রবিবার | ৩০ নভেম্বর ২০২৫ | হেমন্তকাল
শিরোনাম :
Logo মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া চিকিৎসা খালেদা জিয়া গ্রহণ করতে পারছেন : ডা. জাহিদ Logo কচুয়ায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন গণঅধিকার পরিষদ নেতা এনায়েত হাসিব Logo কচুয়ায় ইউএনও হেলাল চৌধুরীর বিদায় সংবর্ধনা Logo জীবননগর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা সভাপতি রিংকু, সম্পাদক ফরহাদ Logo ঝিকুট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান Logo সুপারস্টার ফ্যান ক্লাবের জমকালো আয়োজনে চিত্রনায়ক ডি এ তায়েব এর জন্মদিন পালন Logo বাংলাদেশের কলম, ভারতের কণ্ঠ—নতুন গানে উপমহাদেশের একতা Logo খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা Logo টেকনাফে বিজিবির অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজন সন্ত্রাসী আটক Logo মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলা-বারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারিগর আটক:

রিমান্ড শেষে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কারাগারে

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:০২ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • ৭৬৫ বার পড়া হয়েছে

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বাড্ডায় হৃদয় আহম্মেদ নামে এক বিএনপি কর্মী খুনের মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত আজ শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতের বাড্ডা থানার সহকারী জিআরও এসএম জহিরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. সাদেক।

আবেদনে বলা হয়, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামির কাছে থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ওই সব তথ্যসহ আসামির নাম-ঠিকানা মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে যাচাইয়ে প্রক্রিয়াধীন।

আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক ও মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন। পরে আসামিপক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিএনপিকর্মী হৃদয় আহম্মেদ মারা যান। এ ঘটনায় গত ২২ আগস্ট মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বিএনপির জয়েন্ট সেক্রেটারি শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৬১ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভিকটিম মৃত হৃদয় আহম্মেদ (১৬) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী একজন বাংলাদেশি নাগরিক। গত ১৯ জুলাই  বৈষম্যবিরোধী ও ছাত্র আন্দোলনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাদী হাজার হাজার আন্দোলনকারীর সঙ্গে ওই ভিকটিম মৃত হৃদয় আহম্মেদ বাড্ডা থানার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অংশগ্রহণ করে। আন্দোলন চলাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের নির্দেশে আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এজাহারের অন্য আসামিসহ ৪০০-৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক সব আসামি তাদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। তাদের গুলিতে অনেক আন্দোলনকারী নিহত হয়, অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় ছটফট করতে থাকে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামিরা আন্দোলনবিরোধী স্লোগান দেয়। আসামিরা এলোপাতাড়ি গুলি করিতে থাকায় বাদী আত্মরক্ষার্থে পাশের গলির এক বিল্ডিংয়ের ভেতরে ঢুকে আশ্রয় গ্রহণ করেন। ওই বিল্ডিংয়ে থাকা অবস্থায় বাদী মুহুর্মুহু গুলির শব্দ ও লোকজনের চিৎকারের আওয়াজে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। কিছু সময় পর গুলির আওয়াজ বন্ধ হলে বাদী বাইরে এসে বাদীর সঙ্গী ভিকটিম মৃত হৃদয় আহম্মেদকে খুঁজতে থাকেন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে এক পর্যায়ে লোক মুখে জানতে পারেন, আসামিদের গুলিতে ও আক্রমণে বহু লোক হতাহত হয়েছে এবং কিছু লোককে আফতাবনগর মেইন রোডে অবস্থিত নাগরিক স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। বাদী বিকেল ৪টায় ওই হাসপাতালে গিয়ে ভিকটিম হৃদয় আহম্মেদকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

মেডিকেল বোর্ডের দেওয়া চিকিৎসা খালেদা জিয়া গ্রহণ করতে পারছেন : ডা. জাহিদ

রিমান্ড শেষে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কারাগারে

আপডেট সময় : ০৬:১৮:০২ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বাড্ডায় হৃদয় আহম্মেদ নামে এক বিএনপি কর্মী খুনের মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত আজ শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতের বাড্ডা থানার সহকারী জিআরও এসএম জহিরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. সাদেক।

আবেদনে বলা হয়, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামির কাছে থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ওই সব তথ্যসহ আসামির নাম-ঠিকানা মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে যাচাইয়ে প্রক্রিয়াধীন।

আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক ও মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন। পরে আসামিপক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিএনপিকর্মী হৃদয় আহম্মেদ মারা যান। এ ঘটনায় গত ২২ আগস্ট মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার বিএনপির জয়েন্ট সেক্রেটারি শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৬১ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভিকটিম মৃত হৃদয় আহম্মেদ (১৬) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী একজন বাংলাদেশি নাগরিক। গত ১৯ জুলাই  বৈষম্যবিরোধী ও ছাত্র আন্দোলনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাদী হাজার হাজার আন্দোলনকারীর সঙ্গে ওই ভিকটিম মৃত হৃদয় আহম্মেদ বাড্ডা থানার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অংশগ্রহণ করে। আন্দোলন চলাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের নির্দেশে আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এজাহারের অন্য আসামিসহ ৪০০-৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক সব আসামি তাদের হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। তাদের গুলিতে অনেক আন্দোলনকারী নিহত হয়, অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় ছটফট করতে থাকে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামিরা আন্দোলনবিরোধী স্লোগান দেয়। আসামিরা এলোপাতাড়ি গুলি করিতে থাকায় বাদী আত্মরক্ষার্থে পাশের গলির এক বিল্ডিংয়ের ভেতরে ঢুকে আশ্রয় গ্রহণ করেন। ওই বিল্ডিংয়ে থাকা অবস্থায় বাদী মুহুর্মুহু গুলির শব্দ ও লোকজনের চিৎকারের আওয়াজে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। কিছু সময় পর গুলির আওয়াজ বন্ধ হলে বাদী বাইরে এসে বাদীর সঙ্গী ভিকটিম মৃত হৃদয় আহম্মেদকে খুঁজতে থাকেন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে এক পর্যায়ে লোক মুখে জানতে পারেন, আসামিদের গুলিতে ও আক্রমণে বহু লোক হতাহত হয়েছে এবং কিছু লোককে আফতাবনগর মেইন রোডে অবস্থিত নাগরিক স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। বাদী বিকেল ৪টায় ওই হাসপাতালে গিয়ে ভিকটিম হৃদয় আহম্মেদকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।