বৃহস্পতিবার | ৫ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo নোবিপ্রবিতে ছাত্রী হলের নামাজ ঘরকে গণরুমে রূপান্তরের অভিযোগ Logo যমুনা রোড স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল Logo দৈনিক চাঁদপুর খবর পরিবারের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান Logo পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রী কলেজে অতিরিক্ত  ফি আদায়ের অভিযোগ Logo খুবির সিরাজগঞ্জ এসোসিয়েশনের নতুন নেতৃত্বে মমিন ও সিয়াম। Logo ঝিনাইদহ স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’র নেতৃত্বে রাতুল-তৌকির Logo চাঁদপুর সেন্ট্রাল রোটারি ক্লাবের রামাদান খাদ্য সামগ্রী বিতরণ Logo সুন্দরবন-এ বিশেষ অভিযানে জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১ সদস্য আটক, অস্ত্র-গুলিসহ উদ্ধার Logo সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অপু চৌধুরীর কৃতজ্ঞতা Logo সুন্দরবন-এ শুরু হলো গোলপাতা আহরণ মৌসুম

রাজধানীতে শব্দদূষণে শীর্ষে ফার্মগেট !

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:৪৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০১৭
  • ৮১৫ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

শব্দদূষণে রাজধানীতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ফার্মগেট। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকা শহরের ৭০টি স্থানে জরিপ চালিয়ে শব্দের মাত্রা পরিমাপ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

জরিপে ঢাকা শহরকে আবাসিক এলাকা, মিশ্র এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, নীরব এলাকা ও শিল্প এলাকা এই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। দিনের বেলা, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী কত মাত্রার শব্দদূষণ হচ্ছে তার ওপর এ গবেষণা চালানো হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার ব্যস্ত স্থান ফার্মগেটে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১৩৫ দশমিক ৬ ডেসিবেল, যা জরিপে শীর্ষে রয়েছে। তুলনামূলক ভালো স্থানে আছে উত্তরা ১৪ নং সেক্টর। সেখানে শব্দের গড়মাত্রা ১০০ দশমিক ৮ ডেসিবেল। তবে গবেষকরা বলেন, উত্তরা ১৪ নং সেক্টরে গড়ে শব্দের যে গড়মাত্রা রয়েছে তা নির্ধারিত মানমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ।

নির্বাচিত ২০টি আবাসিক এলাকার মধ্যে শাজাহানপুর শব্দদূষণে শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১৩৩ দশমিক ৬ ডেসিবেল। এ পর্যায়ে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টর। সেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১০০ দশমিক ৮ ডেসিবেল।

নির্বাচিত ২০টি মিশ্র এলাকার মধ্যে ফার্মগেট শব্দদূষণের জন্য শীর্ষে অবস্থান করছে। যেখানে শব্দের মাত্রা দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১৩৫ দশমিক ৬ ডেসিবেল। তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে সেগুনবাগিচা, সেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১১৪ দশমিক ৬ ডেসিবেল।

নির্বাচিত ১৫টি বাণিজ্যিক এলাকার মধ্যে রামপুরা শব্দদূষণে শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১৩২ দশমিক ৮ ডেসিবেল। সর্বশেষ অর্থাত্ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে বেনারশী পল্লী, মিরপুর। সেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১০৬ দশমিক ৮ ডেসিবেল।

নির্বাচিত ১০টি নীরব এলাকার মধ্যে আইসিসিডিডিআরবি-মহাখালী শব্দদূষণের জন্য শীর্ষে অবস্থান করছে। যেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১২৯ দশমিক ৫ ডেসিবেল। সর্বশেষ অর্থাৎ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে কল্যাণপুর বালিকা বিদ্যালয়, কল্যাণপুর। সেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১০২ দশমিক ৪ ডেসিবেল।

নির্বাচিত পাঁচটি শিল্প এলাকার মধ্যে ধোলাইপাড়-যাত্রাবাড়ী শব্দদূষণে শীর্ষে অবস্থান করছে। যেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১৩১ দশমিক ৯ ডেসিবেল। সর্বশেষ অর্থাত্ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে ওরিয়ন গ্রুপ, তেজগাঁও। সেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১১১ দশমিক ৭ ডেসিবেল।

