রবিবার | ১ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ড প্রধান নিহত Logo হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস Logo জলবায়ু সহনশীল গ্রাম গঠনে উদ্যোগ, শ্যামনগরে সক্রিয় ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স Logo ইরানের ৩১ প্রদেশের ২০টিতেই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল Logo খুবির ‘পাবনা খুবিয়ান সোসাইটির’ নতুন কমিটি গঠন ও ইফতার মাহফিল Logo চাঁদপুর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল Logo সারাদেশে চলমান ধর্ষণের প্রতিবাদে খুবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন Logo নারী উন্নয়ন সংস্থা বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খানের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ Logo অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা’র আত্মহত্যা Logo প্রধানমন্ত্রী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন : ডা. জাহিদ হোসেন

আতঙ্ক কাটেনি সুলতান নগর ঋষিপল্লীতে, ফের হামলার শঙ্কা

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:২২ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১০ আগস্ট ২০২৪
  • ৭৯৪ বার পড়া হয়েছে

যশোরের সুলতান নগর ঋষিপল্লীতে হামলা, তাণ্ডব, লুটপাটের পর এখনও আতঙ্ক কাটেনি। ঘটনার পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও জেলার বাঘারপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশের কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি। আতঙ্কে পল্লির প্রায় ৮০টি পরিবারের অধিকাংশ পুরুষ আত্মগোপনে রয়েছেন। আবারও হামলার আশঙ্কা নিয়ে ঘরে অবস্থান করছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা।

এর আগে সোমবার (৫ আগস্ট) আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর ওই দিন সন্ধ্যায় উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নের সুলতান নগর ঋষিপল্লীতে হামলা ও তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে। ভাঙচুরের শিকার হয় ঋষিপল্লীর মন্দির-প্রতীমাও।

আজ শনিবার দুপুরে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নের সুলতাননগর ঋষিপল্লী ঘুরে দেখা গেছে, পল্লীর প্রায় ২০টি বাড়িতে হামলা ও তাণ্ডবের দগদগে ক্ষত। পল্লির প্রবেশমুখেই বাসন্তী মন্দির ও হরিচাঁদ মন্দিরে প্রতিমাগুলো ভাঙা পড়ে আছে। হামলার চিহ্ন রয়েছে পাশের কালী মন্দির ও মনসা মন্দিরেও। পল্লির নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের চোখে মুখে আতঙ্ক। চোখ মুখের অব্যক্ত যন্ত্রণা অনেক কথা বলতে চাইলেও মুখ তাদের বন্ধ। কেউই কথা বলতে চান না চিহ্নিত হয়ে ফের হামলার ভয়ে।

পল্লীর নারী ও বৃদ্ধরা জানান, হামলার পর থেকে বাড়ির পুরুষ সদস্যরা ঘরছাড়া। কেউ কেউ দিনের বেলায় এলাকায় থাকলেও সন্ধ্যার অন্ধকার নামার আগেই সরে পড়ছেন।

সুলতাননগর মন্দির কমিটির সভাপতি নলিন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, সুলতাননগর ঋষিপল্লীতে প্রায় ৮০টি পরিবারের বসবাস। পল্লির সিংহভাগ বাসিন্দাই দরিদ্র। এরা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তারপরও এখানে ১৫-২০টি ঘর হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে মন্দির ও প্রতিমাগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে।

পল্লীর বাসিন্দারা জানান, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সন্ধ্যার দিকে ধলগ্রাম বাজারে গোলযোগের খবর পান। বাজার থেকে খবর পান তাদের পল্লিতে হামলা করবে। এর দশ মিনিটের মধ্যেই একদল যুবক লাঠি, সোঁটা, রাম দাসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের পল্লিতে প্রবেশ করে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঋষিপল্লীর বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী মুসলমানপাড়ায় আশ্রয় নেন।

