শনিবার | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo জোট-মহাজোটের বাইরে ইসলামের একক শক্তি হাতপাখা -হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান Logo চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহাপুর গ্রামে নবনির্মিত একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। Logo খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভা চলছে, উপস্থিত রয়েছেন তারেক রহমান Logo চাঁদপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক যৌথ সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। Logo শহীদ হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল Logo কচুয়ায় কাদিরখিল সমাজ কল্যাণ যুব সংঘের মাদকবিরোধী ও উন্নয়নমূলক আলোচনা সভা Logo সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার যমুনা টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি Logo পথিকৃৎ শিল্পীদের শিল্পকর্ম সংরক্ষণ করা প্রয়োজন : খুবি উপাচার্য Logo ছন্দে ফিরছে ঝিনাইদহ জেলা, একযুগ পর ঝিনাইদহ পেল সফল জেলা প্রশাসক একের পর এক ঝিনাইদহ শহর দখলমুক্ত করছেন জেলা প্রশাসক, আমজনতার অভিনন্দন Logo ইবিতে বিএনপিপন্থী শিক্ষককে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ শাখা ছাত্রদলের

সুন্দরবনের প্রজননকেন্দ্রে ভালো নেই ৩০৭ হরিণ-কুমির !

  • amzad khan
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:৪০ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০১৭
  • ৮১৪ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজলে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে একমাত্র প্রজনন কেন্দ্রে ভালো নেই ৩০৭টি হরিণ ও কুমির। এই কেন্দ্রের প্রাণিকূলের জন্য প্রতিমাসে বন বিভাগ থেকে সরকারি বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৫১ হাজার টাকা। ২৪ ঘন্টায় একটি প্রাণির জন্য সরকারি বরাদ্দ মাত্র ৫ টাকা ৫৩ পয়সা। এই অপ্রতুল সরকারি বরাদ্দের মধ্যেও রয়েছে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কমিশন বাণিজ্য ও ঠিকাদারের লভ্যাংশ। এমন অবস্থায় চরম খাদ্য সংকটে অপুষ্টিতে ভুগছে এই প্রজনন কেন্দ্রের সব প্রাণি। এমনকি এই কেন্দ্রের প্রাণিকূলের জন্য নেই পর্যাপ্ত ওষুধেরও ব্যবস্থা।

হরিণ ও লবন পানির কুমিরগুলো দেখভালের জন্য লোকবল সংকটের পাশাপাশি নেই কোন প্রশিক্ষিত হরিণ এবং কুমির বিশেষঞ্জ ও প্রাণি চিকিৎসক। এমনই অবস্থায় খুঁড়িয়ে-খুঁড়িয়ে চলছে সরকারিভাবে দেশের এক মাত্র হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রটি। এরপরও করমজলে প্রজনন কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রানান্তর চেষ্ট চালিয়ে যাচ্ছেন এসব হরিণ ও কুমিরগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে। গতকাল সোমবার দিনভর সরেজমিন করমজল প্রজনন কেন্দ্র ঘুরে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

