শনিবার | ৭ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo ইরানের নেতৃত্বে ধর্মীয় নেতা এলেও আপত্তি নেই: ট্রাম্পের Logo দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী Logo মার্কিন-ইসরায়েল গোটা বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় -হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান Logo রোজাদারদের পাশে ‘আলোর দিশা’: দুই শতাধিক মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ Logo হিজলগাছের নিচে ধানের ক্ষেতে ইফতার: ভাওয়াল যুব কল্যাণ সংগঠনের অনন্য আয়োজন Logo এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফুটাতে চাঁদপুর ঢাবিয়ানের ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণ Logo খুবির সাতক্ষীরা এসোসিয়েশনে’র নেতৃত্বে পারভেজ-মোস্তফা Logo ঝিনাইদহে বিএনপি’র নেতা কর্মীদের পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠালো আ.লীগ নেতা কর্মীরা! Logo স্বাধীনতা পদক ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা: চেনা ব্রাহ্মণের পৈতা লাগে না Logo সাফল্যে দেখাচ্ছে ‘ই-বেইলবন্ড’, আরও ৭ জেলায় চালুর উদ্যোগ

গাজায় ফিলিস্তিনি ফুটবলার নিহত

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:৪৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট ২০২৫
  • ৭৯৭ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় গাজায় ফিলিস্তিন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার সুলেইমান ওবেইদ নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী গাজার দক্ষিণাঞ্চলে মানবিক সাহায্য পেতে অপেক্ষমাণ ফিলিস্তিনি জনতার ওপর ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালালে ৪০ বছর বয়সী এই ফুটবলার প্রাণ হারান।

ওবেইদের মৃত্যুকে জাতি এবং ক্রীড়া সম্প্রদায় উভয়ের জন্যই একটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হিসেবে বিশ্বজুড়ে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

গাজা শহরে ইসারায়েলি নারকীয় হামলা এপর্যন্ত ২৩ মাসে পৌঁছেছে। গত মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ৩৯ জন ক্রীড়াবিদ, স্কাউট ও তরুনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। সব মিলিয়ে ফিলিস্তিনের ক্রীড়াঙ্গন ও তরুণ সমাজ মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৬৬০ জনেরও বেশী মৃত্যুও খবর পাওয়া গেছে।

ফিলিস্তিন ফুটবল এসোসিয়েশন (পিএএফ) নিজেদের ওয়েবসাইটে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সুলেইমানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

পিএএফের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে মানবিক সাহায্যের জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় ও বিচ সার্ভিসেস দলের তারকা সুলেইমান আল ওবেইদ নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিন ফুটবলে সুলেইমান “দ্য ব্ল্যাক পার্ল”, “দ্য গ্যাজেল”, “হেনরি অব প্যালেস্টাইন” এবং “পেলে অব প্যালেস্টাইন ফুটবল” নামে পরিচিত ছিলেন। ফিলিস্তিন ফুটবলের এই পেলে পাঁচ সন্তান রেখে গেছেন।’

ফিলিস্তিনি ফুটবলে দারুন জনপ্রিয় ছিলেন ওবেইদ। নিজ শহরের ক্লাব শাবাব আল শাতির হয়ে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন ওবেইদ। এরপর ওয়েস্ট ব্যাংক প্রিমিয়ার লিগে আল-আমারি ক্লাবে যোগ দেন।

আন্তর্জাতিক ভাবেও তিনি বেশ পরিচিত ছিলেন। ২০১০ সালে পশ্চিম এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন চ্যাম্পিয়নশীপে ইয়েমের বিপক্ষে ফিলিস্তিনের হয়ে তিনি প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেছিলেন।

২০১২ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ বাছাইপর্বে ও ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিনি ফিলিস্তিনকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

তার মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং গাজায় বেসামরিক নাগরিক ও ক্রীড়াবিদদের উপর অব্যাহতভাবে হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সুলেইমান ওবেইদের মৃত্যু কেবল ফিলিস্তিন ফুটবলের জন্যই এক মর্মান্তিক ঘটনা নয়, বরং চলমান সংঘাতের ভয়াবহ মানবিক ক্ষতিরও একটি ভয়াবহ স্মারক।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের নেতৃত্বে ধর্মীয় নেতা এলেও আপত্তি নেই: ট্রাম্পের

গাজায় ফিলিস্তিনি ফুটবলার নিহত

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:৪৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট ২০২৫

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় গাজায় ফিলিস্তিন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার সুলেইমান ওবেইদ নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী গাজার দক্ষিণাঞ্চলে মানবিক সাহায্য পেতে অপেক্ষমাণ ফিলিস্তিনি জনতার ওপর ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালালে ৪০ বছর বয়সী এই ফুটবলার প্রাণ হারান।

ওবেইদের মৃত্যুকে জাতি এবং ক্রীড়া সম্প্রদায় উভয়ের জন্যই একটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হিসেবে বিশ্বজুড়ে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

গাজা শহরে ইসারায়েলি নারকীয় হামলা এপর্যন্ত ২৩ মাসে পৌঁছেছে। গত মাসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ৩৯ জন ক্রীড়াবিদ, স্কাউট ও তরুনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। সব মিলিয়ে ফিলিস্তিনের ক্রীড়াঙ্গন ও তরুণ সমাজ মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৬৬০ জনেরও বেশী মৃত্যুও খবর পাওয়া গেছে।

ফিলিস্তিন ফুটবল এসোসিয়েশন (পিএএফ) নিজেদের ওয়েবসাইটে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সুলেইমানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

পিএএফের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে মানবিক সাহায্যের জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় ও বিচ সার্ভিসেস দলের তারকা সুলেইমান আল ওবেইদ নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিন ফুটবলে সুলেইমান “দ্য ব্ল্যাক পার্ল”, “দ্য গ্যাজেল”, “হেনরি অব প্যালেস্টাইন” এবং “পেলে অব প্যালেস্টাইন ফুটবল” নামে পরিচিত ছিলেন। ফিলিস্তিন ফুটবলের এই পেলে পাঁচ সন্তান রেখে গেছেন।’

ফিলিস্তিনি ফুটবলে দারুন জনপ্রিয় ছিলেন ওবেইদ। নিজ শহরের ক্লাব শাবাব আল শাতির হয়ে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন ওবেইদ। এরপর ওয়েস্ট ব্যাংক প্রিমিয়ার লিগে আল-আমারি ক্লাবে যোগ দেন।

আন্তর্জাতিক ভাবেও তিনি বেশ পরিচিত ছিলেন। ২০১০ সালে পশ্চিম এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন চ্যাম্পিয়নশীপে ইয়েমের বিপক্ষে ফিলিস্তিনের হয়ে তিনি প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেছিলেন।

২০১২ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ বাছাইপর্বে ও ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিনি ফিলিস্তিনকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

তার মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং গাজায় বেসামরিক নাগরিক ও ক্রীড়াবিদদের উপর অব্যাহতভাবে হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সুলেইমান ওবেইদের মৃত্যু কেবল ফিলিস্তিন ফুটবলের জন্যই এক মর্মান্তিক ঘটনা নয়, বরং চলমান সংঘাতের ভয়াবহ মানবিক ক্ষতিরও একটি ভয়াবহ স্মারক।