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হামলাকারীরা এই পল্লীতে তাণ্ডব চালানো হয়। তারা পল্লর বাসন্তি মন্দির, কালী মন্দির, মনসা মন্দির, হরিচাঁদ মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর করে। এরপর তারা বাড়ি বাড়ি হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। টাকা, পয়সা, স্বর্ণালংকার, হাঁস, মুরগি, ছাগলসহ সামনে যা পেয়েছে তাই লুটে নিয়ে গেছে তারা। ভাঙচুর করেছে মোটরসাইকেলসহ ঘরের আসবাবপত্রও।

বাসিন্দারা আরো জানান, পল্লির বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুটি ঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি হাঁস, মুরগি এমনকি বাড়ির বাজার পর্যন্ত নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। রাজকুমার ও অপূর্বর বাড়ি ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। পশুপতি বিশ্বাসের বাড়ি থেকে ৪০ হাজার টাকাসহ আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এভাবে হামলার শিকার প্রায় প্রতিটি বাড়ি থেকে লুটপাট করা হয়েছে।

হামলার শিকার পূর্ণিমা রাণী বিশ্বাস জানান, ঘটনার পর থেকে তার স্বামী ও দুই ছেলে অন্য এলাকায় অবস্থান করছেন। ভয়ে তারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না। শুধু নারীরা বাড়িতে আতঙ্ক নিয়ে অবস্থান করছেন।

পল্লীর বাসিন্দা মনিমালা বিশ্বাস জানান, হামলার পর পাঁচ দিন পার হলেও পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ তাদের কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। স্থানীয় কয়েকজন নেতা তাদের আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু তাতে আতঙ্ক কাটেনি। এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ধলগ্রাম বাজারে ঋষিপল্লীর বাসিন্দাদের কিছু সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ রয়েছে। একটি মহল এই সম্পত্তি দখল করতে চায়। অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে ওই চক্রটি এই হামলায় ইন্ধন দিতে পারে।

ঘটনার দিন হামলার খবর পেয়ে ঋষিপল্লীতে যান ধলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঋষিপল্লীতে হামলার খবর পেয়ে এলাকায় এসে পল্লির বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের আশ্বস্ত করেছেন এবং নিয়মিত তাদের খোঁজ-খবর রাখছেন।

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, ধলগ্রাম ইউনিয়নের সুলতাননগর ঋষিপল্লীতে হামলার কোনো অভিযোগ তারা পাননি। তবে বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ড প্রধান নিহত

আতঙ্ক কাটেনি সুলতান নগর ঋষিপল্লীতে, ফের হামলার শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:২২ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১০ আগস্ট ২০২৪

যশোরের সুলতান নগর ঋষিপল্লীতে হামলা, তাণ্ডব, লুটপাটের পর এখনও আতঙ্ক কাটেনি। ঘটনার পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও জেলার বাঘারপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও থানা-পুলিশের কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি। আতঙ্কে পল্লির প্রায় ৮০টি পরিবারের অধিকাংশ পুরুষ আত্মগোপনে রয়েছেন। আবারও হামলার আশঙ্কা নিয়ে ঘরে অবস্থান করছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা।

এর আগে সোমবার (৫ আগস্ট) আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর ওই দিন সন্ধ্যায় উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নের সুলতান নগর ঋষিপল্লীতে হামলা ও তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে। ভাঙচুরের শিকার হয় ঋষিপল্লীর মন্দির-প্রতীমাও।

আজ শনিবার দুপুরে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নের সুলতাননগর ঋষিপল্লী ঘুরে দেখা গেছে, পল্লীর প্রায় ২০টি বাড়িতে হামলা ও তাণ্ডবের দগদগে ক্ষত। পল্লির প্রবেশমুখেই বাসন্তী মন্দির ও হরিচাঁদ মন্দিরে প্রতিমাগুলো ভাঙা পড়ে আছে। হামলার চিহ্ন রয়েছে পাশের কালী মন্দির ও মনসা মন্দিরেও। পল্লির নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের চোখে মুখে আতঙ্ক। চোখ মুখের অব্যক্ত যন্ত্রণা অনেক কথা বলতে চাইলেও মুখ তাদের বন্ধ। কেউই কথা বলতে চান না চিহ্নিত হয়ে ফের হামলার ভয়ে।

