শনিবার | ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | হেমন্তকাল
শিরোনাম :
Logo খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা Logo টেকনাফে বিজিবির অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজন সন্ত্রাসী আটক Logo মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলা-বারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারিগর আটক: Logo সাতক্ষীরা-০২ এ ধানের শীষের জয়ে নতুন অধ্যায়—বিএনপির একতাবদ্ধ ঘোষণা Logo বুটেক্স অ্যালামনাই ইউএসএ-এর আত্মপ্রকাশ: যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের মিলনমেলা ও কমিটি গঠন Logo বুটেক্সের প্রথম সমাবর্তন আগামী ২৭ ডিসেম্বর Logo রাবিতে ইলা মিত্রকে নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo নোবিপ্রবির সঙ্গে তুরস্কের রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর Logo নোবিপ্রবিতে গবেষণা, বৈশ্বিক র‌্যাঙ্কিং এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের করণীয় শীর্ষক প্রশিক্ষণ Logo রাবি ময়মনসিংহ জেলা সমিতির নতুন কমিটি ঘোষণা

জীবন বাঁচাতে কিডনি বিক্রি করছে যে গ্রামের বাসিন্দারা !

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল ২০১৭
  • ৭৭৫ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

জীবন বাঁচানো তাগিদে কত কিছুই করে থাকে মানুষ। তাই বলে নিজের শরীরের কিডনি বিক্রি! অবিশ্বাস্যই মনে হচ্ছে। কিন্তু এমনটা হয়ে আসছে ভারতের গুজরাটের একটি গ্রামে। আইনের তোয়াক্কা না করেই দরিদ্র গ্রামবাসীরা জীবনধারণের জন্য বিক্রি করছেন তাদের কিডনি। যা পাচার হয়ে যাচ্ছে অন্য পার্শ্ববর্তী রাজ্যে। এমনকি শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, নেপালেও ছড়িয়ে আছে এই চক্র।

গুজরাটের আনন্দ জেলা থেকে মাত্র ৩২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাণ্ডোলি নামের ওই গ্রামটি। গত এক বছরে সেখানকার মোট ১১ জন বাসিন্দা অর্থের জন্য নিজেদের কিডনি বিক্রি করে দিয়েছেন। মুম্বাইয়ের এক এজেন্ট জাভেদ খান, ওই গ্রামের দরিদ্র চাষী ও দিনমজুর পরিবারগুলিকে টাকার লোভ দেখিয়ে ফাঁসায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তিনি আরো জানান, জাভেদের কথা মতো অর্থের জন্য কিডনি বিক্রিতে রাজিও হয়ে যান অনেকে। তারপর জাতীয় ক্যাপিটাল রিজিয়নে (এনসিআর) অস্ত্রোপচার করে বেআইনিভাবে তাঁদের কিডনি বের করে নেওয়া হয়। বিনিময়ে দেওয়া হয় দেড় থেকে আড়াই লক্ষ টাকা। এখানেই শেষ নয়, কোনও ব্যক্তিকে কিডনি বেচার জন্য রাজি করতে পারলেও সেই ব্যক্তিকে দেওয়া হয় ২৫ হাজার টাকা।

স্থানীয় একটি গণমাধ্যম মিরর-এর এক প্রতিনিধি বেশ কিছু গ্রামবাসীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথাও বলেন। কীভাবে তাঁদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কীভাবে অস্ত্রোপচার হয়েছে, সে সব অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

গুজরাটে এই ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। বেআইনিভাবে কিডনি কেনা-বেচার অভিযোগে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল পিপলাভ গ্রামের নামও। ২০০৭ সালে সেই ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করেছিল মুম্বাই পুলিশ। পাণ্ডোলি গ্রামের এই বেআইনি কাজের সঙ্গে কারা কারা যুক্ত রয়েছে, তার খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন, কীভাবে দিনের পর দিন গোপনে চলছে এই ব্যবসা। আরও কতদূর ছড়িয়ে এর জাল। গত সপ্তাহে কিডনি পাচার চক্রের সদস্য চিকিৎসক অমিত রাউতকে গ্রেফতার করেছে গুজরাট পুলিশ।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

জীবন বাঁচাতে কিডনি বিক্রি করছে যে গ্রামের বাসিন্দারা !

আপডেট সময় : ১১:৩৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

জীবন বাঁচানো তাগিদে কত কিছুই করে থাকে মানুষ। তাই বলে নিজের শরীরের কিডনি বিক্রি! অবিশ্বাস্যই মনে হচ্ছে। কিন্তু এমনটা হয়ে আসছে ভারতের গুজরাটের একটি গ্রামে। আইনের তোয়াক্কা না করেই দরিদ্র গ্রামবাসীরা জীবনধারণের জন্য বিক্রি করছেন তাদের কিডনি। যা পাচার হয়ে যাচ্ছে অন্য পার্শ্ববর্তী রাজ্যে। এমনকি শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, নেপালেও ছড়িয়ে আছে এই চক্র।

গুজরাটের আনন্দ জেলা থেকে মাত্র ৩২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পাণ্ডোলি নামের ওই গ্রামটি। গত এক বছরে সেখানকার মোট ১১ জন বাসিন্দা অর্থের জন্য নিজেদের কিডনি বিক্রি করে দিয়েছেন। মুম্বাইয়ের এক এজেন্ট জাভেদ খান, ওই গ্রামের দরিদ্র চাষী ও দিনমজুর পরিবারগুলিকে টাকার লোভ দেখিয়ে ফাঁসায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তিনি আরো জানান, জাভেদের কথা মতো অর্থের জন্য কিডনি বিক্রিতে রাজিও হয়ে যান অনেকে। তারপর জাতীয় ক্যাপিটাল রিজিয়নে (এনসিআর) অস্ত্রোপচার করে বেআইনিভাবে তাঁদের কিডনি বের করে নেওয়া হয়। বিনিময়ে দেওয়া হয় দেড় থেকে আড়াই লক্ষ টাকা। এখানেই শেষ নয়, কোনও ব্যক্তিকে কিডনি বেচার জন্য রাজি করতে পারলেও সেই ব্যক্তিকে দেওয়া হয় ২৫ হাজার টাকা।

স্থানীয় একটি গণমাধ্যম মিরর-এর এক প্রতিনিধি বেশ কিছু গ্রামবাসীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথাও বলেন। কীভাবে তাঁদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কীভাবে অস্ত্রোপচার হয়েছে, সে সব অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

গুজরাটে এই ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। বেআইনিভাবে কিডনি কেনা-বেচার অভিযোগে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল পিপলাভ গ্রামের নামও। ২০০৭ সালে সেই ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করেছিল মুম্বাই পুলিশ। পাণ্ডোলি গ্রামের এই বেআইনি কাজের সঙ্গে কারা কারা যুক্ত রয়েছে, তার খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন, কীভাবে দিনের পর দিন গোপনে চলছে এই ব্যবসা। আরও কতদূর ছড়িয়ে এর জাল। গত সপ্তাহে কিডনি পাচার চক্রের সদস্য চিকিৎসক অমিত রাউতকে গ্রেফতার করেছে গুজরাট পুলিশ।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন