চাঁদপুর জেলায় সাংবাদিকতার অঙ্গনে যেখানে পুরুষদের উপস্থিতিই বেশি চোখে পড়ে, সেখানে সাহস, নিষ্ঠা ও দৃঢ়তা নিয়ে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন সাবিত্রী রানী ঘোষ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চাঁদপুরের একমাত্র নারী সাংবাদিক হিসেবে সত্যের অনুসন্ধান এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
শৈশব থেকেই সমাজের নানা অসঙ্গতি তাকে ভাবিয়ে তুলত। মানুষের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই তার সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ জন্ম নেয়। সেই আগ্রহ থেকেই ধীরে ধীরে তিনি স্থানীয় সংবাদ সংগ্রহ, প্রতিবেদন লেখা এবং বিভিন্ন সামাজিক বিষয় তুলে ধরার মাধ্যমে সাংবাদিকতায় নিজের দক্ষতা ও পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।
বর্তমানে তিনি পাক্ষিক “চাঁদনগর” পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি প্রীতি মিডিয়ার স্বত্বাধিকারী। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরতে তিনি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। তিনি গোপাল জিউর আখড়া মন্দিরের মহিলা সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং পুরানবাজার ঘোষপাড়া গীতা মন্দিরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত আছেন। এছাড়াও তিনি অনন্যা নাট্যগোষ্ঠীর নির্বাহী সদস্য এবং বিনিময় নাট্যগোষ্ঠীর প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
চাঁদপুরের একমাত্র নারী সাংবাদিক হিসেবে মফস্বল সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মর্যাদাপূর্ণ “ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ অ্যাওয়ার্ড” লাভ করেন। এ অ্যাওয়ার্ড অর্জনের পর চাঁদপুরের মাঠ পর্যায়ে সাংবাদিকদের সংগঠন ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন তার হাতে সম্মাননা প্রদান করে। পাশাপাশি, তার বহুমুখী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, চাঁদপুর জেলা সাংবাদিক ক্লাব, চাঁদপুর সাহিত্য মঞ্চ, চাঁদপুর ল্যাবরেটরি স্কুল, মেঘনাবার্তা, চাঁদপুর সংবাদ, বিনিময়, অনন্যা, বিশ্ব বাঙালিসহ বহু সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম সংগঠন তাকে সম্মাননা প্রদান করেছে।
একজন নারী সাংবাদিক হিসেবে পথচলা সহজ ছিল না। মাঠ পর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ, দূর-দূরান্তে গিয়ে তথ্য অনুসন্ধান এবং নানা সামাজিক বাধা—সবকিছুই তাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবুও তিনি সাহস ও দায়িত্ববোধকে শক্তি হিসেবে নিয়ে নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাংবাদিকতা নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাবিত্রী রানী ঘোষ বলেন,
“সাংবাদিকতা আমার কাছে শুধু পেশা নয়, এটি একটি দায়িত্ব। সমাজের সত্য তুলে ধরা এবং মানুষের কথা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমার লক্ষ্য। চাঁদপুরে একজন নারী সাংবাদিক হিসেবে পথটা সহজ ছিল না, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতাই আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি চাই ভবিষ্যতে আরও অনেক নারী সাংবাদিকতায় এগিয়ে আসুক। নারী সমাজ যদি সাহস নিয়ে সামনে আসে, তাহলে সমাজ আরও সমৃদ্ধ হবে।”
দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকে সাবিত্রী রানী ঘোষ আজ চাঁদপুরের নারী সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম। সচেতন মহলের মতে, তার সাহসী ও নিষ্ঠাবান কর্মপ্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও চাঁদপুরের সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

















































