পঞ্চগড়ে অনলাইন জুয়া বিরোধী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

” তরুণ মন গড়ুক দেশ, জুয়ার নেশা করুক শেষ” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে অনলাইন জুয়া বিরোধী কমিটি পঞ্চগড় এর নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির আত্মপ্রকাশ ও পরিচিত অনুষ্ঠান, শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়।

কমিটির আহবায়ক এ.এফ. এম তানজিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিলন স্বাগত বক্তব্যে কমিটির কার্যক্রম তুলে ধরেন।

তিনি বলেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সাত সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করতে হবে। সভায় কমিটির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সিনিয়র আইনজীবী মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল, পঞ্চগড় জেলা পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম খায়ের, কলেজ শিক্ষক মোছাঃ জেবুন্নাহার জেলা (বাপার) সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জুয়েল, বিশিষ্ট সমাজসেবী শফিউজ্জামান রুবেল পাটোয়ারী, ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট এর প্রতিষ্ঠাতা মনির হোসেন ও প্রবীণ গণমাধ্যম কর্মী শহীদুল ইসলাম শহীদ প্রমূখ বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নাঈমা আকতার মনি।
সভাপতির বক্তব্যে তানজিরুল ইসলাম বলেন, অনলাইন জুয়ার নেশায় সর্বশান্ত হচ্ছে মানুষ, পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অনলাইন জুয়ার ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তরুণ সমাজকে নিঃস্ব হওয়া থেকে বাঁচাতে, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সমাজের সচেতন নাগরিকদের অনলাইন জুয়া বিরোধী কমিটি গঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি অনলাইন জুয়া বন্ধে যথোপযোগী আইন প্রণয়নের দাবিতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার মাধ্যমে এর আগ্রাসন রোধে সাংগঠনিকভাবে কাজ করবে।

পর্যায়ক্রমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে যারা স্বেচ্ছাশ্রমে এমন সমাজ উন্নয়ন মূলক কাজ করতে আগ্রহী নাগরিকরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনলাইন জুয়া নিশ্চিহ্ন করা হবে। অনলাইন জুয়ায় এ দেশ থেকে বছরে পাচার হচ্ছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি। তিনি দেশ, সমাজ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আমাদের এ কঠোর সামাজিক আন্দোলন। এ জুয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

সর্বোপরি অনলাইন জুয়া বন্ধে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক দলসহ সবার সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা কমিটির মূল লক্ষ্য হবে । মাদকের মতো অনলাইন জুয়াকেও ‘না’ বলার বার্তা পৌঁছে দিতে চাই প্রতিটি ঘরে ঘরে।

সভায় কয়েকজন ভূক্তভোগী জুয়ার কুফল তুলে ধরে বক্তব্য দেন। পরিশেষে উপদেষ্টা মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল উভয় কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

ট্যাগস :

পঞ্চগড়ে অনলাইন জুয়া বিরোধী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

আপডেট সময় : ১০:১৮:৫০ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

” তরুণ মন গড়ুক দেশ, জুয়ার নেশা করুক শেষ” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে অনলাইন জুয়া বিরোধী কমিটি পঞ্চগড় এর নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির আত্মপ্রকাশ ও পরিচিত অনুষ্ঠান, শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়।

কমিটির আহবায়ক এ.এফ. এম তানজিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিলন স্বাগত বক্তব্যে কমিটির কার্যক্রম তুলে ধরেন।

তিনি বলেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সাত সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করতে হবে। সভায় কমিটির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সিনিয়র আইনজীবী মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল, পঞ্চগড় জেলা পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম খায়ের, কলেজ শিক্ষক মোছাঃ জেবুন্নাহার জেলা (বাপার) সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জুয়েল, বিশিষ্ট সমাজসেবী শফিউজ্জামান রুবেল পাটোয়ারী, ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট এর প্রতিষ্ঠাতা মনির হোসেন ও প্রবীণ গণমাধ্যম কর্মী শহীদুল ইসলাম শহীদ প্রমূখ বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নাঈমা আকতার মনি।
সভাপতির বক্তব্যে তানজিরুল ইসলাম বলেন, অনলাইন জুয়ার নেশায় সর্বশান্ত হচ্ছে মানুষ, পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অনলাইন জুয়ার ভয়ঙ্কর প্রতারণার ফাঁদে পড়ে তরুণ সমাজকে নিঃস্ব হওয়া থেকে বাঁচাতে, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সমাজের সচেতন নাগরিকদের অনলাইন জুয়া বিরোধী কমিটি গঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি অনলাইন জুয়া বন্ধে যথোপযোগী আইন প্রণয়নের দাবিতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার মাধ্যমে এর আগ্রাসন রোধে সাংগঠনিকভাবে কাজ করবে।

পর্যায়ক্রমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে যারা স্বেচ্ছাশ্রমে এমন সমাজ উন্নয়ন মূলক কাজ করতে আগ্রহী নাগরিকরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনলাইন জুয়া নিশ্চিহ্ন করা হবে। অনলাইন জুয়ায় এ দেশ থেকে বছরে পাচার হচ্ছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি। তিনি দেশ, সমাজ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আমাদের এ কঠোর সামাজিক আন্দোলন। এ জুয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

সর্বোপরি অনলাইন জুয়া বন্ধে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক দলসহ সবার সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা কমিটির মূল লক্ষ্য হবে । মাদকের মতো অনলাইন জুয়াকেও ‘না’ বলার বার্তা পৌঁছে দিতে চাই প্রতিটি ঘরে ঘরে।

সভায় কয়েকজন ভূক্তভোগী জুয়ার কুফল তুলে ধরে বক্তব্য দেন। পরিশেষে উপদেষ্টা মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল উভয় কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।