সোমবার | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo পলাশবাড়ীতে ধানের শীর্ষের পক্ষে বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল  Logo ঝালকাঠিতে ৬লিটার চোলাই মদ সহ নাসির ডিবির হাতে আটক  Logo পলাশবাড়ীতে জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হামলায় আহত ৪, অবরুদ্ধ ৯ পরিবার Logo ইবিতে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ Logo রাবির ‘এ’ ইউনিটের প্রথম শিফটে প্রথম অনন্ত, দ্বিতীয় শিফটে সিয়াম Logo চাঁদপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী সাংবাদিক মাওলানা এএইচএম আহসান উল্লাহ চাঁদপুর পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ড এবং তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নে ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন Logo বীরগঞ্জের বিএনপি’র নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ! Logo হাবিবুর রহমান ইসলামী যুব আন্দোলন চাঁদপুর জেলার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনোনীত Logo খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে নোবিপ্রবির গাড়ি ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ Logo ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি উপ-উপাচার্যের

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর গায়ে আগুন দিলেন স্বামী

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৫০ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০২৪
  • ৭৭৭ বার পড়া হয়েছে

নীলকন্ঠ ডেক্সঃ

যৌতুকের জন্য স্বামীর দেওয়া ডিজেলের আগুনে পুড়ে তিনদিন ধরে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ লতা বেগম (২৫)। তাঁর শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশেই পুড়ে গেছে।  

চিকিৎসকরা বলেছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন দরিদ্র মা-বাবা।

তিন সন্তানের জননী দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া ওই নারীর উন্নত চিকিৎসা আটকে আছে আর্থিক সংকটে। এ অবস্থায় হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন লতা।

সোমবার (১ জুলাই) সকালে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া এলাকার বারোঘড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পাষণ্ড স্বামী মহব্বর আলী ওই গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। তবে শ্বশুর-শাশুড়ির সামনেই লতা বেগমের শরীরে ডিজেল ঢেলে দেয় মহব্বত আলী।

এগিয়ে আসেনি কেউ। এতে দগ্ধ হয়ে শরীরের বেশকিছু অঙ্গ পুড়ে যায়। এ ঘটনার পর মহব্বতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, আট বছর আগে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া এলাকার বারোঘড়িয়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে মহব্বর আলীর সাথে বিয়ে হয় লতা বেগমের। এই দম্পতির এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। লতা বেগমকে না জানিয়ে চার মাস আগে মহব্বত আলী দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

এরপর যৌতুক ও তালাকের জন্য নিয়মিতই লতার উপর চলতো নির্মম নির্যাতন। গেল সোমবার সকালে মহব্বর যৌতুকের মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ডিজেল স্ত্রী লতার শরীরে ঢেলে প্রকাশ্যে আগুন ধরিয়ে দেয় পাষণ্ড স্বামী মহব্বর আলী। এ সময় বাড়িয়ে থাকা পাশে থাকা মহব্বরের মা-বাবা এগিয়ে আসেনি। পরে স্থানীয়রা ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

স্বজনদের অভিযোগ তিন সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে মহব্বত দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রায়ই নির্যাতন চালাতো । তার এমন কর্মকাণ্ডে কঠিন শাস্তির দাবি করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

হাসপাতালে গৃহবধূ লতার চোখ দিয়ে কেবলই পানি ঝরছিল। তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে লতা জানায়, অনুমতি না নিয়ে ১২ বছর আগে বিয়ে হওয়া এক নারীকে বিয়ে করে আমার স্বামী। তারপর আমাকে যৌতুক ও তালাক দিতে নানা ভাবে নির্যাতন করে। শেষ পর্যায়ে এসে ডিজেল ঢেলে মেরে ফেলতে চেয়েছিল কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন। তবে বেঁচে লাভ কি সন্তানদের কে দেখবে। আমার বাবা মায়ের কিছু নেই। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিনা। যদি কারো দয়া হয় সহযোগিতা করবেন। আমি আমার স্বামী ও ওই নারীর বিচার চাই।

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রকিবুল আলম জানান, শরীর পুড়ে যাওয়া নারীকে হাসপাতাল থেকে সকল সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। তবে তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। অর্থের অভাবে করাতে পারছে না।

এ বিষয়ে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক মুঠোফোনে জানান, যৌতুক ও দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কথাকাটি হতো তাদের মধ্যে। মহব্বত এসব বিষয়ে প্রায় নির্যাতনও করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। শরীরে তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় মহব্বত আলীসহ কয়েকজনের নামে একটি মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। পরে স্বামী মহব্বত আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চিকিৎসকরা বলেছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন দরিদ্র মা-বাবা।

তিন সন্তানের জননী দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া ওই নারীর উন্নত চিকিৎসা আটকে আছে আর্থিক সংকটে। এ অবস্থায় হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন লতা।

