সোমবার | ২ মার্চ ২০২৬ | বসন্তকাল
শিরোনাম :
Logo তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল Logo শতাধিক রোজাদারদের মুখে হাসি ফোটালেন বিজয়ীর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান Logo পলাশবাড়ীতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মৃত্যু!! আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা Logo পলাশবাড়ী পৌর শহরে সড়কের গাছ চুরি চিহৃিন্ত চক্র আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী Logo এসিএস ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট চাপ্টার খুলনা ইউনিভার্সিটি’র নেতৃত্বে শাহরিয়ার-কমানিং Logo বেরোবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম নেতৃত্বে রোকনুজ্জামান – মামদুদুর  Logo শ্যামনগরে প্রেসক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন Logo যশোর বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে আসলো আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির মরদেহ Logo জীবননগরে পবিত্র মাহে রমজান মাস উপলক্ষে সুলভ মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন Logo ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের খোঁজ রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

বিদ্যুৎ দুর্ভোগে নেত্রকোনার কৃষক !

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:৪৭ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  • ৮৩৩ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

নেত্রকোনা জেলায় বিদ্যুতের দৈনন্দিন চাহিদা ৫২ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মাত্র ১৮ মেগাওয়াট। এতে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন সেচের ওপর নির্ভরশীল কৃষক।

সরবরাহে টানাটানি থাকায় নেত্রকোনা সদরসহ জেলার ১০ উপজেলায়ই বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারছেনা কৃষকরা। এতে করে জেলায় বিপুল পরিমান ইরি বোরো জমি অনাবাদী ও ফসলহানীর আশংকা দেখা দিয়েছে।
চাহিদার অনুপাতে সরবরাহ অনেক কম থাকায় জেলার গ্রামগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের মারাত্মক লোডশেডিং চলছে। সময়মতো সেচ দিতে না পারায় পানির অভাবে শুকিয়ে ফেঁটে যাচ্ছে অনেক কৃষকের জমি। এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক।

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার দশ উপজেলায় বিদ্যুতের দৈনন্দিন চাহিদা ৫২ মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত। সরবরাহে ঘাটতির কারণে জেলায় এক তৃতীয়াংশ চাহিদাও পূরণ হচ্ছে না। দিন-রাত সবসময়ই লোডশেডিং হচ্ছে।

জেলায় পল্লী বিদ্যুতের আওতায় সাড়ে ৮ হাজার সেচযন্ত্র রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে কোনটিই নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে পারছে না। কোনটি রাতে দু-চার ঘন্টা চললেও দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে। জমিতে পানি সেচ দেওয়ার জন্য কৃষকদের রীতিমতো লাইন ধরতে হচ্ছে। আবার সময়মতো সেচ দিতে না পারায় অনেকের জমি শুকিয়ে চৌচিরও হয়ে যাচ্ছে।

বারহাট্টা উপজেলার চৌচির হয়ে যাওয়া বোরো ফসলের মাঠ
জানা গেছে, জেলার বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ, আটপাড়া, কলমাকান্দা, পূর্বধলা, কেন্দুয়া, দুর্গাপুরসহ সব কটি উপজেলায় চলতি ইরি বোরো মওসুমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। এতে করে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জমিতে পানি সেচ দেওয়া ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে জেলার ইরি বোরো আবাদ।

সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের ৬নং ফিডারের আওতাভূক্ত বাঘরুয়া গ্রামের একাধিক কৃষক জানান, দিনে এক ঘন্টারও কম সময় বিদ্যুৎ থাকে। তাও আবার কখন বিদ্যুৎ দেওয়া হবে তা ঠিক করে জানার কেন উপায় নেই। এতে করে জমিতে পানি সেচ দেওয়া ব্যাহত হচ্ছে।
সদর উপজেলার দুধকুড়া গ্রামের শুক্লয় সেন এবং কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া গ্রামের সোহাগ মিয়া জানান, দিন-রাত সব সময়ই লোডশেডিং হচ্ছে। সারাদিনে দু-তিন ঘন্টাও বিদ্যুতের দেখা মিলছে না। এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুতের স্থানীয় কর্মচারীরা কোন সদুত্তর দিতে পারছেন না। ওদিকে সেচের চাহিদা মেটাতে না পারায় সেচযন্ত্রের মালিকরাও চরম বেকায়দায় আছেন। চরম লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারাও।

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ ও জামালপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে। কিন্তু কেন্দ্র দু’টির জ্বালানি হিসেবে পর্যাপ্ত গ্যাস ও ফার্নেস ওয়েল সরবরাহে ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। আর এ কারণেই চাহিদামত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টির সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

তারকা ও ভক্তদের হৃদয়ের বন্ধন: সুপারস্টার ডি এ তায়েব অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের ইফতার মাহফিল

বিদ্যুৎ দুর্ভোগে নেত্রকোনার কৃষক !