গবেষণায় দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা দ্বারা অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে। কোনো একটি সময়ে গৃহীত একটি রিডিং দিয়ে ওই স্থানে অবস্থানকারীদের উপর শব্দদূষণের প্রভাব সঠিকভাবে নিরূপণ করা যায় না। এজন্য এই গবেষণায় কত সময় ধরে কত মাত্রার শব্দ দ্বারা একজন মানুষ কতটুকু প্রভাবিত হয়ে থাকেন তা বের করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ অনুযায়ী, এলাকাভেদে শব্দের মানমাত্রা নীরব এলাকায় দিনে ৫০ ডেসিবেল, রাতে ৪০ ডেসিবেল। আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ ডেসিবেল, রাতে ৪৫ ডেসিবেল। মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ডেসিবেল, রাতে ৫০ ডেসিবেল। বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবেল, রাতে ৬০ ডেসিবেল।

অকুপেশন সেফটি অ্যান্ড হেলথ এডমিনিসট্রেশন (ওএসএইচএ) কর্তৃক প্রদত্ত মানদণ্ড অনুযায়ী, শব্দের নির্দিষ্ট মাত্রায় অনুমোদনীয় স্থিতিকাল হচ্ছে, ১১৫ ডেসিবেল ১৫ মিনিট, ১১০ ডেসিবেল ৩০ মিনিট, ১০৫ ডেসিবেল ১ ঘণ্টা, ১০০ ডেসিবেল ২ ঘণ্টা, ৯৫ ডেসিবেল ৪ ঘণ্টা, ৯০ ডেসিবেল ৮ ঘণ্টা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মানদণ্ড মেনে না চললে শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়াসহ শব্দদূষণের কারণে যে সমস্ত স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বলা হয়েছে তাতে একজন মানুষ সে সমস্ত ক্ষতির শিকার হতে পারেন। গবেষকরা বলেন, ঢাকা শহরের শব্দের মাত্রা পরিমাপবিষয়ক জরিপের ফলাফলে বিধিমালা নির্দেশিত মানমাত্রার চেয়ে নির্ধারিত স্থানসমূহে শব্দের মাত্রা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ লক্ষ্য করা গেছে।

জরিপে শব্দের উৎস হিসেবে মোটরযানের হর্ন বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি এবং মোটরসাইকেল বেশি দায়ী বলে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া নির্মাণকাজ, সামাজিক অনুষ্ঠান, মাইকিং, জেনারেটর, কল-কারখানা ইত্যাদি শব্দদূষণের উৎস। জরিপে ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন ঢাকা শহরে মোটরযানের হর্ন শব্দদূষণের প্রধান কারণ। এছাড়া যথাক্রমে ২৪ শতাংশের মতো কলকারখানা এবং নির্মাণকাজ হতেও শব্দদূষণের সৃষ্টি হচ্ছে। উত্সবকে কেন্দ্র করে পটকা ও আতশবাজিকেও শব্দদূষণের জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করেছেন। উত্তরদাতাদের মধ্যে গত ছয় মাসে প্রায় ৯ শতাংশ কানের অসুস্থতার জন্য ডাক্তারের কাছে গিয়েছেন বলে জানান। তবে প্রায় ৫ শতাংশই উচ্চশব্দে টেলিভিশন দেখেন অথবা মোবাইলে কথা বলে থাকেন বলে উল্লেখ করেন। তাদের মধ্য থেকে প্রায় ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা উচ্চশব্দে টেলিভিশন দেখেন অথবা মোবাইলে কথা বলে থাকেন বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা সম্পর্কে ৪৯ শতাংশ উত্তরদাতাই অবগত নন। এছাড়া ৯৬ শতাংশ উত্তরদাতা বিধিমালা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করেননি বলে জানিয়েছেন। পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে হর্ন গণনার ফলাফল অনুযায়ী শ্যামলী এলাকা হর্ন ব্যবহারের দিক থেকে শীর্ষে। সেখানে ১০ মিনিটে ৫৯৮টি হর্ন বাজানো হয়, যার মধ্যে ১৫৮টি হাইড্রলিক হর্ন এবং ৪৪০টি সাধারণ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নোবিপ্রবিতে ছাত্রী হলের নামাজ ঘরকে গণরুমে রূপান্তরের অভিযোগ

রাজধানীতে শব্দদূষণে শীর্ষে ফার্মগেট !