সরকারের পদক্ষেপের অভাবে ইতোমধ্যে বিশ্ব ঐতিহ্য মানগ্রোভ সুন্দরবন থেকে বিলুপ্ত হয়েছে মিঠা পানির কুমির ও ঘড়িয়ালসহ অনেক প্রজাতির বন্যপ্রাণি। এ অবস্থায় সুন্দরবন থেকে কুমিরের বিলুপ্তি ঠেকাতে সুন্দরবন বিভাগের উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনের দুবলারচরে জেলেদের জালে একটি কুমির ধরা পড়ার পর থেকেই প্রজননের মাধ্যমে কুমিরের বংশ বৃদ্ধির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। এরপর ২০০২ সালে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজলে সরকারিভাবে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে একমাত্র হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রেটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। কুমির বাচ্চা দেয় ৩ বছর পর ২০০৫ ও হরিণ ২০০৭ সালে। এ পর্যন্ত কুমির প্রজনন কেন্দ্রে ৩১৮টি বাচ্চার জন্ম হয়েছে। এরমধ্যে ২০০৬ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডরে এই কেন্দ্রের ৭৫টি কুমিরকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। ইতোমধ্যে কুমিরের ৭২টি বড় বাচ্চা সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৫টি কুমির চট্রগ্রামের ডুলাহাজরা সাফারি পার্কে এবং ৩টি পাঠানো হয় ভোলায়। বর্তমানে করমজল হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রে রোমিও নামে একটি পুরুষ, জুলিয়েট ও পিলপিল নামের ২টি মা কুমির ও ২৬৩টি বাচ্চা কুমির রয়েছে। এ কেন্দ্রের উৎপাদিত কুমিরই সুন্দরবনে কুমিরের বিলুপ্তি ঠেকাতে রেখেছে বিশেষ ভূমিকা। এছাড়া এখানে সদ্য প্রসূত দুই শাবকসহ রয়েছে ৪১টি হরিণ।

সরেজমিনে করমজল হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রে গিয়ে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্টার মো. তৌহিদুর রহমানের কাছ থেকে জানা গেছে এসব তথ্য। এই বন কর্মকর্তা আরো জানান, এই কেন্দ্রে মিঠা পানির কুমিরের প্রজননের জন্য সব ধরনের সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে। অবকাঠামোসহ রয়েছে বিশাল-বিশাল মিঠা পানির পুকুর। এখানে এখন এক জোড়া মিঠা পানির কুমির সংগ্রহ করা গেলেই আবারো বিলুপ্ত মিঠা পানির কুমিরের বংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এদিকে বন বিভাগকে দৃষ্টি দিতে হবে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের হরিণ এবং লবন পানির কুমিরকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা ও বংশ বিস্তারে সুন্দরবন বিভাগের তত্ত্বাবধানে করমজল প্রজনন কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তবে এই কেন্দ্রে প্রাণির খাদ্য বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। একইসঙ্গে সরকারিভাবে প্রশিক্ষিত কুমির বিশেষঞ্জ ও বন্যপ্রাণি চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় লোকবল আজও নিয়োগ দেয়া হয়নি। নেই পর্যাপ্ত ওষুধ ও খাবারের সরকারি বরাদ্দ। এসব সংকট দূর হলে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণে এই কেন্দ্রটি আরও বেশি ভূমিকা রাখবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

জোট-মহাজোটের বাইরে ইসলামের একক শক্তি হাতপাখা -হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান

সুন্দরবনের প্রজননকেন্দ্রে ভালো নেই ৩০৭ হরিণ-কুমির !

আপডেট সময় : ১১:৫৯:৪০ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০১৭

নিউজ ডেস্ক:

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজলে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে একমাত্র প্রজনন কেন্দ্রে ভালো নেই ৩০৭টি হরিণ ও কুমির। এই কেন্দ্রের প্রাণিকূলের জন্য প্রতিমাসে বন বিভাগ থেকে সরকারি বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ৫১ হাজার টাকা। ২৪ ঘন্টায় একটি প্রাণির জন্য সরকারি বরাদ্দ মাত্র ৫ টাকা ৫৩ পয়সা। এই অপ্রতুল সরকারি বরাদ্দের মধ্যেও রয়েছে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কমিশন বাণিজ্য ও ঠিকাদারের লভ্যাংশ। এমন অবস্থায় চরম খাদ্য সংকটে অপুষ্টিতে ভুগছে এই প্রজনন কেন্দ্রের সব প্রাণি। এমনকি এই কেন্দ্রের প্রাণিকূলের জন্য নেই পর্যাপ্ত ওষুধেরও ব্যবস্থা।