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৪৭ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

নেত্রকোনা জেলায় বিদ্যুতের দৈনন্দিন চাহিদা ৫২ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মাত্র ১৮ মেগাওয়াট। এতে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন সেচের ওপর নির্ভরশীল কৃষক।

সরবরাহে টানাটানি থাকায় নেত্রকোনা সদরসহ জেলার ১০ উপজেলায়ই বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের অভাবে জমিতে সেচ দিতে পারছেনা কৃষকরা। এতে করে জেলায় বিপুল পরিমান ইরি বোরো জমি অনাবাদী ও ফসলহানীর আশংকা দেখা দিয়েছে।
চাহিদার অনুপাতে সরবরাহ অনেক কম থাকায় জেলার গ্রামগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের মারাত্মক লোডশেডিং চলছে। সময়মতো সেচ দিতে না পারায় পানির অভাবে শুকিয়ে ফেঁটে যাচ্ছে অনেক কৃষকের জমি। এই নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক।

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার দশ উপজেলায় বিদ্যুতের দৈনন্দিন চাহিদা ৫২ মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত। সরবরাহে ঘাটতির কারণে জেলায় এক তৃতীয়াংশ চাহিদাও পূরণ হচ্ছে না। দিন-রাত সবসময়ই লোডশেডিং হচ্ছে।

জেলায় পল্লী বিদ্যুতের আওতায় সাড়ে ৮ হাজার সেচযন্ত্র রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে কোনটিই নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে পারছে না। কোনটি রাতে দু-চার ঘন্টা চললেও দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে। জমিতে পানি সেচ দেওয়ার জন্য কৃষকদের রীতিমতো লাইন ধরতে হচ্ছে। আবার সময়মতো সেচ দিতে না পারায় অনেকের জমি শুকিয়ে চৌচিরও হয়ে যাচ্ছে।

বারহাট্টা উপজেলার চৌচির হয়ে যাওয়া বোরো ফসলের মাঠ
জানা গেছে, জেলার বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ, আটপাড়া, কলমাকান্দা, পূর্বধলা, কেন্দুয়া, দুর্গাপুরসহ সব কটি উপজেলায় চলতি ইরি বোরো মওসুমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। এতে করে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জমিতে পানি সেচ দেওয়া ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে জেলার ইরি বোরো আবাদ।

সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের ৬নং ফিডারের আওতাভূক্ত বাঘরুয়া গ্রামের একাধিক কৃষক জানান, দিনে এক ঘন্টারও কম সময় বিদ্যুৎ থাকে। তাও আবার কখন বিদ্যুৎ দেওয়া হবে তা ঠিক করে জানার কেন উপায় নেই। এতে করে জমিতে পানি সেচ দেওয়া ব্যাহত হচ্ছে।
সদর উপজেলার দুধকুড়া গ্রামের শুক্লয় সেন এবং কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া গ্রামের সোহাগ মিয়া জানান, দিন-রাত সব সময়ই লোডশেডিং হচ্ছে। সারাদিনে দু-তিন ঘন্টাও বিদ্যুতের দেখা মিলছে না। এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুতের স্থানীয় কর্মচারীরা কোন সদুত্তর দিতে পারছেন না। ওদিকে সেচের চাহিদা মেটাতে না পারায় সেচযন্ত্রের মালিকরাও চরম বেকায়দায় আছেন। চরম লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারাও।

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ ও জামালপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে। কিন্তু কেন্দ্র দু’টির জ্বালানি হিসেবে পর্যাপ্ত গ্যাস ও ফার্নেস ওয়েল সরবরাহে ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। আর এ কারণেই চাহিদামত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টির সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’