আপডেট সময় : ০১:০৮:৪৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

শব্দদূষণে রাজধানীতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ফার্মগেট। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ঢাকা শহরের ৭০টি স্থানে জরিপ চালিয়ে শব্দের মাত্রা পরিমাপ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

জরিপে ঢাকা শহরকে আবাসিক এলাকা, মিশ্র এলাকা, বাণিজ্যিক এলাকা, নীরব এলাকা ও শিল্প এলাকা এই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। দিনের বেলা, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী কত মাত্রার শব্দদূষণ হচ্ছে তার ওপর এ গবেষণা চালানো হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার ব্যস্ত স্থান ফার্মগেটে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১৩৫ দশমিক ৬ ডেসিবেল, যা জরিপে শীর্ষে রয়েছে। তুলনামূলক ভালো স্থানে আছে উত্তরা ১৪ নং সেক্টর। সেখানে শব্দের গড়মাত্রা ১০০ দশমিক ৮ ডেসিবেল। তবে গবেষকরা বলেন, উত্তরা ১৪ নং সেক্টরে গড়ে শব্দের যে গড়মাত্রা রয়েছে তা নির্ধারিত মানমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ।

নির্বাচিত ২০টি আবাসিক এলাকার মধ্যে শাজাহানপুর শব্দদূষণে শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১৩৩ দশমিক ৬ ডেসিবেল। এ পর্যায়ে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টর। সেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১০০ দশমিক ৮ ডেসিবেল।

নির্বাচিত ২০টি মিশ্র এলাকার মধ্যে ফার্মগেট শব্দদূষণের জন্য শীর্ষে অবস্থান করছে। যেখানে শব্দের মাত্রা দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১৩৫ দশমিক ৬ ডেসিবেল। তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে সেগুনবাগিচা, সেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১১৪ দশমিক ৬ ডেসিবেল।

নির্বাচিত ১৫টি বাণিজ্যিক এলাকার মধ্যে রামপুরা শব্দদূষণে শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১৩২ দশমিক ৮ ডেসিবেল। সর্বশেষ অর্থাত্ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে বেনারশী পল্লী, মিরপুর। সেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১০৬ দশমিক ৮ ডেসিবেল।

নির্বাচিত ১০টি নীরব এলাকার মধ্যে আইসিসিডিডিআরবি-মহাখালী শব্দদূষণের জন্য শীর্ষে অবস্থান করছে। যেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১২৯ দশমিক ৫ ডেসিবেল। সর্বশেষ অর্থাৎ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে কল্যাণপুর বালিকা বিদ্যালয়, কল্যাণপুর। সেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১০২ দশমিক ৪ ডেসিবেল।

নির্বাচিত পাঁচটি শিল্প এলাকার মধ্যে ধোলাইপাড়-যাত্রাবাড়ী শব্দদূষণে শীর্ষে অবস্থান করছে। যেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১৩১ দশমিক ৯ ডেসিবেল। সর্বশেষ অর্থাত্ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে ওরিয়ন গ্রুপ, তেজগাঁও। সেখানে দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা ১১১ দশমিক ৭ ডেসিবেল।

