বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেক-এর শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণদানকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হলে আমরা আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অনুযায়ী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করব।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘সাধারণ জনগণ একটি নৃশংস স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু এই সংগ্রামে প্রায় ২ হাজার নিরীহ মানুষ, যাদের অনেকেই তরুণ এবং ১১৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এই গণজাগরণে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারা আমাকে অনুরোধ করেছে এই সংকটময় মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে এবং আমি জনগণের স্বার্থে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ অতীতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে এবং তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছে। কিন্তু গত পনেরো বছরে জনগণ বিশেষ করে তরুণরা অধিকার ও স্বাধীনতা সংকুচিত হতে দেখেছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতিমধ্যে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে, যেমন—বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন, জনপ্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন ও সংবিধান—সংস্কারের লক্ষ্যে কমিশন গঠন করেছে বলে জানান ড. ইউনূস। এসব কমিশনের সুপারিশ ইতোমধ্যে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ গঠন করেছি, যার নেতৃত্ব আমি নিজেই দিচ্ছি এবং এতে ছয়টি কমিশনের প্রধানরাও অন্তর্ভুক্ত। সুপারিশগুলো পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে এই কমিশনের কার্যক্রম চলছে।’
নতুনভাবে গঠিত চারটি কমিশন গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য, শ্রম ও নারী অধিকার বিষয়ক নীতিগত সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি করছে বলেও জানান তিনি।প্রধান উপদেষ্টা আশ্বাস দেন, ‘আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে অবিচলভাবে কাজ করে যাচ্ছি, সে নারী হোক, ধর্মীয় কিংবা জাতিগত সংখ্যালঘু।’
সম্মেলনে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও বিমসটেক সম্মেলনের চেয়ারপার্সন পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা, বিমসটেক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মনি পান্ডে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র- বাসস