বৃহস্পতিবার | ২২ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo গণভোট উপলক্ষে চাঁদপুর ডিএনসির উদ্যোগে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo কয়রা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ Logo গাছতলা দরবার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু শাহজালাল শাহপরানের বাংলায় ওলী বিদ্বেষীদের ঠাঁই হবে না-মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ Logo নোবিপ্রবিতে ‘বর্ধিত সাদা দল’-এর আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু Logo বীরগঞ্জে আলেম সমাজের আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া অনুষ্ঠান হয়েছে Logo বীরগঞ্জে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে সংবাদ সম্মেলন Logo বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য বিকৃত করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা Logo ইবিতে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষা কৌশল ও আত্মবিশ্বাস উন্নয়ন কর্মশালা উদ্বোধন Logo নির্বাচনী নিরাপত্তায় কয়রায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সচেতনতামূলক ফুট পেট্রোলিং Logo কচুয়ার কাদলা-দরবেশগঞ্জ সমাজকল্যাণ খেলা ঘরের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

করোনার আতুর ঘর এখন গাংনীর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স 

  • rahul raj
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:১২ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২০
  • ৮২৬ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন করোনার আতুর ঘর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সবার কাছে। তিনজন চিকিৎসক, নার্স, অফিস সহকারী, স্টোরকিপারসহ ৯ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ। একই সঙ্গে ল্যাব টেকনিশিয়ান রয়েছেন লকডাউনে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম রিয়াজুল আলম আক্রান্ত হলেও তিনি করোনামুক্ত হয়ে আবারও দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে হাসপাতালের চলমান কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যসেবা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলায় করোনা আক্রান্ত সাধারণ রোগী ছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগের আক্রান্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের হোম কোয়ারেন্টিন বা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়টি উপেক্ষিত। ফলে করোনাভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি।
গাংনী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৪ আগস্ট হাসপাতালের আরএমও ডা. সাদিয়া আক্তার, নার্স আমেনা খাতুন ও স্টোর কিপার দবির উদ্দীন আক্রান্ত হন। এর আগে ২৬ জুলাই করোনা আক্রান্ত হন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) এসএম তানভির আহম্মেদ। একই সময়ে মেডিকেল অফিসার ডা. হামিদুল ইসলাম সস্ত্রীক ও অফিস সহকারী আসাদুল ইসলাম লিটন কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজ নিজ বাড়িতে লকডাউনে হোম আইসোলেশনে আছেন। হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান সুনিতি রায়ের স্বামী আক্রান্ত হয়েছেন ৪ আগস্ট। ফলে সুনিতা রায় নিজ বাড়িতে লকডাউনে রয়েছেন। তিনি গাংনী হাসপাতালের করোনাভাইরাস নমুনা সংগ্রহকারী দলের অন্যতম সদস্য। তিনি লকডাউনে থাকায় নমুনা সংগ্রহ নিয়ে একটা সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়াও এসএম তানভির আহম্মেদ আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে ওষুধ পৌঁছুনো ও তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহকারী দলের সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। অপরদিকে প্রধান সহকারী আসাদুল ইসলাম লিটন ঢাকায় অপারেশন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা সংশ্লিষ্ঠদের। বাকিরা স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত।
বিভিন্ন এলাকা ও আক্রান্তদের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জ¦র সর্দি কাশি হওয়ায় করোনা টেস্টে আসেন তারা। এসময় নিজ বাড়িতে লকডাউনে না থেকে ও সামাজিক দূরত্ব না মেনেই চলাচল করছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও, নার্সসহ যারা করোনাক্রান্ত তারা নমুনা পরীক্ষাতে দিয়ে রীতিমতো অফিস করেছেন। তাদের সংস্পর্শে এসেছেন কয়েকশত মানুষ। জ্বর সেরে যাওয়ার পর ও নমুনা পরীক্ষার রির্পোট না আসায় স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন পজেটিভ রিপোর্ট আসতে পারে ভেবে স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়িয়েছেন।
এদিকে করোনাক্রান্ত গাংনীর আমতৈল গ্রামের ইউপি সদস্য ফজলুল হক বেশ কয়েকদিন ধরে অবাধে চলাফেরা করছেন। মসজিদে নামাজ আদায় থেকে শুরু করে চায়ের দোকানে আড্ডা এবং স্বাভাবিক সব কাজকর্মই করেছেন তিনি। বামন্দীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক চপল গেল দুই দিন ধরে বাইরে স্বাভাবিক চলাফেরা করছেন। একইভাবে করোনাক্রান্ত সহড়াবাড়িয়ার আওয়ামী লীগ নেতা একরামুল হক আহার চায়ের দোকানে আড্ডা আর সালিশ বৈঠক করছেন সব সময়। এরা পরিবার প্রতিবেশি এমনকি এলাকার লোকজনের জন্য জিবনের হুমকী।
অপরদিকে, জেলার একটি বড় অংশ নিয়ে গঠিত গাংনী উপজেলা। ফলে জেলার প্রায় অর্ধেক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেশিরভাগ দরিদ্র মানুষ চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন করোনা আক্রান্ত হবার কারণে সেবা দান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। সেই সাথে অনেকেই করোনা আক্রান্ত হবার ভয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে চাইছেন না।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম রিয়াজুল আলম বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে অনেক সাফল্য রয়েছে আমাদের। এ সাফল্য ধরে রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। হাসপাতালে কর্মরতদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিন্তিত স্বাস্থ্য বিভাগ। তিনি আরো বলেন, যারা লকডাউন বা আইসোলেশন অমান্য করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোট উপলক্ষে চাঁদপুর ডিএনসির উদ্যোগে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

করোনার আতুর ঘর এখন গাংনীর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স 

আপডেট সময় : ১০:২৭:১২ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২০

নিউজ ডেস্ক:

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন করোনার আতুর ঘর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সবার কাছে। তিনজন চিকিৎসক, নার্স, অফিস সহকারী, স্টোরকিপারসহ ৯ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ। একই সঙ্গে ল্যাব টেকনিশিয়ান রয়েছেন লকডাউনে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম রিয়াজুল আলম আক্রান্ত হলেও তিনি করোনামুক্ত হয়ে আবারও দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে হাসপাতালের চলমান কার্যক্রম ও স্বাস্থ্যসেবা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলায় করোনা আক্রান্ত সাধারণ রোগী ছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগের আক্রান্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের হোম কোয়ারেন্টিন বা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়টি উপেক্ষিত। ফলে করোনাভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি।
গাংনী হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৪ আগস্ট হাসপাতালের আরএমও ডা. সাদিয়া আক্তার, নার্স আমেনা খাতুন ও স্টোর কিপার দবির উদ্দীন আক্রান্ত হন। এর আগে ২৬ জুলাই করোনা আক্রান্ত হন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (এসএসিএমও) এসএম তানভির আহম্মেদ। একই সময়ে মেডিকেল অফিসার ডা. হামিদুল ইসলাম সস্ত্রীক ও অফিস সহকারী আসাদুল ইসলাম লিটন কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজ নিজ বাড়িতে লকডাউনে হোম আইসোলেশনে আছেন। হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান সুনিতি রায়ের স্বামী আক্রান্ত হয়েছেন ৪ আগস্ট। ফলে সুনিতা রায় নিজ বাড়িতে লকডাউনে রয়েছেন। তিনি গাংনী হাসপাতালের করোনাভাইরাস নমুনা সংগ্রহকারী দলের অন্যতম সদস্য। তিনি লকডাউনে থাকায় নমুনা সংগ্রহ নিয়ে একটা সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়াও এসএম তানভির আহম্মেদ আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে ওষুধ পৌঁছুনো ও তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহকারী দলের সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। অপরদিকে প্রধান সহকারী আসাদুল ইসলাম লিটন ঢাকায় অপারেশন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা সংশ্লিষ্ঠদের। বাকিরা স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত।
বিভিন্ন এলাকা ও আক্রান্তদের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জ¦র সর্দি কাশি হওয়ায় করোনা টেস্টে আসেন তারা। এসময় নিজ বাড়িতে লকডাউনে না থেকে ও সামাজিক দূরত্ব না মেনেই চলাচল করছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও, নার্সসহ যারা করোনাক্রান্ত তারা নমুনা পরীক্ষাতে দিয়ে রীতিমতো অফিস করেছেন। তাদের সংস্পর্শে এসেছেন কয়েকশত মানুষ। জ্বর সেরে যাওয়ার পর ও নমুনা পরীক্ষার রির্পোট না আসায় স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন পজেটিভ রিপোর্ট আসতে পারে ভেবে স্বাভাবিকভাবে ঘুরে বেড়িয়েছেন।
এদিকে করোনাক্রান্ত গাংনীর আমতৈল গ্রামের ইউপি সদস্য ফজলুল হক বেশ কয়েকদিন ধরে অবাধে চলাফেরা করছেন। মসজিদে নামাজ আদায় থেকে শুরু করে চায়ের দোকানে আড্ডা এবং স্বাভাবিক সব কাজকর্মই করেছেন তিনি। বামন্দীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক চপল গেল দুই দিন ধরে বাইরে স্বাভাবিক চলাফেরা করছেন। একইভাবে করোনাক্রান্ত সহড়াবাড়িয়ার আওয়ামী লীগ নেতা একরামুল হক আহার চায়ের দোকানে আড্ডা আর সালিশ বৈঠক করছেন সব সময়। এরা পরিবার প্রতিবেশি এমনকি এলাকার লোকজনের জন্য জিবনের হুমকী।
অপরদিকে, জেলার একটি বড় অংশ নিয়ে গঠিত গাংনী উপজেলা। ফলে জেলার প্রায় অর্ধেক মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেশিরভাগ দরিদ্র মানুষ চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন করোনা আক্রান্ত হবার কারণে সেবা দান কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। সেই সাথে অনেকেই করোনা আক্রান্ত হবার ভয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসতে চাইছেন না।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম রিয়াজুল আলম বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে অনেক সাফল্য রয়েছে আমাদের। এ সাফল্য ধরে রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। হাসপাতালে কর্মরতদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিন্তিত স্বাস্থ্য বিভাগ। তিনি আরো বলেন, যারা লকডাউন বা আইসোলেশন অমান্য করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।