গবেষণায় দিন, সন্ধ্যা ও রাতব্যাপী শব্দের গড়মাত্রা দ্বারা অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে। কোনো একটি সময়ে গৃহীত একটি রিডিং দিয়ে ওই স্থানে অবস্থানকারীদের উপর শব্দদূষণের প্রভাব সঠিকভাবে নিরূপণ করা যায় না। এজন্য এই গবেষণায় কত সময় ধরে কত মাত্রার শব্দ দ্বারা একজন মানুষ কতটুকু প্রভাবিত হয়ে থাকেন তা বের করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ অনুযায়ী, এলাকাভেদে শব্দের মানমাত্রা নীরব এলাকায় দিনে ৫০ ডেসিবেল, রাতে ৪০ ডেসিবেল। আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ ডেসিবেল, রাতে ৪৫ ডেসিবেল। মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ডেসিবেল, রাতে ৫০ ডেসিবেল। বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবেল, রাতে ৬০ ডেসিবেল।

অকুপেশন সেফটি অ্যান্ড হেলথ এডমিনিসট্রেশন (ওএসএইচএ) কর্তৃক প্রদত্ত মানদণ্ড অনুযায়ী, শব্দের নির্দিষ্ট মাত্রায় অনুমোদনীয় স্থিতিকাল হচ্ছে, ১১৫ ডেসিবেল ১৫ মিনিট, ১১০ ডেসিবেল ৩০ মিনিট, ১০৫ ডেসিবেল ১ ঘণ্টা, ১০০ ডেসিবেল ২ ঘণ্টা, ৯৫ ডেসিবেল ৪ ঘণ্টা, ৯০ ডেসিবেল ৮ ঘণ্টা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মানদণ্ড মেনে না চললে শ্রবণশক্তি হ্রাস পাওয়াসহ শব্দদূষণের কারণে যে সমস্ত স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বলা হয়েছে তাতে একজন মানুষ সে সমস্ত ক্ষতির শিকার হতে পারেন। গবেষকরা বলেন, ঢাকা শহরের শব্দের মাত্রা পরিমাপবিষয়ক জরিপের ফলাফলে বিধিমালা নির্দেশিত মানমাত্রার চেয়ে নির্ধারিত স্থানসমূহে শব্দের মাত্রা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ লক্ষ্য করা গেছে।

জরিপে শব্দের উৎস হিসেবে মোটরযানের হর্ন বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি এবং মোটরসাইকেল বেশি দায়ী বলে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া নির্মাণকাজ, সামাজিক অনুষ্ঠান, মাইকিং, জেনারেটর, কল-কারখানা ইত্যাদি শব্দদূষণের উৎস। জরিপে ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন ঢাকা শহরে মোটরযানের হর্ন শব্দদূষণের প্রধান কারণ। এছাড়া যথাক্রমে ২৪ শতাংশের মতো কলকারখানা এবং নির্মাণকাজ হতেও শব্দদূষণের সৃষ্টি হচ্ছে। উত্সবকে কেন্দ্র করে পটকা ও আতশবাজিকেও শব্দদূষণের জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করেছেন। উত্তরদাতাদের মধ্যে গত ছয় মাসে প্রায় ৯ শতাংশ কানের অসুস্থতার জন্য ডাক্তারের কাছে গিয়েছেন বলে জানান। তবে প্রায় ৫ শতাংশই উচ্চশব্দে টেলিভিশন দেখেন অথবা মোবাইলে কথা বলে থাকেন বলে উল্লেখ করেন। তাদের মধ্য থেকে প্রায় ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা উচ্চশব্দে টেলিভিশন দেখেন অথবা মোবাইলে কথা বলে থাকেন বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা সম্পর্কে ৪৯ শতাংশ উত্তরদাতাই অবগত নন। এছাড়া ৯৬ শতাংশ উত্তরদাতা বিধিমালা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করেননি বলে জানিয়েছেন। পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে হর্ন গণনার ফলাফল অনুযায়ী শ্যামলী এলাকা হর্ন ব্যবহারের দিক থেকে শীর্ষে। সেখানে ১০ মিনিটে ৫৯৮টি হর্ন বাজানো হয়, যার মধ্যে ১৫৮টি হাইড্রলিক হর্ন এবং ৪৪০টি সাধারণ।