বুধবার | ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ Logo পলাশবাড়ীতে বিএনপির বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত Logo সংসদ সদস্য নুরুল আমিন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত Logo  পলাশবাড়ী মডেল মসজিদ তিন বছরেও চালু হয়নি, জেলা প্রশাসকের নির্দেশের পরও অগ্রগতি শূন্য Logo চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের সাথে এমপি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের মতবিনিময় সভা Logo চাঁদপুরে দুই সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে জামায়াতে ইসলামীর রমজানের ফুড প্যাকেজ বিতরণ Logo খুব দ্রুতই আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাবে কয়রাবাসী – স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এমপি Logo জীবননগরে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভা Logo শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে চাঁবিপ্রবি উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo হালিশহরে বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণ দগ্ধ নয় জন

রোজার আগেই বাজারে আগুন !

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:০৭ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১ মে ২০১৭
  • ৭৮৫ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

মাহে রমজানের এখনো বাকি প্রায় ১ মাস। অথচ এখনই বাজারে নিত্যপণ্যের গায়ে যেন আগুন লেগেছে। একের পর এক পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। ক্রেতারা বলছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রমজানের আগেই অতিরিক্ত মুনাফা তুলে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে সরকারের এমন হুমকি-ধামকির মুখে ব্যবসায়ীরা আগেই ধাপে ধাপে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে দাম বাড়ার পেছনে বিক্রেতারাও নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রমজানে চাহিদা তৈরি হবে এমন পাঁচ পণ্যের দাম কয়েক দিনে কেজিতে বেড়েছে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত। প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা। এ ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত। এক বছরে ২৮ শতাংশ দাম বেড়ে চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৮-৭৫ টাকায়। নতুন মসুর ডাল বাজারে ওঠার পরও তা বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-১৫০ টাকায়। রমজানকে সামনে রেখে মসুর ডালের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাত ও মানভেদে দাম ১৭ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১০০-৪০০ টাকায়। শুধুমাত্র কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০-২৬ টাকায়। উৎপাদন ভালো হওয়ায় গত এক বছরে পেঁয়াজের দাম কমেছে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত। এ ছাড়া দাম বেড়ে গরুর মাংস ৫০০-৫৫০ এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৭৫০ টাকায়। এ যাবতকালের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে রসুন সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি রসুন। ধাপে ধাপে বাড়ছে এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি, শুকনো মরিচ, হলুদ, জিরা, তেজপাতার দরও।

এদিকে ডাল, খেজুর, চিনি, মুড়ির দাম তেমন না বাড়লেও দু’তিন মাস আগে থেকেই সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে নিয়েছে বলে বাজার পর্যবেক্ষকরা অভিযোগ তুলেছেন। তাদের মতে, অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম এমনভাবে বাড়ানো হচ্ছে যে রমজানে তা আর বাড়ানোর কোনো প্রয়োজনই পড়বে না।

বাজার বিশ্লেষকদের দাবি, সিন্ডিকেট এবং মজুদদারির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে রমজানের এক মাস আগেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা চলছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে- রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম আরো বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণে প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারা, নিত্যপণ্যের দর তদারকিতে গাফিলতি এবং বিশেষ মহলের অপকৌশলে বছরের পর বছর ধরে টিসিবি (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) নিষ্কিয় হয়ে থাকায় রমজানের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বরাবরই ব্যর্থ। এর উপর মন্ত্রী-আমলাদের আত্মতুষ্টি, দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।

এ অবস্থায় মজুদদারি ঠেকাতে রমজানের আগেই বাজার মনিটরিংয়ের সুপারিশ করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের হয়রানি প্রতিরোধে মজুদদারি আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

রোজার আগেই বাজারে আগুন !

আপডেট সময় : ১১:০৭:০৭ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ১ মে ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

মাহে রমজানের এখনো বাকি প্রায় ১ মাস। অথচ এখনই বাজারে নিত্যপণ্যের গায়ে যেন আগুন লেগেছে। একের পর এক পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। ক্রেতারা বলছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রমজানের আগেই অতিরিক্ত মুনাফা তুলে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে সরকারের এমন হুমকি-ধামকির মুখে ব্যবসায়ীরা আগেই ধাপে ধাপে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে দাম বাড়ার পেছনে বিক্রেতারাও নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রমজানে চাহিদা তৈরি হবে এমন পাঁচ পণ্যের দাম কয়েক দিনে কেজিতে বেড়েছে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত। প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা। এ ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত। এক বছরে ২৮ শতাংশ দাম বেড়ে চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৮-৭৫ টাকায়। নতুন মসুর ডাল বাজারে ওঠার পরও তা বিক্রি হচ্ছে ১৩৫-১৫০ টাকায়। রমজানকে সামনে রেখে মসুর ডালের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাত ও মানভেদে দাম ১৭ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১০০-৪০০ টাকায়। শুধুমাত্র কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০-২৬ টাকায়। উৎপাদন ভালো হওয়ায় গত এক বছরে পেঁয়াজের দাম কমেছে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত। এ ছাড়া দাম বেড়ে গরুর মাংস ৫০০-৫৫০ এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৭৫০ টাকায়। এ যাবতকালের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া মসলা জাতীয় পণ্যের মধ্যে রসুন সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি রসুন। ধাপে ধাপে বাড়ছে এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি, শুকনো মরিচ, হলুদ, জিরা, তেজপাতার দরও।

এদিকে ডাল, খেজুর, চিনি, মুড়ির দাম তেমন না বাড়লেও দু’তিন মাস আগে থেকেই সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে নিয়েছে বলে বাজার পর্যবেক্ষকরা অভিযোগ তুলেছেন। তাদের মতে, অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম এমনভাবে বাড়ানো হচ্ছে যে রমজানে তা আর বাড়ানোর কোনো প্রয়োজনই পড়বে না।

বাজার বিশ্লেষকদের দাবি, সিন্ডিকেট এবং মজুদদারির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে রমজানের এক মাস আগেই জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা চলছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে- রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম আরো বাড়বে। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণে প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারা, নিত্যপণ্যের দর তদারকিতে গাফিলতি এবং বিশেষ মহলের অপকৌশলে বছরের পর বছর ধরে টিসিবি (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) নিষ্কিয় হয়ে থাকায় রমজানের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বরাবরই ব্যর্থ। এর উপর মন্ত্রী-আমলাদের আত্মতুষ্টি, দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।

এ অবস্থায় মজুদদারি ঠেকাতে রমজানের আগেই বাজার মনিটরিংয়ের সুপারিশ করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের হয়রানি প্রতিরোধে মজুদদারি আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।