বৃহস্পতিবার | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ Logo পলাশবাড়ীতে বিএনপির বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত Logo সংসদ সদস্য নুরুল আমিন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত Logo  পলাশবাড়ী মডেল মসজিদ তিন বছরেও চালু হয়নি, জেলা প্রশাসকের নির্দেশের পরও অগ্রগতি শূন্য Logo চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের সাথে এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের মতবিনিময় সভা Logo চাঁদপুরে দুই সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর রমজানের ফুড প্যাকেজ বিতরণ Logo খুব দ্রুতই আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাবে কয়রাবাসী – স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি Logo জীবননগরে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা Logo শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে চাঁবিপ্রবি উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo হালিশহরে বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণ দগ্ধ নয় জন

দ্বিতীয় দিনের মতো রাসিক কর্মচারীদের আন্দোলন !

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:২৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১০ জুলাই ২০১৭
  • ৭৯৪ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজও তারা নগর ভবনের প্রধান ফটক ও শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় তালা দিয়ে রেখেছেন।
রবিবারের মতো সোমবারও কর্মচারীরা নগর ভবনের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে সকাল থেকে ফের বিক্ষোভ করেছেন। এতে কোনো কর্মকর্তা সকাল থেকে ভেতরে ঢুকতে পারেননি। অনেক দর্শনার্থী চিড়িয়াখানা গিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
রবিবার বেলা ৩টার দিকে নগর ভবনের মূল ফটক খুলে দেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু চিড়িয়াখানা ও শালবাগানে থাকা করপোরেশনের গ্যারেজ খুলে দেননি তারা। তাদের এমন আন্দোলনে এক রকম স্থবির হয়ে পড়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন।
১১ দফা দাবিতে গেল ১২ জুন কর্মচারীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। ওই মানববন্ধনের পর গত ১৯ জুন নগর ভবনে তালা দিয়ে কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। ওইদিন আন্দোলনরত কর্মচারী ঘোষণা দিয়েছিলেন, দাবি আদায় না হলে ৯ জুলাই থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করা হবে। ফলে রবিবার সকাল থেকে তারা সেই কর্মসূচি শুরু করেছেন।
তবে সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গতকালও নগর ভবনে ছিলেন না। নিজ দফতরের কাজে মেয়র এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নগর ভবনের ভেতরে ও বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার মনিটরিং অফিসার শেখ আবু জাফর বলেন, সকালে চিড়িয়াখানার একটি গেইট খুলে পশুদের খাবার ঢোকাতে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবে এদিন তারা কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষেও তালা দিয়েছেন। সব কর্মকর্তাকে চিড়িয়াখানা থেকেও বের করে দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল শেখ বলেন, গেল বছরের ২৪ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে সিটি করপোরেশনের দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত দক্ষ নিয়মিত কর্মচারীদের দৈনিক ৫০০ টাকা এবং অদক্ষ অনিয়মিত কর্মচারীদের প্রতিদিন ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু গত এক বছরেও করপোরেশন কর্মচারীদের দৈনিক মজুরি বাড়ায়নি। অন্য সিটি করপোরেশনে সরকারি নিয়মে বেতন দেওয়া হলেও রাসিকে ৩৩০ টাকা করে দেওয়া হয়। এতে রাসিকের ২ হাজার ২০০ জন কর্মচারী সরকারি নিয়মে তাদের মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই ১১ দাফা দাবিতে এই কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা।
কর্মচারীদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী মজুরি প্রদান, স্থায়ী কর্মচারীদের জ্যৈষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, স্থায়ী কর্মচারীদের গৃহ নির্মাণের ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা, মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পোষ্যদের চাকরি প্রদান এবং মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ।
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

দ্বিতীয় দিনের মতো রাসিক কর্মচারীদের আন্দোলন !

আপডেট সময় : ০৬:১৫:২৩ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১০ জুলাই ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীরা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজও তারা নগর ভবনের প্রধান ফটক ও শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় তালা দিয়ে রেখেছেন।
রবিবারের মতো সোমবারও কর্মচারীরা নগর ভবনের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে সকাল থেকে ফের বিক্ষোভ করেছেন। এতে কোনো কর্মকর্তা সকাল থেকে ভেতরে ঢুকতে পারেননি। অনেক দর্শনার্থী চিড়িয়াখানা গিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
রবিবার বেলা ৩টার দিকে নগর ভবনের মূল ফটক খুলে দেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু চিড়িয়াখানা ও শালবাগানে থাকা করপোরেশনের গ্যারেজ খুলে দেননি তারা। তাদের এমন আন্দোলনে এক রকম স্থবির হয়ে পড়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন।
১১ দফা দাবিতে গেল ১২ জুন কর্মচারীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। ওই মানববন্ধনের পর গত ১৯ জুন নগর ভবনে তালা দিয়ে কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। ওইদিন আন্দোলনরত কর্মচারী ঘোষণা দিয়েছিলেন, দাবি আদায় না হলে ৯ জুলাই থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করা হবে। ফলে রবিবার সকাল থেকে তারা সেই কর্মসূচি শুরু করেছেন।
তবে সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গতকালও নগর ভবনে ছিলেন না। নিজ দফতরের কাজে মেয়র এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নগর ভবনের ভেতরে ও বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার মনিটরিং অফিসার শেখ আবু জাফর বলেন, সকালে চিড়িয়াখানার একটি গেইট খুলে পশুদের খাবার ঢোকাতে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবে এদিন তারা কর্মকর্তাদের অফিস কক্ষেও তালা দিয়েছেন। সব কর্মকর্তাকে চিড়িয়াখানা থেকেও বের করে দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল শেখ বলেন, গেল বছরের ২৪ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে সিটি করপোরেশনের দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত দক্ষ নিয়মিত কর্মচারীদের দৈনিক ৫০০ টাকা এবং অদক্ষ অনিয়মিত কর্মচারীদের প্রতিদিন ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু গত এক বছরেও করপোরেশন কর্মচারীদের দৈনিক মজুরি বাড়ায়নি। অন্য সিটি করপোরেশনে সরকারি নিয়মে বেতন দেওয়া হলেও রাসিকে ৩৩০ টাকা করে দেওয়া হয়। এতে রাসিকের ২ হাজার ২০০ জন কর্মচারী সরকারি নিয়মে তাদের মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই ১১ দাফা দাবিতে এই কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা।
কর্মচারীদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী মজুরি প্রদান, স্থায়ী কর্মচারীদের জ্যৈষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি, স্থায়ী কর্মচারীদের গৃহ নির্মাণের ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা, মৃত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পোষ্যদের চাকরি প্রদান এবং মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ।