শুক্রবার | ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo খুবিতে এআই ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত Logo গণভোট উপলক্ষে চাঁদপুর ডিএনসির উদ্যোগে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo কয়রা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ Logo গাছতলা দরবার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু শাহজালাল শাহপরানের বাংলায় ওলী বিদ্বেষীদের ঠাঁই হবে না-মোমবাতির প্রার্থী আহসান উল্লাহ Logo নোবিপ্রবিতে ‘বর্ধিত সাদা দল’-এর আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু Logo বীরগঞ্জে আলেম সমাজের আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া অনুষ্ঠান হয়েছে Logo বীরগঞ্জে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে সংবাদ সম্মেলন Logo বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য বিকৃত করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা Logo ইবিতে নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষা কৌশল ও আত্মবিশ্বাস উন্নয়ন কর্মশালা উদ্বোধন Logo নির্বাচনী নিরাপত্তায় কয়রায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সচেতনতামূলক ফুট পেট্রোলিং

১৫ বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১১:৫৫:০২ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪
  • ৭৫৬ বার পড়া হয়েছে

হাইকোর্টের ১৫ বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মসহ পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। এর মধ্যে গত ১৭ অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে বিচারকাজের বাইরে রাখা ১২ বিচারপতিও আছেন।

জাতীয় একটি দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত এই কাউন্সিলের অপর দুই সদস্য হলেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর আপিল বিভাগের বিচারপতি অপসারণ নিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত রায়ের পর সংবিধানের ৯৬ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়।

এই কাউন্সিল ইতোমধ্যে ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট বিচারিক দায়িত্ব থেকে ‘সাময়িক অব্যাহতি’ পাওয়া হাইকোর্টের তিন বিচারপতির কাছে তাদের অভিযোগের বিষয়ে পৃথকভাবে বক্তব্য গ্রহণ করেছে। এই তিনজন হলেন– বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হক।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গত ৭ নভেম্বর সর্বশেষ তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য গ্রহণ করেন।

জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য সন্তোষজনক না হলে তার বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশসহ প্রস্তাব পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠাবে কাউন্সিল।

এ ছাড়া গত মাসে যে ১২ বিচারপতিকে বিচারিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে, সেই বিচারপতিদের বিরুদ্ধেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিপিবদ্ধ করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিগগির তাদের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য (আত্মপক্ষ সমর্থন) গ্রহণ করা হবে।

১২ বিচারপতি হলেন– বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান, বিচারপতি নাঈমা হায়দার, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার, বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস, বিচারপতি খিজির হায়াত, বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান, বিচারপতি খোন্দকার দিলিরুজ্জামান, বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিন, বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান, বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও বিচারপতি এসএম মাসুদ হোসোইন দোলন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমেদ ভূঞা বলেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল-সংক্রান্ত রায়ের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এই কাউন্সিল কয়েকজন বিচারপতি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করছে। তবে তাদের বিষয়ে এখনও রাষ্ট্রপতির কাছে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থেকে কোনো অভিযোগ পাঠানো হয়নি।’

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্‌দীন মালিক বলেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল অভিযুক্ত বিচারপতির কাছে অভিযোগের বিষয়ে জবাব চাইবেন। পরে প্রয়োজনে তাদের সাক্ষাৎকারও গ্রহণ করবেন। এর আলোকে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে মতামত পাঠাবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করবেন।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে অপসারণ বা ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন। রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

খুবিতে এআই ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

১৫ বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু

আপডেট সময় : ১১:৫৫:০২ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪

হাইকোর্টের ১৫ বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মসহ পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। এর মধ্যে গত ১৭ অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে বিচারকাজের বাইরে রাখা ১২ বিচারপতিও আছেন।

জাতীয় একটি দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত এই কাউন্সিলের অপর দুই সদস্য হলেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর আপিল বিভাগের বিচারপতি অপসারণ নিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল সংক্রান্ত রায়ের পর সংবিধানের ৯৬ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়।

এই কাউন্সিল ইতোমধ্যে ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট বিচারিক দায়িত্ব থেকে ‘সাময়িক অব্যাহতি’ পাওয়া হাইকোর্টের তিন বিচারপতির কাছে তাদের অভিযোগের বিষয়ে পৃথকভাবে বক্তব্য গ্রহণ করেছে। এই তিনজন হলেন– বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হক।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গত ৭ নভেম্বর সর্বশেষ তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য গ্রহণ করেন।

জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য সন্তোষজনক না হলে তার বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশসহ প্রস্তাব পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়ার পর তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠাবে কাউন্সিল।

এ ছাড়া গত মাসে যে ১২ বিচারপতিকে বিচারিক দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে, সেই বিচারপতিদের বিরুদ্ধেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিপিবদ্ধ করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিগগির তাদের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য (আত্মপক্ষ সমর্থন) গ্রহণ করা হবে।

১২ বিচারপতি হলেন– বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খান, বিচারপতি নাঈমা হায়দার, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার, বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস, বিচারপতি খিজির হায়াত, বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান, বিচারপতি খোন্দকার দিলিরুজ্জামান, বিচারপতি শাহেদ নূর উদ্দিন, বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামান, বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলাম ও বিচারপতি এসএম মাসুদ হোসোইন দোলন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমেদ ভূঞা বলেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল-সংক্রান্ত রায়ের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এই কাউন্সিল কয়েকজন বিচারপতি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করছে। তবে তাদের বিষয়ে এখনও রাষ্ট্রপতির কাছে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থেকে কোনো অভিযোগ পাঠানো হয়নি।’

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্‌দীন মালিক বলেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল অভিযুক্ত বিচারপতির কাছে অভিযোগের বিষয়ে জবাব চাইবেন। পরে প্রয়োজনে তাদের সাক্ষাৎকারও গ্রহণ করবেন। এর আলোকে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল যদি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে মতামত পাঠাবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করবেন।

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে অপসারণ বা ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবেন। রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’