক্ত বিহঙ্গে বোদা পৌর সন্মেলন করতে পারছি। ২০২৪ সালে ৫ আগষ্টের আগে আমদের সভা সমাবেশ তো দূরের কথা, নেতা কর্মীদের চায়ের দোকানেও চা পান করার সূযোগ দেয়নি আওয়ামী স্বৈরাচারের সন্ত্রাসী বাহিনী। তাই ৫ আগষ্টের পরে আমার দলের কিছু নেতা কর্মী মনে করছেন, হাসিনা পালাইছে আমরা ক্ষমতায় বসে পড়ছি, এমন টা ভাববেন না। বোদায় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে ফরহাদ হোসেন আজাদ।

মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারী) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্তরে পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ৫ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার  আন্দোলনের ফসল। আজকের এই  বোদা পৌর বিএনপির দ্বি- বার্ষিক সন্মেলন যা মুক্ত আকাশে, মুক্ত বিহঙ্গে বোদা পৌর সন্মেলন করতে পারছি। ২০২৪ সালে ৫ আগষ্টের আগে আমদের সভা সমাবেশ তো দূরের কথা, নেতা কর্মীদের চায়ের দোকানেও চা পান করার সূযোগ দেয়নি আওয়ামী স্বৈরাচারের সন্ত্রাসী বাহিনী। তাই ৫ আগষ্টের পরে আমার দলের কিছু নেতা কর্মী মনে করছেন, হাসিনা পালাইছে আমরা ক্ষমতায় বসে পড়ছি, এমন টা ভাববেন না। নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বোদা শহীদ মিনার চত্তরে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় বিএনপির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা ক্ষমতায় বসি নাই। ক্ষমতায় বসতে গেলে কি করতে হবে, আমাদের প্রিয় নেতার নির্দেশনা মানতে হবে। এটা ভুলে যাওয়া যাবে না।  স্বৈরাচার আ’লীগ লুটপাট, চাঁদা বাজি, করে দেশকে ধংশ করেছে। আমাদের তা করলে চলবে না। আমাদের কোনো নেতা-কর্মী যদি এসবে জড়ায়, আমার দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালায়, আমি বিন্দু পরিমাণ ছাঁড় দিবো না।

তিনি আরও বলেন, আমরা যেমনটি মাথা উঁচু করে বলতে পারি, আমাদের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন এবং তিনি নিজে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। বিএনপি একটি দেশপ্রেমিক দল যা আমরা গর্ব করে বলি।

আমরা শুনতে পাই একটি সংগঠনের শীর্ষ নেতা বলে বেড়াচ্ছেন বাংলাদেশে নাকি সেনাবাহিনী ও ঐ সংগঠনটি একমাত্র দেশপ্রেমিক। আর কোনো দেশপ্রেমিক নাই। এই পৌর সম্মেলন থেকে আমরা জানতে চাই, ১৯৭১ সালে আপনার এবং আপনার দলের কী ভূমিকা ছিলো! কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধকে অস্বীকার করতে চান।

তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে একটি সংগঠনের সংবাদপত্রে মন্তব্য করা হলো, যেসব মুসলমানগণ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের নাকি তওবা করে আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে। আপনারা কি ৭১ কে অস্বীকার করতে চান। তিনি বলেন ৭১ সালে শেখ মুজিবর রহমান তার স্ত্রী এবং সন্তানের মাসিক ভাতা কনফার্ম করে সমস্ত জাতিকে অন্ধকারে রেখে পাক হানাদার বাহিনীর কাছে আত্নসমর্পণ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করে প্রমাণ করেছেন তিনি দেশপ্রেমিক, তার দল দেশপ্রেমিক। তিনি আরও বলেন, নিজের দলকে দেশপ্রেমিক দাবী করা সেই সংগঠনকে বলতে চাই, স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ লক্ষ মা বোন ইজ্জত হারিয়েছিলো। আমার বাড়িতে সুন্দরী মেয়ে আছে, এটাতো পাক-হানাদার বাহিনী জানতো না,  কারা দেখিয়ে দিয়েছিলো সেসময়, আমরা জানি আপনারা এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না। পারবেন না বলে আপনারা বাংলাদেশ সৃষ্টির স্বাধীনতা যুদ্ধকে অস্বীকার করতে চান৷ বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস যদি আপনারা ভুলে যান, আপনাদের একদিন আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে৷
এ সময় তিনি অন্তবর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৩ বছরে ১৭ বার সংবিধান সংস্কার হয়েছে। নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করুন।

আব্দুস সামাদ তারার সভাপতিত্বে, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুর রহমান, জেলা বিএনপির আহবায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম সহ দলের নেতা কর্মীরা।

উল্লেখ্য, উক্ত বোদা পৌর  বিএনপির দ্বি বার্ষিক সন্মেলনে আব্দুস সামাদ তারা কে সভাপতি ও দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময়কে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি  গঠন করা হয়। কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়, আব্দুল্লাহ আল মারুফ অনু এবং  আরিফুর রহমান ( আরিফ) কে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেন ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকার: প্রেস উইংয়ের ব্যাখ্যা

হাসিনা পালাইছে, আমরা ক্ষমতায় বসে পড়ছি! এমনটা ভাববেন না

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১০ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

আল মাহমুদ দোলন (পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি)

গত ৫ আগষ্ট বেষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার  আন্দোলনের ফসল, আজকের এই  বোদা পৌর বিএনপির দ্বি- বার্ষিক সন্মেলন যা মুক্ত আকাশে মুক্ত বিহঙ্গে বোদা পৌর সন্মেলন করতে পারছি। ২০২৪ সালে ৫ আগষ্টের আগে আমদের সভা সমাবেশ তো দূরের কথা, নেতা কর্মীদের চায়ের দোকানেও চা পান করার সূযোগ দেয়নি আওয়ামী স্বৈরাচারের সন্ত্রাসী বাহিনী। তাই ৫ আগষ্টের পরে আমার দলের কিছু নেতা কর্মী মনে করছেন, হাসিনা পালাইছে আমরা ক্ষমতায় বসে পড়ছি, এমন টা ভাববেন না। বোদায় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে ফরহাদ হোসেন আজাদ।

মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারী) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্তরে পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ৫ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার  আন্দোলনের ফসল। আজকের এই  বোদা পৌর বিএনপির দ্বি- বার্ষিক সন্মেলন যা মুক্ত আকাশে, মুক্ত বিহঙ্গে বোদা পৌর সন্মেলন করতে পারছি। ২০২৪ সালে ৫ আগষ্টের আগে আমদের সভা সমাবেশ তো দূরের কথা, নেতা কর্মীদের চায়ের দোকানেও চা পান করার সূযোগ দেয়নি আওয়ামী স্বৈরাচারের সন্ত্রাসী বাহিনী। তাই ৫ আগষ্টের পরে আমার দলের কিছু নেতা কর্মী মনে করছেন, হাসিনা পালাইছে আমরা ক্ষমতায় বসে পড়ছি, এমন টা ভাববেন না। নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বোদা শহীদ মিনার চত্তরে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় বিএনপির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা ক্ষমতায় বসি নাই। ক্ষমতায় বসতে গেলে কি করতে হবে, আমাদের প্রিয় নেতার নির্দেশনা মানতে হবে। এটা ভুলে যাওয়া যাবে না।  স্বৈরাচার আ’লীগ লুটপাট, চাঁদা বাজি, করে দেশকে ধংশ করেছে। আমাদের তা করলে চলবে না। আমাদের কোনো নেতা-কর্মী যদি এসবে জড়ায়, আমার দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালায়, আমি বিন্দু পরিমাণ ছাঁড় দিবো না।

তিনি আরও বলেন, আমরা যেমনটি মাথা উঁচু করে বলতে পারি, আমাদের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন এবং তিনি নিজে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। বিএনপি একটি দেশপ্রেমিক দল যা আমরা গর্ব করে বলি।

আমরা শুনতে পাই একটি সংগঠনের শীর্ষ নেতা বলে বেড়াচ্ছেন বাংলাদেশে নাকি সেনাবাহিনী ও ঐ সংগঠনটি একমাত্র দেশপ্রেমিক। আর কোনো দেশপ্রেমিক নাই। এই পৌর সম্মেলন থেকে আমরা জানতে চাই, ১৯৭১ সালে আপনার এবং আপনার দলের কী ভূমিকা ছিলো! কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধকে অস্বীকার করতে চান।

তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে একটি সংগঠনের সংবাদপত্রে মন্তব্য করা হলো, যেসব মুসলমানগণ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের নাকি তওবা করে আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে হবে। আপনারা কি ৭১ কে অস্বীকার করতে চান। তিনি বলেন ৭১ সালে শেখ মুজিবর রহমান তার স্ত্রী এবং সন্তানের মাসিক ভাতা কনফার্ম করে সমস্ত জাতিকে অন্ধকারে রেখে পাক হানাদার বাহিনীর কাছে আত্নসমর্পণ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করে প্রমাণ করেছেন তিনি দেশপ্রেমিক, তার দল দেশপ্রেমিক। তিনি আরও বলেন, নিজের দলকে দেশপ্রেমিক দাবী করা সেই সংগঠনকে বলতে চাই, স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ লক্ষ মা বোন ইজ্জত হারিয়েছিলো। আমার বাড়িতে সুন্দরী মেয়ে আছে, এটাতো পাক-হানাদার বাহিনী জানতো না,  কারা দেখিয়ে দিয়েছিলো সেসময়, আমরা জানি আপনারা এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না। পারবেন না বলে আপনারা বাংলাদেশ সৃষ্টির স্বাধীনতা যুদ্ধকে অস্বীকার করতে চান৷ বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস যদি আপনারা ভুলে যান, আপনাদের একদিন আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে৷
এ সময় তিনি অন্তবর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৩ বছরে ১৭ বার সংবিধান সংস্কার হয়েছে। নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব দেওয়ার চেষ্টা করুন।

আব্দুস সামাদ তারার সভাপতিত্বে, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুর রহমান, জেলা বিএনপির আহবায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, জেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম সহ দলের নেতা কর্মীরা।

উল্লেখ্য, উক্ত বোদা পৌর  বিএনপির দ্বি বার্ষিক সন্মেলনে আব্দুস সামাদ তারা কে সভাপতি ও দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময়কে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি  গঠন করা হয়। কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়, আব্দুল্লাহ আল মারুফ অনু এবং  আরিফুর রহমান ( আরিফ) কে।