সোমবার (১ জুলাই) সকালে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া এলাকার বারোঘড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পাষণ্ড স্বামী মহব্বর আলী ওই গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। তবে শ্বশুর-শাশুড়ির সামনেই লতা বেগমের শরীরে ডিজেল ঢেলে দেয় মহব্বত আলী।

এগিয়ে আসেনি কেউ। এতে দগ্ধ হয়ে শরীরের বেশকিছু অঙ্গ পুড়ে যায়। এ ঘটনার পর মহব্বতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, আট বছর আগে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া এলাকার বারোঘড়িয়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে মহব্বর আলীর সাথে বিয়ে হয় লতা বেগমের। এই দম্পতির এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। লতা বেগমকে না জানিয়ে চার মাস আগে মহব্বত আলী দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

এরপর যৌতুক ও তালাকের জন্য নিয়মিতই লতার উপর চলতো নির্মম নির্যাতন। গেল সোমবার সকালে মহব্বর যৌতুকের মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ডিজেল স্ত্রী লতার শরীরে ঢেলে প্রকাশ্যে আগুন ধরিয়ে দেয় পাষণ্ড স্বামী মহব্বর আলী। এ সময় বাড়িয়ে থাকা পাশে থাকা মহব্বরের মা-বাবা এগিয়ে আসেনি। পরে স্থানীয়রা ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

স্বজনদের অভিযোগ তিন সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে মহব্বত দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রায়ই নির্যাতন চালাতো । তার এমন কর্মকাণ্ডে কঠিন শাস্তির দাবি করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

হাসপাতালে গৃহবধূ লতার চোখ দিয়ে কেবলই পানি ঝরছিল। তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে লতা জানায়, অনুমতি না নিয়ে ১২ বছর আগে বিয়ে হওয়া এক নারীকে বিয়ে করে আমার স্বামী। তারপর আমাকে যৌতুক ও তালাক দিতে নানা ভাবে নির্যাতন করে। শেষ পর্যায়ে এসে ডিজেল ঢেলে মেরে ফেলতে চেয়েছিল কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন। তবে বেঁচে লাভ কি সন্তানদের কে দেখবে। আমার বাবা মায়ের কিছু নেই। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিনা। যদি কারো দয়া হয় সহযোগিতা করবেন। আমি আমার স্বামী ও ওই নারীর বিচার চাই।

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রকিবুল আলম জানান, শরীর পুড়ে যাওয়া নারীকে হাসপাতাল থেকে সকল সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। তবে তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। অর্থের অভাবে করাতে পারছে না।

এ বিষয়ে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক মুঠোফোনে জানান, যৌতুক ও দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কথাকাটি হতো তাদের মধ্যে। মহব্বত এসব বিষয়ে প্রায় নির্যাতনও করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। শরীরে তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় মহব্বত আলীসহ কয়েকজনের নামে একটি মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। পরে স্বামী মহব্বত আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পলাশবাড়ীতে ধানের শীর্ষের পক্ষে বিশাল নির্বাচনী গণমিছিল 

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর গায়ে আগুন দিলেন স্বামী

আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৫০ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৫ জুলাই ২০২৪

নীলকন্ঠ ডেক্সঃ

যৌতুকের জন্য স্বামীর দেওয়া ডিজেলের আগুনে পুড়ে তিনদিন ধরে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ লতা বেগম (২৫)। তাঁর শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশেই পুড়ে গেছে।  

চিকিৎসকরা বলেছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন দরিদ্র মা-বাবা।

তিন সন্তানের জননী দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া ওই নারীর উন্নত চিকিৎসা আটকে আছে আর্থিক সংকটে। এ অবস্থায় হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন লতা।

সোমবার (১ জুলাই) সকালে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া এলাকার বারোঘড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পাষণ্ড স্বামী মহব্বর আলী ওই গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। তবে শ্বশুর-শাশুড়ির সামনেই লতা বেগমের শরীরে ডিজেল ঢেলে দেয় মহব্বত আলী।

এগিয়ে আসেনি কেউ। এতে দগ্ধ হয়ে শরীরের বেশকিছু অঙ্গ পুড়ে যায়। এ ঘটনার পর মহব্বতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, আট বছর আগে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া এলাকার বারোঘড়িয়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে মহব্বর আলীর সাথে বিয়ে হয় লতা বেগমের। এই দম্পতির এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। লতা বেগমকে না জানিয়ে চার মাস আগে মহব্বত আলী দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

এরপর যৌতুক ও তালাকের জন্য নিয়মিতই লতার উপর চলতো নির্মম নির্যাতন। গেল সোমবার সকালে মহব্বর যৌতুকের মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ডিজেল স্ত্রী লতার শরীরে ঢেলে প্রকাশ্যে আগুন ধরিয়ে দেয় পাষণ্ড স্বামী মহব্বর আলী। এ সময় বাড়িয়ে থাকা পাশে থাকা মহব্বরের মা-বাবা এগিয়ে আসেনি। পরে স্থানীয়রা ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

স্বজনদের অভিযোগ তিন সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে মহব্বত দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রায়ই নির্যাতন চালাতো । তার এমন কর্মকাণ্ডে কঠিন শাস্তির দাবি করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

হাসপাতালে গৃহবধূ লতার চোখ দিয়ে কেবলই পানি ঝরছিল। তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে লতা জানায়, অনুমতি না নিয়ে ১২ বছর আগে বিয়ে হওয়া এক নারীকে বিয়ে করে আমার স্বামী। তারপর আমাকে যৌতুক ও তালাক দিতে নানা ভাবে নির্যাতন করে। শেষ পর্যায়ে এসে ডিজেল ঢেলে মেরে ফেলতে চেয়েছিল কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন। তবে বেঁচে লাভ কি সন্তানদের কে দেখবে। আমার বাবা মায়ের কিছু নেই। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিনা। যদি কারো দয়া হয় সহযোগিতা করবেন। আমি আমার স্বামী ও ওই নারীর বিচার চাই।

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রকিবুল আলম জানান, শরীর পুড়ে যাওয়া নারীকে হাসপাতাল থেকে সকল সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। তবে তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। অর্থের অভাবে করাতে পারছে না।

এ বিষয়ে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক মুঠোফোনে জানান, যৌতুক ও দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কথাকাটি হতো তাদের মধ্যে। মহব্বত এসব বিষয়ে প্রায় নির্যাতনও করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। শরীরে তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় মহব্বত আলীসহ কয়েকজনের নামে একটি মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। পরে স্বামী মহব্বত আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চিকিৎসকরা বলেছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন দরিদ্র মা-বাবা।

তিন সন্তানের জননী দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া ওই নারীর উন্নত চিকিৎসা আটকে আছে আর্থিক সংকটে। এ অবস্থায় হাসপাতালের শয্যায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন লতা।

সোমবার (১ জুলাই) সকালে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া এলাকার বারোঘড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পাষণ্ড স্বামী মহব্বর আলী ওই গ্রামের শামসুল হকের ছেলে। তবে শ্বশুর-শাশুড়ির সামনেই লতা বেগমের শরীরে ডিজেল ঢেলে দেয় মহব্বত আলী।

এগিয়ে আসেনি কেউ। এতে দগ্ধ হয়ে শরীরের বেশকিছু অঙ্গ পুড়ে যায়। এ ঘটনার পর মহব্বতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, আট বছর আগে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া এলাকার বারোঘড়িয়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে মহব্বর আলীর সাথে বিয়ে হয় লতা বেগমের। এই দম্পতির এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। লতা বেগমকে না জানিয়ে চার মাস আগে মহব্বত আলী দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

এরপর যৌতুক ও তালাকের জন্য নিয়মিতই লতার উপর চলতো নির্মম নির্যাতন। গেল সোমবার সকালে মহব্বর যৌতুকের মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ডিজেল স্ত্রী লতার শরীরে ঢেলে প্রকাশ্যে আগুন ধরিয়ে দেয় পাষণ্ড স্বামী মহব্বর আলী। এ সময় বাড়িয়ে থাকা পাশে থাকা মহব্বরের মা-বাবা এগিয়ে আসেনি। পরে স্থানীয়রা ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

স্বজনদের অভিযোগ তিন সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে মহব্বত দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রায়ই নির্যাতন চালাতো । তার এমন কর্মকাণ্ডে কঠিন শাস্তির দাবি করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

হাসপাতালে গৃহবধূ লতার চোখ দিয়ে কেবলই পানি ঝরছিল। তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে লতা জানায়, অনুমতি না নিয়ে ১২ বছর আগে বিয়ে হওয়া এক নারীকে বিয়ে করে আমার স্বামী। তারপর আমাকে যৌতুক ও তালাক দিতে নানা ভাবে নির্যাতন করে। শেষ পর্যায়ে এসে ডিজেল ঢেলে মেরে ফেলতে চেয়েছিল কিন্তু আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন। তবে বেঁচে লাভ কি সন্তানদের কে দেখবে। আমার বাবা মায়ের কিছু নেই। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিনা। যদি কারো দয়া হয় সহযোগিতা করবেন। আমি আমার স্বামী ও ওই নারীর বিচার চাই।

ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রকিবুল আলম জানান, শরীর পুড়ে যাওয়া নারীকে হাসপাতাল থেকে সকল সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। তবে তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। অর্থের অভাবে করাতে পারছে না।

এ বিষয়ে বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক মুঠোফোনে জানান, যৌতুক ও দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কথাকাটি হতো তাদের মধ্যে। মহব্বত এসব বিষয়ে প্রায় নির্যাতনও করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। শরীরে তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার ঘটনায় মহব্বত আলীসহ কয়েকজনের নামে একটি মামলা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। পরে স্বামী মহব্বত আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।