হরিণ ও লবন পানির কুমিরগুলো দেখভালের জন্য লোকবল সংকটের পাশাপাশি নেই কোন প্রশিক্ষিত হরিণ এবং কুমির বিশেষঞ্জ ও প্রাণি চিকিৎসক। এমনই অবস্থায় খুঁড়িয়ে-খুঁড়িয়ে চলছে সরকারিভাবে দেশের এক মাত্র হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রটি। এরপরও করমজলে প্রজনন কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রানান্তর চেষ্ট চালিয়ে যাচ্ছেন এসব হরিণ ও কুমিরগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে। গতকাল সোমবার দিনভর সরেজমিন করমজল প্রজনন কেন্দ্র ঘুরে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

সরকারের পদক্ষেপের অভাবে ইতোমধ্যে বিশ্ব ঐতিহ্য মানগ্রোভ সুন্দরবন থেকে বিলুপ্ত হয়েছে মিঠা পানির কুমির ও ঘড়িয়ালসহ অনেক প্রজাতির বন্যপ্রাণি। এ অবস্থায় সুন্দরবন থেকে কুমিরের বিলুপ্তি ঠেকাতে সুন্দরবন বিভাগের উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনের দুবলারচরে জেলেদের জালে একটি কুমির ধরা পড়ার পর থেকেই প্রজননের মাধ্যমে কুমিরের বংশ বৃদ্ধির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। এরপর ২০০২ সালে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজলে সরকারিভাবে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে একমাত্র হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রেটি আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। কুমির বাচ্চা দেয় ৩ বছর পর ২০০৫ ও হরিণ ২০০৭ সালে। এ পর্যন্ত কুমির প্রজনন কেন্দ্রে ৩১৮টি বাচ্চার জন্ম হয়েছে। এরমধ্যে ২০০৬ সালের ১৫ নভেম্বর সুপার সাইক্লোন সিডরে এই কেন্দ্রের ৭৫টি কুমিরকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। ইতোমধ্যে কুমিরের ৭২টি বড় বাচ্চা সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৫টি কুমির চট্রগ্রামের ডুলাহাজরা সাফারি পার্কে এবং ৩টি পাঠানো হয় ভোলায়। বর্তমানে করমজল হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রে রোমিও নামে একটি পুরুষ, জুলিয়েট ও পিলপিল নামের ২টি মা কুমির ও ২৬৩টি বাচ্চা কুমির রয়েছে। এ কেন্দ্রের উৎপাদিত কুমিরই সুন্দরবনে কুমিরের বিলুপ্তি ঠেকাতে রেখেছে বিশেষ ভূমিকা। এছাড়া এখানে সদ্য প্রসূত দুই শাবকসহ রয়েছে ৪১টি হরিণ।

সরেজমিনে করমজল হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রে গিয়ে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্টার মো. তৌহিদুর রহমানের কাছ থেকে জানা গেছে এসব তথ্য। এই বন কর্মকর্তা আরো জানান, এই কেন্দ্রে মিঠা পানির কুমিরের প্রজননের জন্য সব ধরনের সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে। অবকাঠামোসহ রয়েছে বিশাল-বিশাল মিঠা পানির পুকুর। এখানে এখন এক জোড়া মিঠা পানির কুমির সংগ্রহ করা গেলেই আবারো বিলুপ্ত মিঠা পানির কুমিরের বংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এদিকে বন বিভাগকে দৃষ্টি দিতে হবে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের হরিণ এবং লবন পানির কুমিরকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা ও বংশ বিস্তারে সুন্দরবন বিভাগের তত্ত্বাবধানে করমজল প্রজনন কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তবে এই কেন্দ্রে প্রাণির খাদ্য বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। একইসঙ্গে সরকারিভাবে প্রশিক্ষিত কুমির বিশেষঞ্জ ও বন্যপ্রাণি চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় লোকবল আজও নিয়োগ দেয়া হয়নি। নেই পর্যাপ্ত ওষুধ ও খাবারের সরকারি বরাদ্দ। এসব সংকট দূর হলে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণে এই কেন্দ্রটি আরও বেশি ভূমিকা রাখবে।