পল্লীর নারী ও বৃদ্ধরা জানান, হামলার পর থেকে বাড়ির পুরুষ সদস্যরা ঘরছাড়া। কেউ কেউ দিনের বেলায় এলাকায় থাকলেও সন্ধ্যার অন্ধকার নামার আগেই সরে পড়ছেন।

সুলতাননগর মন্দির কমিটির সভাপতি নলিন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, সুলতাননগর ঋষিপল্লীতে প্রায় ৮০টি পরিবারের বসবাস। পল্লির সিংহভাগ বাসিন্দাই দরিদ্র। এরা কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তারপরও এখানে ১৫-২০টি ঘর হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে মন্দির ও প্রতিমাগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে।

পল্লীর বাসিন্দারা জানান, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সন্ধ্যার দিকে ধলগ্রাম বাজারে গোলযোগের খবর পান। বাজার থেকে খবর পান তাদের পল্লিতে হামলা করবে। এর দশ মিনিটের মধ্যেই একদল যুবক লাঠি, সোঁটা, রাম দাসহ দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের পল্লিতে প্রবেশ করে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঋষিপল্লীর বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী মুসলমানপাড়ায় আশ্রয় নেন।

প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হামলাকারীরা এই পল্লীতে তাণ্ডব চালানো হয়। তারা পল্লর বাসন্তি মন্দির, কালী মন্দির, মনসা মন্দির, হরিচাঁদ মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর করে। এরপর তারা বাড়ি বাড়ি হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। টাকা, পয়সা, স্বর্ণালংকার, হাঁস, মুরগি, ছাগলসহ সামনে যা পেয়েছে তাই লুটে নিয়ে গেছে তারা। ভাঙচুর করেছে মোটরসাইকেলসহ ঘরের আসবাবপত্রও।

বাসিন্দারা আরো জানান, পল্লির বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুটি ঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি হাঁস, মুরগি এমনকি বাড়ির বাজার পর্যন্ত নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। রাজকুমার ও অপূর্বর বাড়ি ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। পশুপতি বিশ্বাসের বাড়ি থেকে ৪০ হাজার টাকাসহ আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এভাবে হামলার শিকার প্রায় প্রতিটি বাড়ি থেকে লুটপাট করা হয়েছে।

হামলার শিকার পূর্ণিমা রাণী বিশ্বাস জানান, ঘটনার পর থেকে তার স্বামী ও দুই ছেলে অন্য এলাকায় অবস্থান করছেন। ভয়ে তারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না। শুধু নারীরা বাড়িতে আতঙ্ক নিয়ে অবস্থান করছেন।

পল্লীর বাসিন্দা মনিমালা বিশ্বাস জানান, হামলার পর পাঁচ দিন পার হলেও পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ তাদের কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। স্থানীয় কয়েকজন নেতা তাদের আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু তাতে আতঙ্ক কাটেনি। এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ধলগ্রাম বাজারে ঋষিপল্লীর বাসিন্দাদের কিছু সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ রয়েছে। একটি মহল এই সম্পত্তি দখল করতে চায়। অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে ওই চক্রটি এই হামলায় ইন্ধন দিতে পারে।

ঘটনার দিন হামলার খবর পেয়ে ঋষিপল্লীতে যান ধলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঋষিপল্লীতে হামলার খবর পেয়ে এলাকায় এসে পল্লির বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের আশ্বস্ত করেছেন এবং নিয়মিত তাদের খোঁজ-খবর রাখছেন।

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, ধলগ্রাম ইউনিয়নের সুলতাননগর ঋষিপল্লীতে হামলার কোনো অভিযোগ তারা পাননি। তবে বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবেন।