খুলনার কয়রা উপজেলার ৫ নম্বর সদর ইউনিয়নে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিএনপির নেতা এম এ হাসানকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে রাজনীতি, সংগঠন শক্তিশালী করা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী তাকে চেয়ারম্যান পদে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই এম এ হাসান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি খুলনা জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, রাজনীতির প্রতিটি ধাপে তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করেছেন। বিশেষ করে দলের দুঃসময়ে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে মাঠে থেকে নেতাকর্মীদের সংগঠিত রেখেছেন। রাজনৈতিক নানা প্রতিকূলতা, মামলা ও হয়রানির মুখোমুখি হলেও তিনি দলীয় কার্যক্রম থেকে কখনও সরে যাননি।
কয়রা সদর ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, দলের কঠিন সময়ে এম এ হাসানকে সব সময় মাঠে পাওয়া গেছে। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি অবগত। এ কারণে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে দেখতে আগ্রহী অনেকেই।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন এম এ হাসান। উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেছেন। এছাড়া নদীভাঙন ও বেড়িবাঁধ সংস্কারসহ উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে তিনি সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন।
মহামারি কোভিড-১৯ চলাকালীন সময়েও তিনি নিজ উদ্যোগে অসুস্থ ও মুমূর্ষু রোগীদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহসহ চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন। অনেক অসহায় রোগীর চিকিৎসা সহায়তা ও আর্থিক সহযোগিতায় তার উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এম এ হাসান একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত। মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার প্রতি ইতিবাচক আস্থা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে এম এ হাসান বলেন,
দলের আদর্শে বিশ্বাস রেখে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছি। দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয় এবং জনগণ পাশে থাকে, তাহলে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী। নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, মানুষের সেবা এবং উপকূলীয় এই জনপদের সার্বিক অগ্রগতির জন্য কাজ করবো।




















































