শিরোনাম :
Logo মৃত্যুদণ্ড বজায় রেখে গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন Logo সিরাজদিখানে মরহুম হাজী জয়নাল আবেদীন মাষ্টার স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের দুটি ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত Logo ঢাকায় হামলার প্রতিবাদে খুবিতে প্রকৌশল অধিকার দাবিতে মানববন্ধন Logo চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন প্রবাসফেরত ইসমাইল হোসেন Logo চিত্রা-নড়াইল জেলা ছাত্রকল্যাণ ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে আরমান ও বোরহান Logo চাঁদপুর সদরের জনবান্ধব ইউএনও সাখাওয়াত জামিল সৈকতকে লক্ষ্মীপুরের এডিসি পদে বদলী Logo বেরোবিতে ভর্তি পরীক্ষার আসন বরাদ্দে অনিময়ের অভিযোগ ; প্রশাসন বলছে শিক্ষার্থীদের বুঝার ভুল Logo প্রকাশিত হয়েছে কবি ও কথাসাহিত্যিক নুরুন্নাহার মুন্নির সাহিত্য পত্রিকা ‘আখ্যান’ Logo পলাশবাড়ী পৌর এলাকায় জমি জবর দখলের অভিযোগ Logo প্রবাসফেরত ইসমাইলের পাশে দাঁড়ালেন এনসিপি নেতা ডা. আরিফুল ইসলাম

শৈলকুপার কৃষকরা রাইস ট্রান্স প্লান্টার ব্যবহারে ঝুঁকছে

  • Nil Kontho
  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:২৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৮ মে ২০১৭
  • ৭৮৯ বার পড়া হয়েছে

জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ  তৃণমুল পর্যায়ের কৃষিতে দিন দিন বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার। যে কারণে অল্প খরচে স্বল্প সময়ে অধিক ফলন পাচ্ছে কৃষক। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কৃষকেরা ঝুঁকছে রাইস ট্রান্স প্লান্টার ব্যবহারে। তারা বাড়ির আঙ্গিনায় করছে ধানের বীজতলা তৈরীর কাজ। যার মাধ্যমে সময় ও খরচ দুই’ই কমেছে। কৃষি বিভাগ বলছে প্রযুক্তি ব্যবহারে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে।

শৈলকুপা উপজেলার গোসাইডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মিটুল জানান, কয়েক বছর আগেও তার ৫ বিঘা জমিতে ধানের বীজতলা দেওয়া ও ধান লাগাতে খরচ হতো কয়েক হাজার টাকা। এছাড়া নিজের দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম তো রয়েছেই। গত ২ বছর হলো কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় রাইস ট্রান্স প্লান্টার মেশিনের মাধ্যমে ধানের আবাদ শুরু করেন তিনি। নিজ বাড়ির উঠানে ৫ বিঘা জমির ধানের বীজতলা তৈরী করছেন। পরিচর্যা করছেন বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা। এতে নিজের সময়ের সাশ্রয়ের সাথে সাথে খরচও হচ্ছে কম। সুবিধা পাওয়ায় তার দেখা দেখি ওই গ্রামের কয়েকজন কৃষক শুরু করেছে এই পদ্ধতিতে ধানের আবাদ।

এছাড়া এই পদ্ধতিতে ধান লাগানোর ফলে ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই খুশি ওই এলাকার কৃষক। কৃষি বিভাগের সহযোগিতার মাধ্যমে এই এলাকায় দিন দিন বাড়ছে ধানের ফলন। সেজন্য কৃষকদের সকল প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান সারুটিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মসলেহ উদ্দিন তুহিন। শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার কুন্ডু জানান, শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ব্লকে বর্তমানে রাইস ট্রান্স প্লান্টার মেশিনের মাধ্যমে ধানের আবাদ করা হচ্ছে। কৃষক নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় বা মাঠে ট্রে ও পলিথিন পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরী করছে। ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে চারা লাগানোর উপযোগি হয়।

