গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে সংঘটিত সহিংসতা, নৃশংসতা ও কিশোরদের সংঘর্ষ—সব মিলিয়ে জনমনে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি ক্রমেই বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, কোথায় যাচ্ছে আমাদের সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, আর কতটা প্রস্তুত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী?
২৫ মার্চ পলাশবাড়ী থানায় হামলার ঘটনা নিঃসন্দেহে সবচেয়ে উদ্বেগজনক। থানার মতো একটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধ হামলা শুধু আইন-শৃঙ্খলার অবনতিই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জেরও ইঙ্গিত দেয়। ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের ওপর এ ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর পেছনে পরিকল্পনা, সাহস এবং সংগঠিত শক্তির উপস্থিতি স্পষ্ট।
এরপর ২৮ মার্চ উপজেলার পার আমলাগাছীতে উদ্ধার হওয়া এক নারীর গলা কাটা মরদেহ এবং তার পাশেই কর্তিত পুরুষাঙ্গের সন্ধান—ঘটনাটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং চরম নৃশংসতা ও বিকৃত মানসিকতার প্রতিফলন। এ ধরনের ঘটনা সমাজে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়, একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
একই দিনে পৌর এলাকার এস.এম হাইস্কুলের সামনে দুই কিশোর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে একাধিক আহত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। কিশোরদের এই সহিংসতায় জড়িয়ে পড়া আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোর দুর্বলতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। নিয়ন্ত্রণহীনতা, মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং তদারকির অভাব এখানে স্পষ্ট।
এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত করছে, পলাশবাড়ীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেবল দুর্বলই নয়, বরং দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ। পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার, অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং বিচার প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা জোরদার করাও অপরিহার্য।
সবশেষে, প্রশাসনের কাছে জনগণের প্রত্যাশা একটাই নিরাপত্তা। পলাশবাড়ীর মানুষ এখন সেই নিরাপত্তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়। আইন-শৃঙ্খলার এই অবনতির লাগাম টেনে ধরা না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, এ আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।



















































