মঙ্গলবার | ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের মানববন্ধন Logo গণমাধ্যমে লেখালেখি: পেশাগত নীতিনৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ – ড. মাহরুফ চৌধুরী Logo স্টুডেন্ট স্কয়ার: শিক্ষার্থী থেকেই টেকসই পরিবর্তনের সূচনা Logo কেউ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ করলে আইনি ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo এনবিআরের ওয়েবসাইটে এইচএস কোডভিত্তিক আমদানি তথ্য প্রকাশ Logo গাজীপুর-৪ আসনের দুই প্রার্থীর হাতে তৌফিক সুলতান স্যারের ‘জ্ঞানের জগৎ’ বই Logo পবিত্র লাইলাতুল বরাত আনজুমান ট্রাস্ট’র ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচি Logo পলাশবাড়ীতে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ Logo পলাশবাড়ীর কালিবাড়ী হাটে পেটে ও মাথায় ছুরিকাঘাতে আহত মুরগীর ব্যবসায়ী Logo ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে: উপ-উপাচার্য

ভ্যাপসা গরম ও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১২:৪২:০২ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ৭৫৬ বার পড়া হয়েছে

টানা চার দিনের বৃষ্টির পর এবার মৃদু তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা। এতে ভ্যাপসা গরমে শহর এবং গ্রামাঞ্চলের জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। গ্রামীণ এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৫৮ শতাংশ। এ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যা আগামী রোববার পর্যন্ত অব্যহত থাকবে।

এদিকে, টানা চার দিনের বৃষ্টির কারণে কয়েকদিন ঠা-া আবহাওয়ার পর মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও হঠাৎ তাপপ্রবাহ এবং লোডশেডিংয়ের কারণে দুই দিনের ব্যবধানে পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেছে। জেলা শহরে লোডশেডিং তুলনামূলক কম হলেও উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় লোডশেডিং পরিস্থিতি তীব্র হয়ে উঠেছে। জেলা শহরে দিনে বেশ কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গরমের মধ্যে ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ফলে গরম আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রামীণ এলাকায় মানুষ। লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি এসব অঞ্চলে করুণ আকার ধারণ করেছে। দামুড়হুদা, আলমডাঙ্গা ও জীবননগরসহ পল্লী বিদ্যুতের আওতাভুক্ত এলাকার মানুষ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল অনেক কাজ করতে পারছে না। এর ফলে গৃহস্থলি কাজ থেকে শুরু করে কৃষিকাজেও ব্যাঘাত ঘটছে।

দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘গত কয়েকদিনের বৃষ্টির পর ভাবলাম একটু ঠা-া হবে। কিন্তু এখন ভ্যাপসা গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে গেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্যান চালানোও সম্ভব হচ্ছে না।’

চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের বড় বাজারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন জাকারিয়া। তিনি বলেন, ‘গরমে বাইরে কাজ করতে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হচ্ছে। তাপমাত্রার কারণে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। আর রাতে বাড়িতে লোডশেডিংয়ের কারণে শান্তিতে ঘুমানোও যাচ্ছে না।’

জীবননগর উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের কৃষক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘লোডশেডিং নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে এক ক্ষতি, এবার গরমের কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আরও বাড়ছে। এমন অবস্থায় ফসলের জমিতে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।’

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, ‘গত বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত চার দিনে চুয়াডাঙ্গায় মোট ২৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে রোববার ১৫ ঘণ্টায় ৮৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় শহরের বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সোমবার বিকেল থেকে বৃষ্টি কমে গেছে।

তিনি আরও বলেন, এরপর মঙ্গল এবং বুধবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) থেকে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এদিন বেলা তিনটা ও সন্ধ্যা ছয়টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বেলা তিনটায় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৫৮ শতাংশ এবং সন্ধ্যা ছয়টায় ছিল ৮১ শতাংশ। যা ভ্যাপসা গরমের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানিয়ে জামিনুর রহমান আরও বলেন, আগামী রোববার পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে। সোমবার থেকে গরম কমতে শুরু করবে। এরপর আবার বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের মানববন্ধন

ভ্যাপসা গরম ও লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

আপডেট সময় : ১২:৪২:০২ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪

টানা চার দিনের বৃষ্টির পর এবার মৃদু তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা। এতে ভ্যাপসা গরমে শহর এবং গ্রামাঞ্চলের জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। গ্রামীণ এলাকায় লোডশেডিংয়ের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় চুয়াডাঙ্গার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৫৮ শতাংশ। এ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যা আগামী রোববার পর্যন্ত অব্যহত থাকবে।

এদিকে, টানা চার দিনের বৃষ্টির কারণে কয়েকদিন ঠা-া আবহাওয়ার পর মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও হঠাৎ তাপপ্রবাহ এবং লোডশেডিংয়ের কারণে দুই দিনের ব্যবধানে পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেছে। জেলা শহরে লোডশেডিং তুলনামূলক কম হলেও উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় লোডশেডিং পরিস্থিতি তীব্র হয়ে উঠেছে। জেলা শহরে দিনে বেশ কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। গরমের মধ্যে ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ফলে গরম আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রামীণ এলাকায় মানুষ। লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি এসব অঞ্চলে করুণ আকার ধারণ করেছে। দামুড়হুদা, আলমডাঙ্গা ও জীবননগরসহ পল্লী বিদ্যুতের আওতাভুক্ত এলাকার মানুষ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল অনেক কাজ করতে পারছে না। এর ফলে গৃহস্থলি কাজ থেকে শুরু করে কৃষিকাজেও ব্যাঘাত ঘটছে।

দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘গত কয়েকদিনের বৃষ্টির পর ভাবলাম একটু ঠা-া হবে। কিন্তু এখন ভ্যাপসা গরমে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে গেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্যান চালানোও সম্ভব হচ্ছে না।’

চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের বড় বাজারে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন জাকারিয়া। তিনি বলেন, ‘গরমে বাইরে কাজ করতে গিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হচ্ছে। তাপমাত্রার কারণে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। আর রাতে বাড়িতে লোডশেডিংয়ের কারণে শান্তিতে ঘুমানোও যাচ্ছে না।’

জীবননগর উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের কৃষক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘লোডশেডিং নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে এক ক্ষতি, এবার গরমের কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আরও বাড়ছে। এমন অবস্থায় ফসলের জমিতে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।’

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, ‘গত বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত চার দিনে চুয়াডাঙ্গায় মোট ২৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে রোববার ১৫ ঘণ্টায় ৮৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় শহরের বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সোমবার বিকেল থেকে বৃষ্টি কমে গেছে।

তিনি আরও বলেন, এরপর মঙ্গল এবং বুধবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) থেকে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এদিন বেলা তিনটা ও সন্ধ্যা ছয়টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বেলা তিনটায় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৫৮ শতাংশ এবং সন্ধ্যা ছয়টায় ছিল ৮১ শতাংশ। যা ভ্যাপসা গরমের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানিয়ে জামিনুর রহমান আরও বলেন, আগামী রোববার পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে। সোমবার থেকে গরম কমতে শুরু করবে। এরপর আবার বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।