এক বিঘা জমিতে পুর্বে ৪ জন শ্রমিক লাগতো। কিন্তু বর্তমানে রাইস ট্রান্স প্লান্টার মেশিনের ব্যবহারের মাধ্যমে ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যেই ধান লাগাতে পারে মাত্র একজন শ্রমিক। যেখানে এক একর জমিতে চারা রোপণ করতে খরচ হয় ৪ হাজার টাকা, এ মেশিন ব্যবহারে প্রতি একরে প্রায় ২ হাজার ৫শ’ টাকা সাশ্রয় হবে। তাই পরিবেশ বান্ধব এ মেশিন ব্যবহারে কৃষকদের পরিশ্রম কম হবে এবং লাভ বেশি হবে। এ মেশিন সরকারের কাছ থেকে কৃষকরা ভর্তুকি মূল্যেও ক্রয় করতে পারবেন। ভর্তুকির মাধ্যমে রাইস ট্রান্স প্লান্টার মেশিন ব্যবহারে তৃণমুল পর্যায়ের কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে ধান চাষে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ এমনটিই মনে করেন সচেতন মহল।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

মৃত্যুদণ্ড বজায় রেখে গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন

শৈলকুপার কৃষকরা রাইস ট্রান্স প্লান্টার ব্যবহারে ঝুঁকছে

আপডেট সময় : ১০:৪৮:২৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ২৮ মে ২০১৭

জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ  তৃণমুল পর্যায়ের কৃষিতে দিন দিন বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার। যে কারণে অল্প খরচে স্বল্প সময়ে অধিক ফলন পাচ্ছে কৃষক। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কৃষকেরা ঝুঁকছে রাইস ট্রান্স প্লান্টার ব্যবহারে। তারা বাড়ির আঙ্গিনায় করছে ধানের বীজতলা তৈরীর কাজ। যার মাধ্যমে সময় ও খরচ দুই’ই কমেছে। কৃষি বিভাগ বলছে প্রযুক্তি ব্যবহারে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে।

শৈলকুপা উপজেলার গোসাইডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মিটুল জানান, কয়েক বছর আগেও তার ৫ বিঘা জমিতে ধানের বীজতলা দেওয়া ও ধান লাগাতে খরচ হতো কয়েক হাজার টাকা। এছাড়া নিজের দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম তো রয়েছেই। গত ২ বছর হলো কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় রাইস ট্রান্স প্লান্টার মেশিনের মাধ্যমে ধানের আবাদ শুরু করেন তিনি। নিজ বাড়ির উঠানে ৫ বিঘা জমির ধানের বীজতলা তৈরী করছেন। পরিচর্যা করছেন বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা। এতে নিজের সময়ের সাশ্রয়ের সাথে সাথে খরচও হচ্ছে কম। সুবিধা পাওয়ায় তার দেখা দেখি ওই গ্রামের কয়েকজন কৃষক শুরু করেছে এই পদ্ধতিতে ধানের আবাদ।

এছাড়া এই পদ্ধতিতে ধান লাগানোর ফলে ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই খুশি ওই এলাকার কৃষক। কৃষি বিভাগের সহযোগিতার মাধ্যমে এই এলাকায় দিন দিন বাড়ছে ধানের ফলন। সেজন্য কৃষকদের সকল প্রকার সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান সারুটিয়া ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মসলেহ উদ্দিন তুহিন। শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার কুন্ডু জানান, শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ব্লকে বর্তমানে রাইস ট্রান্স প্লান্টার মেশিনের মাধ্যমে ধানের আবাদ করা হচ্ছে। কৃষক নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় বা মাঠে ট্রে ও পলিথিন পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরী করছে। ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে চারা লাগানোর উপযোগি হয়।

এক বিঘা জমিতে পুর্বে ৪ জন শ্রমিক লাগতো। কিন্তু বর্তমানে রাইস ট্রান্স প্লান্টার মেশিনের ব্যবহারের মাধ্যমে ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যেই ধান লাগাতে পারে মাত্র একজন শ্রমিক। যেখানে এক একর জমিতে চারা রোপণ করতে খরচ হয় ৪ হাজার টাকা, এ মেশিন ব্যবহারে প্রতি একরে প্রায় ২ হাজার ৫শ’ টাকা সাশ্রয় হবে। তাই পরিবেশ বান্ধব এ মেশিন ব্যবহারে কৃষকদের পরিশ্রম কম হবে এবং লাভ বেশি হবে। এ মেশিন সরকারের কাছ থেকে কৃষকরা ভর্তুকি মূল্যেও ক্রয় করতে পারবেন। ভর্তুকির মাধ্যমে রাইস ট্রান্স প্লান্টার মেশিন ব্যবহারে তৃণমুল পর্যায়ের কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে ধান চাষে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ এমনটিই মনে করেন সচেতন মহল।