বৃহস্পতিবার | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | শীতকাল
শিরোনাম :
Logo বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উন্নতি হয়েছে: বিশ্বব্যাংক Logo আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন চাঁদপুর-২ আসনে লেবার পার্টির নাসিমা নাজনীন সরকার Logo আমরা বিএনপি পরিবারের উদ্যোগে সাতক্ষীরার ৯নং ওয়ার্ডে তারেক রহমানের ৮ দফা রাষ্ট্র বিনির্মাণ কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ Logo আবেদনের শর্ত পূরণ ছাড়াই খুবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি Logo দায়মুক্তি আইনের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জে প্রতিবাদ, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ক্যাবের Logo চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহে প্রতারক চক্রের বেপরোয়া তান্ডব, চাকরীর প্রলোভনে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর বিপাকে ভুক্তভোগী পরিবার, থানায় অভিযোগ দায়ের Logo সাতক্ষীরায় ইয়াবা, অবৈধ অর্থ ও অস্ত্রসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইয়াসিন আরাফাতসহ  গ্রেফতার- ৩ Logo নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫ নেতা কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার Logo ইরান বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের Logo কোর্স ফি বৃদ্ধি ও ছাত্র প্রতিনিধি ইস্যুতে খুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

‘দেশে প্রায় দুই কোটি লোক কিডনি রোগে আক্রান্ত’

  • নীলকন্ঠ ডেস্ক: নীলকন্ঠ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৪:০২ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৪
  • ৮০১ বার পড়া হয়েছে

কিডনি রোগের নানা ধরন ও ধাপ রয়েছে। এসব রোগে ভুগছে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ। এর চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল, যা বহন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই ২৫ ভাগ রোগীর। কিডনি বিকল প্রচুর রোগীর হেমোডায়ালাইসিস ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন হলেও এই চিকিৎসা নিতে পারছে না প্রায় ৭০ ভাগ রোগী। ভবিষ্যতে এ রোগে মহামারীও হতে পারে। তাই কিডনি রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া সহ চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে আনতে আশু উদ্যোগ নিতে হবে।

আজ মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও বৈজ্ঞানিক অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রেনাল  সোসিয়েশনের (বিআরএ) এডহক কমিটির আহবায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রয়্যাল লন্ডন হাসপাতাল, যুক্তরাজ্যের নেফ্রোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ মাগদী ইয়াকুব।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কিডনি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম মহিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন রুবেল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিনি ফেরদৌস রশিদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ কিডনি রোগ ও প্রতিরোধ, ডায়ালাইসিস, কিডনি সংযোজন, সিএপিডি ইত্যাদি নিয়ে আলোকপাত করেন।

প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সরকারি অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, কিডনি রোগীদের ৮০ ভাগের বেশি যখন কিডনি কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে, তখন কিডনি রোগের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। তত দিনে বেশ বিলম্ব হয়ে যায়, চিকিৎসার ব্যয়ও বাড়ে। দুঃখজনক যে, বেশির ভাগ রোগীকে বাঁচানোও সম্ভব হয়ে ওঠে না।

তিনি  আরও বলেন, কিডনি রোগের প্রধান কারণ হলো ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও গ্লোমেরুনেফ্রাইটিস। তাই প্রাথমিকভাবে কিডনি রোগ শনাক্ত করার জন্য স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি-বেসরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে এই স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করে রোগীদের রোগ শনাক্ত করার প্রচেষ্টা করা উচিত। এতে অনেক রোগীকে কম খরচে চিকিৎসা দিয়ে বাঁচানো সম্ভব হবে।

কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ বলেন, প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার লোক কিডনি রোগে মারা যাচ্ছে।

খোঁজ নিলে দেখা যায়, তাদের বেশির ভাগই চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে পারেনি। কিডনি ডায়ালাইসিসের রোগীদের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থের অভাবে পূর্ণ চিকিৎসা নিতে ব্যর্থ হয়। এই ব্যয় কমাতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এজন্য চিকিৎসক, নার্স ও নেফ্রোলজিস্ট চিকিৎসকদের আরও সচেতনভাবে চিকিৎসা দিতে হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উন্নতি হয়েছে: বিশ্বব্যাংক

‘দেশে প্রায় দুই কোটি লোক কিডনি রোগে আক্রান্ত’

আপডেট সময় : ০৭:৪৪:০২ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৪

কিডনি রোগের নানা ধরন ও ধাপ রয়েছে। এসব রোগে ভুগছে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ। এর চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল, যা বহন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই ২৫ ভাগ রোগীর। কিডনি বিকল প্রচুর রোগীর হেমোডায়ালাইসিস ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট প্রয়োজন হলেও এই চিকিৎসা নিতে পারছে না প্রায় ৭০ ভাগ রোগী। ভবিষ্যতে এ রোগে মহামারীও হতে পারে। তাই কিডনি রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া সহ চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে আনতে আশু উদ্যোগ নিতে হবে।

আজ মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও বৈজ্ঞানিক অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রেনাল  সোসিয়েশনের (বিআরএ) এডহক কমিটির আহবায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রয়্যাল লন্ডন হাসপাতাল, যুক্তরাজ্যের নেফ্রোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ মাগদী ইয়াকুব।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কিডনি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম মহিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন রুবেল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিনি ফেরদৌস রশিদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ কিডনি রোগ ও প্রতিরোধ, ডায়ালাইসিস, কিডনি সংযোজন, সিএপিডি ইত্যাদি নিয়ে আলোকপাত করেন।

প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সরকারি অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, কিডনি রোগীদের ৮০ ভাগের বেশি যখন কিডনি কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে, তখন কিডনি রোগের উপসর্গগুলো দেখা দেয়। তত দিনে বেশ বিলম্ব হয়ে যায়, চিকিৎসার ব্যয়ও বাড়ে। দুঃখজনক যে, বেশির ভাগ রোগীকে বাঁচানোও সম্ভব হয়ে ওঠে না।

তিনি  আরও বলেন, কিডনি রোগের প্রধান কারণ হলো ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও গ্লোমেরুনেফ্রাইটিস। তাই প্রাথমিকভাবে কিডনি রোগ শনাক্ত করার জন্য স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি-বেসরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে এই স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করে রোগীদের রোগ শনাক্ত করার প্রচেষ্টা করা উচিত। এতে অনেক রোগীকে কম খরচে চিকিৎসা দিয়ে বাঁচানো সম্ভব হবে।

কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ বলেন, প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার লোক কিডনি রোগে মারা যাচ্ছে।

খোঁজ নিলে দেখা যায়, তাদের বেশির ভাগই চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে পারেনি। কিডনি ডায়ালাইসিসের রোগীদের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থের অভাবে পূর্ণ চিকিৎসা নিতে ব্যর্থ হয়। এই ব্যয় কমাতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এজন্য চিকিৎসক, নার্স ও নেফ্রোলজিস্ট চিকিৎসকদের আরও সচেতনভাবে চিকিৎসা দিতে হবে।