প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। যেখানে তিনি তেহরানের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন। এই চুক্তির লক্ষ্য হবে ইরানের দ্রুত অগ্রসরমান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা।
তবে চুক্তির বিষয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে এখন কোনও চিঠি পায়নি ইরান। শুক্রবার (৭ মার্চ) ইরানের দূতাবাসের এক মুখপাত্র বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত এমন কোনও চিঠি পাইনি। শনিবার (৮ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যম এপি।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ফক্স বিজনেস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
শুক্রবার ফক্স বিজনেস নিউজে সম্প্রচারিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি আংশিক সাক্ষাৎকার থেকে তার ওই মন্তব্যকে তাৎক্ষণিকভাবে তুলে ধরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। যদিও এখনও ট্রাম্পের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি খামেনির কার্যালয়।
পারমাণবিক আলোচনাসংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের চিঠি পেলে ইরানের ৮৫ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কী প্রতিক্রিয়া দেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় খামেনিকে পাঠানো চিঠিগুলো গোপন রাখা হয়েছিল, যা ২০১৫ সালে বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তির ভিত্তি তৈরি করেছিল।
শুক্রবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প সরাসরি চিঠির কথা উল্লেখ করেননি। তবে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘আমাদের ইরানের সঙ্গে খুব দ্রুত ভালো কিছু ঘটতে যাচ্ছে।
ট্রাম্প বলেছেন, ‘আশা করি, আমরা একটি শান্তিচুক্তি করতে পারবো।
ট্রাম্পের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা কখনওই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না। তেহরান প্রায় অস্ত্র-মানের পর্যায়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা সাধারণত কেবল পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোই করে। ফলে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বেড়েছে।
তবে খামেনিও গত আগস্টে এক ভাষণে বলেছিলেন, শত্রুর সঙ্গে আলোচনায় ‘কোনও ক্ষতি নেই।’
জাতিসংঘ ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি নিশ্চিত করার জন্য আমরা সব ধরনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাই।’