বুধবার | ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের মানববন্ধন Logo গণমাধ্যমে লেখালেখি: পেশাগত নীতিনৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ – ড. মাহরুফ চৌধুরী Logo স্টুডেন্ট স্কয়ার: শিক্ষার্থী থেকেই টেকসই পরিবর্তনের সূচনা Logo কেউ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা ভঙ্গ করলে আইনি ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo এনবিআরের ওয়েবসাইটে এইচএস কোডভিত্তিক আমদানি তথ্য প্রকাশ Logo গাজীপুর-৪ আসনের দুই প্রার্থীর হাতে তৌফিক সুলতান স্যারের ‘জ্ঞানের জগৎ’ বই Logo পবিত্র লাইলাতুল বরাত আনজুমান ট্রাস্ট’র ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচি Logo পলাশবাড়ীতে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ Logo পলাশবাড়ীর কালিবাড়ী হাটে পেটে ও মাথায় ছুরিকাঘাতে আহত মুরগীর ব্যবসায়ী Logo ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে: উপ-উপাচার্য

প্রতি ডলারে ১ টাকার বেশি মুনাফা নয়

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২
  • ৮২৮ বার পড়া হয়েছে

ডলারের সংকট কাটাতে এবার ব্যাংকগুলো নিজেরাই কেনাবেচায় দামের পার্থক্য (স্প্রেড) ঠিক করবে। ব্যাংকগুলো বলছে, কেনা ও বিক্রিতে সর্বোচ্চ পার্থক্য হবে এক টাকা। এর ফলে প্রবাসী আয়ে প্রতি ডলার ১১০ টাকা ও রপ্তানি বিল নগদায়নে ১০৫ টাকা হলে আমদানিতে ডলারের দাম হবে সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা।

ডলারে স্প্রেড সর্বোচ্চ এক টাকা হবে, এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ আগের সিদ্ধান্ত। বর্তমান সংকটের কারণে যা কার্যকর নেই। এখন পুরোনো সিদ্ধান্ত আবারও কার্যকর করে সংকট সমাধানের পথ দেখাচ্ছে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের এক সভায় এই আশ্বাস দেয় ব্যাংকগুলো। ব্যাংকগুলোর পক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, ব্যাংকগুলো ডলার বাজার থেকে যে অস্বাভাবিক মুনাফা করেছে, তা ব্যাংকের আয়ে নিতে পারবে না। এখন আমদানিতে কম দাম নিয়ে তা সমন্বয় করতে হবে। ডলারের বাজার কঠোরভাবে তদারকি অব্যাহত রাখা হবে।

জানা যায়, গতকালের সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে পরিস্থিতি জানতে চাওয়া হয়। ব্যাংকগুলো বেশি দামে প্রবাসী আয় আনার বিষয়টি তুলে ধরে। এ জন্য ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতায় প্রবাসী আয় আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানায়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, রপ্তানি ও প্রবাসী আয় দিয়ে আমদানি দায় শোধ করা যাচ্ছে না। এতে যে ঘাটতি হয়েছে, সেই পরিমাণ ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা হয়েছে। এরপরও কেন এত সংকট হবে। এই সুযোগে ব্যাংকগুলো দাম বাড়িয়ে অস্বাভাবিক মুনাফা করেছে।

সভায় ব্যাংকগুলোকে বুঝেশুনে আমদানি ঋণপত্র খুলতে বলা হয়। আর জানানো হয়, আমদানি ঋণপত্র খোলা কমেছে। প্রবাসী আয়ও বাড়ছে। ফলে সংকট কেটে যাবে। যে রপ্তানি হচ্ছে, তার আয় দ্রুত সময়ে এনে নগদায়ন করতে বলা হয়।

সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ডলারের বাজারে যে টানাপোড়েন চলছে, তা থামাতে পরামর্শমূলক সভা ডাকা হয়েছিল। ব্যাংকগুলো যাতে রপ্তানি বিল দ্রুত দেশে আনে ও নগদায়ন করে, এ জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডলার কেনাবেচা শুরু করতে বলা হয়েছে। এটা হলে এক-দুই মাসের মধ্যে ডলারের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, আমদানি ঋণপত্রে সমন্বয়ে প্রতি ডলারে যত কম মুনাফা করা যায়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আমদানি ঋণপত্র খোলা কমেছে, ব্যাংকগুলোকে বুঝে ঋণপত্র খুলতে বলা হয়েছে।

সভা শেষে বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেন, এবিবি ও বাফেদা বসে ঠিক করবে, ডলারের কেনাবেচায় কত পার্থক্য হবে।

ডলার বাজার পরিস্থিতি

গতকাল ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয় আনতে ১১৪ টাকা পর্যন্ত দাম প্রস্তাব করে। আর রপ্তানি বিল নগদায়ন করে গড়ে ১০৫ টাকা দরে। ফলে আমদানিকারকদের প্রতি ডলারের জন্য গুনতে হয় ১০৫-১০৭ টাকা। তবে খোলাবাজারে গতকাল দাম কমে ১১৪–১১৫ টাকায় ডলার কেনাবেচা হয়।

ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, এখন আমদানিতে ডলারের দাম যত কম দাম রাখা যায়, তা রাখা হচ্ছে। অনেকে ডলার বিক্রি করে লোকসানও গুনছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে খুবি অফিসার্স কল্যাণ পরিষদের মানববন্ধন

প্রতি ডলারে ১ টাকার বেশি মুনাফা নয়

আপডেট সময় : ১০:৪২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২

ডলারের সংকট কাটাতে এবার ব্যাংকগুলো নিজেরাই কেনাবেচায় দামের পার্থক্য (স্প্রেড) ঠিক করবে। ব্যাংকগুলো বলছে, কেনা ও বিক্রিতে সর্বোচ্চ পার্থক্য হবে এক টাকা। এর ফলে প্রবাসী আয়ে প্রতি ডলার ১১০ টাকা ও রপ্তানি বিল নগদায়নে ১০৫ টাকা হলে আমদানিতে ডলারের দাম হবে সর্বোচ্চ ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা।

ডলারে স্প্রেড সর্বোচ্চ এক টাকা হবে, এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ আগের সিদ্ধান্ত। বর্তমান সংকটের কারণে যা কার্যকর নেই। এখন পুরোনো সিদ্ধান্ত আবারও কার্যকর করে সংকট সমাধানের পথ দেখাচ্ছে ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের এক সভায় এই আশ্বাস দেয় ব্যাংকগুলো। ব্যাংকগুলোর পক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, ব্যাংকগুলো ডলার বাজার থেকে যে অস্বাভাবিক মুনাফা করেছে, তা ব্যাংকের আয়ে নিতে পারবে না। এখন আমদানিতে কম দাম নিয়ে তা সমন্বয় করতে হবে। ডলারের বাজার কঠোরভাবে তদারকি অব্যাহত রাখা হবে।

জানা যায়, গতকালের সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে পরিস্থিতি জানতে চাওয়া হয়। ব্যাংকগুলো বেশি দামে প্রবাসী আয় আনার বিষয়টি তুলে ধরে। এ জন্য ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্থতায় প্রবাসী আয় আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানায়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, রপ্তানি ও প্রবাসী আয় দিয়ে আমদানি দায় শোধ করা যাচ্ছে না। এতে যে ঘাটতি হয়েছে, সেই পরিমাণ ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা হয়েছে। এরপরও কেন এত সংকট হবে। এই সুযোগে ব্যাংকগুলো দাম বাড়িয়ে অস্বাভাবিক মুনাফা করেছে।

সভায় ব্যাংকগুলোকে বুঝেশুনে আমদানি ঋণপত্র খুলতে বলা হয়। আর জানানো হয়, আমদানি ঋণপত্র খোলা কমেছে। প্রবাসী আয়ও বাড়ছে। ফলে সংকট কেটে যাবে। যে রপ্তানি হচ্ছে, তার আয় দ্রুত সময়ে এনে নগদায়ন করতে বলা হয়।

সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ডলারের বাজারে যে টানাপোড়েন চলছে, তা থামাতে পরামর্শমূলক সভা ডাকা হয়েছিল। ব্যাংকগুলো যাতে রপ্তানি বিল দ্রুত দেশে আনে ও নগদায়ন করে, এ জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডলার কেনাবেচা শুরু করতে বলা হয়েছে। এটা হলে এক-দুই মাসের মধ্যে ডলারের বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, আমদানি ঋণপত্রে সমন্বয়ে প্রতি ডলারে যত কম মুনাফা করা যায়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আমদানি ঋণপত্র খোলা কমেছে, ব্যাংকগুলোকে বুঝে ঋণপত্র খুলতে বলা হয়েছে।

সভা শেষে বাফেদার চেয়ারম্যান ও সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেন, এবিবি ও বাফেদা বসে ঠিক করবে, ডলারের কেনাবেচায় কত পার্থক্য হবে।

ডলার বাজার পরিস্থিতি

গতকাল ব্যাংকগুলো প্রবাসী আয় আনতে ১১৪ টাকা পর্যন্ত দাম প্রস্তাব করে। আর রপ্তানি বিল নগদায়ন করে গড়ে ১০৫ টাকা দরে। ফলে আমদানিকারকদের প্রতি ডলারের জন্য গুনতে হয় ১০৫-১০৭ টাকা। তবে খোলাবাজারে গতকাল দাম কমে ১১৪–১১৫ টাকায় ডলার কেনাবেচা হয়।

ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, এখন আমদানিতে ডলারের দাম যত কম দাম রাখা যায়, তা রাখা হচ্ছে। অনেকে ডলার বিক্রি করে লোকসানও গুনছে।